Tuesday, September 26, 2017

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ক্যান্সার হাসপাতালের সফলতার পর এবার পথ শিশু-কিশোরদের ‘জীবন আলোকিত’ করার প্রকল্প ‘আহসানিয়া মিশন শিশু নগরী’ গ্রহণ করেছে ঢাকা আহসানিয়া মিশন (ডিএএম)। এই প্রকল্পে বাংলাদেশের সুবিধা-বঞ্চিত পথশিশুদের বৈষম্য আর অবিচার রোধে তাদের স্বাভাবিক জীবনের লক্ষ্যে বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই মহতি উদ্যোগকে বাস্তবায়ন ও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এজন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা আহসানিয়া মিশন-ইউএসএ শাখা। পঞ্চগড়ে ৩শ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠা চিলড্রেন সিটিতে মিশনের ‘চিলড্রেন ভিলেজ’ প্রকল্পের অংশীদার হতে প্রবাসী বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা। উদ্যোক্তাদের আশা আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘চিল্ডরেন ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে। মিশনের ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে সংশ্লিরা এসব কথা বলেন।
সিটির কুইন্স বরোর ফ্রেসমেডোস্থ আলীবাবা রেষ্টুরেন্টে গত ২৯ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে মিশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা এবং দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ-এর সম্পাদক কাজি রফিকুল আলমের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সবাজসেবী ও ব্যবসায়ী ড. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখের ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইউএসএ’র সভাপতি নাঈমা খান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুল কবীর জাসির, মফিজ রহমান প্রমুখ। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানে স্বাগত রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইউএসএ’র কোষাধ্যক্ষ সেলিমা শারমীন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন সহ সভাপতি ড. ইলোরা রফিক ও সম্পাদক মুর্তাজুর নওশের রহমান।
অনুষ্ঠানে ড. দেলোয়ার হোসেন ডিএএম’র কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, দেশের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা জানিনা দেশের অবহেলিত শিশু-কিশোরদের মধ্যে কেমন প্রতিভা লুকিয়ে আছে। ‘মে বি দে আর ব্রাইট স্টার। আজ তাদের কোন স্বপ্ন নেই, ঘুমোনোর জায়গা নেই, খাবার নেই, আজ তারা ভুল পথে চলছে’। কিন্তু তারা একটু সহযোগিতা পেলে তাদের প্রতিভা বিকশিত হতে পারে, তাদের অনেক স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ডিএএম তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তাদের জন্য কাজ করছে। প্রবাসীদেরকেও এই কাজে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন।
কাজী রফিকুল আলম বলেন, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রবাসীরা ভুমিকা রেখে চলেছেন। প্রবাসীদের সাথে থেকে আমিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, ডিএএম ৬০ বছর ধরে কাজ করে চলেছে। ডিএএম সেবামূলক কাজ করার বড় প্লাটফর্ম। জনগণের জন্য কল্যাণকর যেকোন কাজ করতে ডিএএম আগ্রহী। ডিএএম’র অন্যতম বড় প্রকল্প ‘চিলড্রেন ভিলেজ’। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় ডিএএম’র প্রকল্প পরিদর্শণের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ভিডিও স্লাইডের মাধ্যমে আসহানিয়া মিশন-এর কর্মকান্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুর্তাজুর নওশের রহমান। শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব।
এরআগে গত ২৭ জুলাই জ্যাকসন হাইটসের খানস টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কাজি রফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে পথশিশুদের দেখভাল করার তেমন কোন সুব্যবস্থা নেই। একটি দেশের আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্ননে শিশু-কিশোরদের সত্যিকারভাবে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক বিবেচনায় বাংলাদেশে একটি সর্বাধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ঢাকা আহসানিয়া মিশন ১০ হাজার শিশু-কিশোরদের জন্য এই সিটি নির্মানের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রতি এক হাজার শিশুর জন্য একটি করে ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার মাধ্যমে ৬-১৮ বছরের শিশু-কিশোরদের থাকা-খাওয়া, লেখাপড়া সহ সকল দায়িত্ব বহন করা হবে। তারা আশা করছেন বাংলাদেশে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মানে প্রবাসীরা যেভাবে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে এসেছিলেন, উজ্জল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিশু-কিশোরদের জন্য একটি সিটি নির্মানের প্রকল্পেও প্রবাসীরা সেভাবে এগিয়ে আসবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইউএসএ’র সভাপতি নাঈমা খান, ঢাকা আহছানিয়া মিশন চিলড্রেন সিটির প্রধান নওশের রহমান, সহ সভাপতি ড. ইলোরা রফিক, কোষাধ্যক্ষ সেলিনা শারমিন এবং ডিএএম-ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আনিসুল করীর জাসির। এসময় প্রবাসের বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. দেলোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে বলা হয়, সমাজের সবাইকে পথশিশুদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোই ডিএএমইউএসএ উদ্দেশ্য। পথশিশুরা সমাজ জীবনে বিভিন্ন বৈষম্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। আর এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন অপরাধমূলক এবং ঝুকিপুর্ন কাজে ব্যবহার করছে এক শ্রেণীর মানুষ। তাই পথশিশুদের জীবন আলোকিত করতে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে ৩০০ বিঘা জমিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন চিলড্রেন সিটি গড়ে তোলা হবে। আর এই প্রকল্পের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবে ডি এ এম ইউ এস এ। ২০১১ সালে জার্মানীর সহায়তায় পঞ্চগড়ে ৩২৫ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর প্রথম ‘শিশু শহর’ আর এবার দ্বিতীয় প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।