Monday, October 16, 2017
২৫ জুলাই কানেকটিকাটে প্রবাসী কামাল হত্যাকারীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

বাংলা প্রেস, হার্টফোর্ড: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে স্ট্যামফোর্ডে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি এক ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ কামাল হত্যা মামলার রায় আগামী ২৫ জুলাই স্ট্যামফোর্ড সুপারিয়র আদালতে ঘোষনা করা হবে। ঐদিন ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঐদিন আদালতের সামনে বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা্র আয়োজনে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
২০১৪ সালের ২৭ আগষ্ট বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ কামাল(৪৭) কে হত্যার পর রাস্তার পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ডোলিট রোডের পাশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রথমে কামালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ট্যামফোর্ড পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কামালের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত কামালের দেহে ১৫টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশ ধারনা করেছিল পুরো ঘটনাটি ঘটেছে ট্যাক্সির বাইরে। ছুরিকাঘাতের আগে ঘাতকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সময় ধস্তাধস্তি হয়েছে। নিজের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নিহত কামাল। ঘাতকরা তাঁর টাক্সির যাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ ধারণা করেন। নিহত কামালের স্ত্রী বুধবার সকাল ৭টার দিকে রাতে তার স্বামী ঘরে না ফেরার বিষয়টি স্ট্যামফোর্ড পুলিশকে জানান। ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ খুনি শোটা মেকোসভিলি (২৯) কে গ্রেপ্তার করেন। ওইদিন তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খুনের সাথে জড়িত থাকার কিছু আলামত উদ্ধার করে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ডলার উদ্ধারের পর কামাল হত্যার সাথে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হন। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শোটা মেকোসভিলি আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলারের জামিন নামা ধার্য করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দু’দিন পর শুক্রবার আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বিজ্ঞ বিচারক খুনি শোটা মেকোসভিলির জামিন নামায় আরও ২ লক্ষ ডলার বাড়িয়ে দেন। উক্ত সমাবেশে থেকে কামাল হত্যার সাথে জড়িত গ্রেপ্তারকৃত শোটা মেকোসভিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানান হয়। বিক্ষোভকালে সবার হাতে ছিল নানা লেখাযুক্ত প্লাকার্ড ও ফেস্টুন।
নিহত কামাল ১৯৯২ সালে ডিভি লটারি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড শহরে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ও ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তাঁর দেশের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার চিপাতলী বখতিয়ারপাড়ায় বলে জানা গেছে।
গত ১৮ জুলাই স্ট্যামফোর্ড সুপারিয়র আদালতে উক্ত রায় প্রদানের দিন ধার্য্য ছিল, কিন্তু আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পরিবর্তন করে ২৫ জুলাই নির্ধারন করা হয়েছে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।