Monday, October 16, 2017

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। জিয়াউর রহমানই যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ছিলেন, তাও দৃশ্যমান হয়েছে একাত্তরের কুখ্যাত ঘাতক গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আনার মধ্য দিয়ে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের রক্ষায় তিনি ইডডেমনিটি অধ্যাদেশও জারি করেছিলেন’-এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।
‘শোকের মাস আগস্ট’ উপলক্ষে ‘শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. গোলাপ আরো উল্লেখ করেন, ‘জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত জেনারেল এরশাদও একই ধারায় বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের পুনর্বাসিত করেছেন। রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছেন।’ ‘অর্থাৎ এরশাদও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের ফায়দা লুটেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির পুনর্বাসন ঘটিয়েছেন’-উল্লেখ করেন ড. গোলাপ।

নিউইয়র্ক : শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

তিনি বলেন, ‘সামনের নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে জয়ী করে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্যে সকল দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে গিয়ে সকলকে শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী একযোগে কাজ করতে হবে।’
বিশেষ অতিথি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর থেকেই। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রকারিরা ভেবেছিল যে, বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালিরা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
‘এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মোট ২১ বার চেষ্টা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার। কিন্তু আওয়ামী লীগসহ দেশবাসীর দোয়ায় শেখ হাসিনা বেঁচে রয়েছেন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড় করিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে’-উল্লেখ করেন নিজাম চৌধুরী।
১ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে ‘গুলশান ট্যারেস’র মিলনায়তনে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের প্রধান ডা. মাসুদুল হাসান। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ। অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ খন্দকার, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন আজমল প্রমুখ।
বক্তারা ১৫ আগস্টের কাল রাতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের এগিয়ে চলাকে ত্বরান্বিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করেন। এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর ঘাতক হিসেবে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আগ্মগোপন করে রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে এই দুই দেশের রাজনীতিকদের সাথে লবিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বক্তারা।

 

2 Comments

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা August 2, 2017 at 8:42 pm

1971 সনের মার্চ মাসে এরশাদ সাহেব ছুটি কাটাতে বাংলাদেশেই ছিলেন এবং ছুটি শেষে পাকিস্তানে চলে গিয়ে আবার কেবল যোগদানই করেননি, বিদ্রোহী বাংগালী সেনা সদস্যদেরকে বিচার করার জন্য গঠিত মার্শাল ল’ কোর্টের বিচারপতি হিসেবে অনেক বাংগালীকে সাজাও দিয়েছিলেন। তিনি জেনারেল সফিউল্লাহ এবং জিয়ার চেয়ে চাকুরীর দিক থেকে সিনিয়র ছিলেন কিন্তু জিয়া এবং সফিউল্লাহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২ বছরের সিনিয়িরিট পাওয়ার কারনে হয়ে গিয়েছিলেন জুনিয়র। ১৯৭৩ এর শেষদিকে যখন পাকিস্তান ফেরত সামরিক সদস্যরা রিপ্যাট্রিয়েশনের মাধ্যমে দেশে আসেন তখন ঐ সিনিয়রিটি পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সহ্য করতে পারছিলেন না। আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঐ ধরনের হিংসাত্মক চক্ষু দৃষ্টি সহ্য করেছি। জিয়া ঘাতকদের হাতে নিহত হওয়ার পেছনে এরশাদের হাত থাকা অস্বাভাবিক নয়। শোনা যায় সেইদিন এরশাদ সাহেব চট্টগ্রামের পথা রওয়ানাও দিয়েছিলেন। সেই হত্যাকান্ডের কারনে আর্মি চীফ হবার জন্য এরশাদের সামনের সব কাটা দূর হয়ে গিয়েছিল আর তাই তিনি হতে পেরেছিলেন আর্মির চীফ, চীফ মার্শাল ল; এডমিনিষ্ট্রেটর ও পরবর্তীতে প্রেশিডেন্ট হতে পেরেছিলেন। সবই ছিল ক্ষমতার লোভ। সুতরাং অনুসন্ধান করলে আরও অনেক কিছুই লোক সন্মুখে উপস্থিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

একজন মুক্তিযোদ্ধা August 2, 2017 at 8:46 pm

এই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রাপ্য সন্মানটুকে দেখানো হয়নি যে রকম সচরাচরই আওয়ামী লীগের ব্যানারের সভায় হয় থাকে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের কিসের সংঘাত তা প্রবাসী বাংগালীরা জানতে চায়।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।