Tuesday, September 26, 2017
জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট’-এ সরল স্বীকারোক্তি : এসডিজি অগ্রগতিতে গত বছর অভিবাসীদের অবদান ৪২৯ বিলিয়ন ডলার

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : গত বছর প্রবাসীরা নিজ নিজ দেশে ৪২৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের পথে বিশেষ অবদান রেখেছেন। আর এ অর্থের পরিমাণ হচ্ছে সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত উন্নয়ন সহায়তার ৩ গুণ বেশী। বেসরকারী ভাবে অর্থনৈতিক স্থিতি অর্জনের পথে এই রেমিটেন্স প্রক্রিয়ার ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিনিধি লুইস আরবোর ।
জাতিসংঘ প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি এন্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’- এর কন্সালটেশন পর্বে দু’দিনব্যাপী চতুর্থ থিমেটিক সেশনের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত সমাবেশে লুইস আরবোর উল্লেখ করেন, ‘রেমিটেন্সের প্রভাব পড়েছে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে। বহু মানুষকে দারিদ্রসীমার ওপরে উঠতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে উন্নয়নশীল বিশ্বে। এ কারণে রেমিটেন্সের ফি একেবারেই কমিয়ে ফেলা উচিত এবং প্রবাসীদের মানবাধিকার প্রশ্নেও উন্নত দেশগুলোর সজাগ হওয়ার বিকল্প নেই।’ ‘কারণ, যে সব দেশে প্রবাসীরা মেধার বিনিয়োগ ঘটাচ্ছেন এবং শ্রম দিচ্ছেন, সে সব দেশও প্রকারান্তরে উপকৃত হচ্ছে। এসব বিষয়কে অবজ্ঞার অবকাশ থাকতে পারে না’-উল্লেখ করেন লুইস।
সেশনে বক্তব্যকালে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ তথা ওআইএম এর মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং বলেন, দঅভিবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থে অনেক দেশই তার উন্নয়ন-পরিকল্পনা তৈরী করছে। এজন্যে অভিবাসীদের মানবাধিকার প্রশ্নে সকলকে সোচ্চার থাকা জরুরী। একইসাথে মূলধারার সকল কার্যক্রমেই অভিবাসীদের সম্পৃক্ততাও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এই সেশনে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের পক্ষে অংশ নেন মো: ইসরাফিল আলম এমপি ও মাহজাবিন খালেদ এমপি। থিমেটিক সেশনটিকে দু’টি প্যানেলে বিভক্ত করা হয়। প্যানেল-১ এ অংশ নেন এমপি মাহজাবিন খালেদ এবং প্যানেল-২ এ অংশ নেন এমপি মো: ইসরাফিল আলম। ২৪ জুলাই সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এই সেশন বসে। এতে অংশ নিচ্ছেন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবী-শ্রমজীবী, অভিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা।
“টেকসই উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদান : অভিবাসন ও উন্নয়নের যোগসূত্র’’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত প্যানেল-১ এর আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি মাহজাবিন খালেদ এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামষ্টিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী অভিবাসীদের উপার্জন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত সামাজিক সংকীর্ণতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন-কানুনের উর্ধ্বে উঠে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্যানেল-২ এর প্রতিপাদ্য ছিল “টেকসই উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে অভিবাসী ও প্রবাসীদের অবদান : সহায়ক পরিকাঠামো নির্মাণ’’। মো: ইসরাফিল আলম এমপি এ সেশনে অংশ নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটির জন্য দেশে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং তাঁদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
উভয় সংসদ সদস্য তাঁদের বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা প্রস্তাবিত গ্লোবাল মাইগ্রেশন কমপ্যাক্টের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণ খরচ কমানো, প্রেরিত রেমিট্যান্সের নিরাপত্তা বিধান, অভিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নের মূলধারায় অভিবাসী ও প্রবাসী কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মো: ইসরাফিল আলম এমপি ৭ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশের মাইগ্রেশন ককাস এর সভাপতি এবং মাহজাবিন খালেদ এমপি এর সদস্য।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।