Monday, October 16, 2017
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-আলোকে হারুন হাবীবের ৩টি গ্রন্থ নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : মুক্তিযোদ্ধা-লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীবের সদ্য প্রকাশিত ৩টি গ্রন্থের ওপর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক মনোজ্ঞ আলোচনায় অংশগ্রহণকারিরা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জাগ্রত রাখার স্বার্থে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান জানানো হয়। একইসাথে, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিকতাসম্পন্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মত যে কোন অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সকল প্রবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহবান জানানো হয়। এজন্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লেখনী অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য অবহিত রাখার জন্যেও একযোগে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।
‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয় জ্যাকসন হাইটসে মেজবান পার্টি সেন্টারে। ‘ইতিহাসের আলোকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ’, ‘গণমাধ্যম ১৯৭১ বিশ্ব সংবাদপত্রে মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘পাঁচ পুরুষ’-এই গ্রন্থ ৩টি নিয়ে মূল আলোচনা করেন যথাক্রমে প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস এবং প্রাবন্ধিক ফেরদৌস সাজেদীন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এ আলোচনা-অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান। আলোচনার পর পর্যবেক্ষণমূলক বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাঈদ-উর রব, প্রবাসের শক্তিমান কবি ও লেখক ফকির ইলিয়ািস এবং সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্র সেক্টও কমান্ডার্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া।
সকলেই হারুন হাবীবকে অভিনন্দন জানান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া অনেক ঘটনার যথাযথ উপস্থাপনের পাশাপাশি রনাঙ্গনের অনেক অজানা তথ্য সামনে নিয়ে আসার জন্যে। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়েও বিভিন্ন রনাঙ্গনের খবরাখবর ব্যাপক জনগোষ্ঠির মধ্যে প্রচারের মাধ্যমে সেই যুদ্ধের প্রতি জনমত সংহত করতে যে ৭৫টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে, সে সবের আলোকে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘গণমাধ্যম ১৯৭১ বিশ্ব সংবাদপত্রে মুক্তিযুদ্ধ’কে ঐতিহাসিক একটি দলিল হিসেবে মন্তব্য করেন প্রায় সকলেই। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে রাশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ার সংবাদকেও সংকলিত করার পাশ াপাশি নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদগুলোকে অনুবাদ করে বাংলায় প্রকাশের তাগিদ দেন।
সকলের আলোচনার পর হারুন হাবীব বলেন, ‘একজনের পক্ষে সবকিছু পরিপূর্ণভাবে করা অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। আমি যা সম্পন্ন করতে পারিনি, তা অন্যেরা করলে এই অসম্পূর্ণতা (যারা মনে করেন) দূর হয়ে যেতে পারবে।’
শুরুতে হারুন হাবীবের জীবনী উপস্থাপনকালে সঞ্চালক উল্লেখ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ঘরে ফিরে যে কতিপয় তরুণ সরাসরি সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন হারুন হাবীব তাঁদের একজন। প্রত্যয়ী এই লেখক একাত্তরের রণাঙ্গনকে সবিশেষ যতেœ তুলে ধরেছেন তাঁর কলমে চিত্রিত করেছেন নিজস্ব শৈলীতে। তাঁর ছোটগল্প,উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক ও স্মৃতিকথার প্রধানতম বৈশিষ্ট, তিনি নিরবিচ্ছিন্নধারায় তুলে ধরেন বাঙালির মহত্ত্বতম ইতিহাস ও ঐতিহ্য ; মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তিকাল।’
‘গেরিলা যোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন-সাংবাদিক হারুন হাবীব ছুটে বেড়িয়েছেন ট্রেঞ্চ থেকে ট্রেঞ্চে, ক্যাম্প থেকে ক্যাম্পে, এক রণাঙ্গন থেকে আরেক রণাঙ্গনে। তাঁর ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক ও যুদ্ধস্মৃতি বাঙালির অমলীন ইতিহাসের সেই অসামান্য ছবি- যা ১৯৭১ এবং পরবর্তি বাংলাদেশকে তুলে ধরে, প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।’
মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্যে হারুন হাবীব বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। লাভ করেন আরও অন্যান্য স্বীকৃতি। এ অনুষ্ঠানেও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ৬৭ বছর বয়েসী হারুন হাবীবকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় একটি উজ্জল নাম হিসেবে অভিহিত করেন প্রেসক্লাবের সর্বস্তরের সদস্য-কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, তিনি জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁর লেখালেখি আজও বাংলাদেশকে তুলে ধরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা জাতীয় সংগঠন ‘সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম – মুক্তিযুদ্ধ ’৭১’ এর দীর্ঘকালীন মহাসচিব তিনি।
এ অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর ই ওয়াজিদ শিবলী। সার্বিক সহায়তা করেছে ‘দেশ ও প্রবাসে আর্ত-মানবতার সেবায়’ নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন’।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন একাত্তরের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সেক্রেটারি রেজাউল বারী, লেখক-কলামিস্ট শিতাংশু গুহ, সুব্রত বিশ্বাস, রানু ফেরদৌস, গাজিউর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র ল’ সোসাইটির সভানেত্রী মোর্শেদা জামান, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি এমাদ চৌধুরী, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাফরউল্লাহ, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আকবর হায়দার কিরণ এবং মিনহাজ সাম্মু, লেখিকা শামসাদ হুসাম এবং পপি চৌধুরী, কবি তুলি ইলিয়াস, বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান এবং বন্ধনের সম্পাদক সঞ্জীবন কুমার, গণজাগরণ মঞ্চের গোপাল সান্যাল প্রমুখ।
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য নিহার সিদ্দিকী, কানু দত্ত, আশরাফুল আলম বুলবুল এবং আজিমউদ্দিন অভি, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।

 

1 Comment

একজন মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা July 22, 2017 at 6:26 pm

মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করার জন্যই বাংলাদেশের রনাংগনকে ভাগ করা হয়েছিল ১১টি সেকটরে। এবং সেই যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাগনই। এই অনুষ্টান যদি মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরার জন্যই আয়োজন করা হয়ে থাকে তবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দাওয়াত করা হয়নি কেন? মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে রথীন্দ্রনাথ রায়কে দাওয়াত করা হয়েছিল কি? তাহলে প্রশ্ন, “কোথায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়েছিলেন এবং তাও পয়সার বিনিময়ে, মাসিক ভাতা গ্রহন করতেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা কি কোনো ভাতার বিনিময়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন? অবশ্যই না। সব ভুয়াদেরকে নিয়ে কেন যে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা হচ্ছে বুঝতে কষ্ট হয়। তবে ধারনা এরা সেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দ্বংস করার জন্যই ততপর।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।