Monday, October 16, 2017

নিউইয়র্ক : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আকতার হোসেন বাদল। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালিন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বিএনপিকেও অবাধে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করতে দেয়ার অঙ্গিকার করলেই সামনের নির্বাচনে বিএনপি যোগদান করবে’-এমন অভিমত পোষণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে।
৬ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে আরো বলা হয় যে, ‘চিকিৎসা এবং পুত্র-পুত্রবধূ, নাতি-নাতনীদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্যে লন্ডন সফররত বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য ও মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির পরিপন্থি। ৩ বারের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন দায়িত্বহীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল প্রকারান্তরে নিজেদের দেউলিয়াত্বকেই স্পষ্ট করেছেন।’ ‘একইভাবে আবারো বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার মতলবে সরকার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা আগের মত আবারো একদলীয় শাসন কায়েম করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হরিলুটের পথ সুগম রাখতে চাইছে’-অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ও তারেক পরিষদের চেয়ারপার্সন আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ দুই কর্মকর্তা ভারত সফর করলেও ঢাকায় যাবার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। কারণ, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচিত নয় এবং তারা লাগাতারভাবে বিরোধী দল দমনে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেও গুম হতে হচ্ছে অথবা জেলে নেয়া হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুর-৫ আসন (শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জ) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বাদল বলেন, ‘নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলে ২৮০ আসনের অধিক পাবে বিএনপি। ক্ষমতা হারানোর এই আতংকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপির নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে লাগাতার বিষোদগার করছেন।’
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা ও তারেক পরিষদের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি হুমায়ূন কবির। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. আসাদউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব আনিসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমাূন কবীর, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম অপু প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনারা খুব ভালোভাবেই অবগত রয়েছেন যে, মাতৃত্বের টানে ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন। সন্তান, নাতি-নাতনী এবং পুত্রবধূদের সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম জিয়া। এতদসত্বেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাতি নেতা পর্যন্ত প্রায় সকলেই বেগম জিয়ার এই সফর নিয়ে যে সব মন্তব্য করছেন, তা সভ্যতার পরিপন্থিই শুধু নয়, সবধরনের ভদ্রতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা সম্পর্কে যে ধরনের সমীহপূর্ণ বক্তব্য আশা করা হয়েছিল, তার ধারেকাছেও নেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে নি¤œস্তরের কোন নেতাই। বাংলাদেশের জন্যে খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটি অধ্যায়ের সূচনা ঘটাচ্ছে এসব বক্তব্য।’
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সংহত রাখতে বিএনপির অবদানের কথা কারোরই অজানা নেই। একদলীয় স্বৈরশাসন-বাকশালের কবল থেকে জাতিকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে ঐতিহাসিক ভ’মিকার মধ্য দিয়েই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর নব্বইয়ের স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা আজ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। সেই দলের নেতা সম্পর্কে আজে-বাজে মন্তব্য করার মধ্য দিয়ে মূলত: আওয়ামী নেতারা নিজেদের দৈন্যতারই বহি:প্রকাশ ঘটাচ্ছেন।’
বলা হয়, ‘আপনারা জানেন কী কারণে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। কী কারণে আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারও লন্ডনে বসবাসে বাধ্য হচ্ছেন। একের পর এক মামলার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে কালিমায় লিপ্ত করার ষড়যন্ত্র করার কথাও নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে, বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানেন ও চেনেন জিয়া পরিবারকে। এটিও সকলেই জানি ও বিশ্বাস করি যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ২৮০ আসনের অধিক লাভ করে বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। সে অপেক্ষায় রয়েছে বাঙালি সমাজ। আমরাও সে লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সাথে বিএনপির সম্পর্ক মধুর রাখতে সচেষ্ট রয়েছি। এসব কথার কথা নয়, বাস্তবে তা ঘটছে অত্যন্ত যতেœর সাথেই।’
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘বেগম জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে আওয়ামী-বাকশালীরা যা বলছে তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ধিক্কার জানাচ্ছি ঐসব নেতাদের, যারা লাগাতারভাবে বিষোদগার করছেন। একইসাথে, প্রবাসীদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ রাখছি, বাকশালীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হবার জন্যে। কারণ, সামনে নির্বাচন। দুদিন আগে অথবা পরে হউক, সামনের বছর নির্বাচন দিতেই হবে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী-বাকশালীরা পানি ঘোলা করে আগের মত খালি মাঠে গোল দেয়ার মতলবে বেগম জিয়া সম্পর্কে আজে-বাজে মন্তব্য করছে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হবার অবকাশ নেই। চিকিৎসা শেষেই বেগম জিয়া ঢাকায় ফিরবেন এবং নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ব্যপারে বিস্তারিত উপস্থাপন করবেন। আমরা সেই পর্যন্ত গভীর আগ্রহে থাকবো এবং এবং নিজ নিজ এলাকার সাথে সম্পর্ক জোরদার করে যাবো। যারা নির্বাচনে আগ্রহী, তারা এলাকার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সাথে একাকার হতে হবে। দলীয় মনোনয়নের জন্যে এই সম্পর্ক-উন্নয়নের বিকল্প নেই।’
প্রায় ৪ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নেই। এ প্রসঙ্গের অবতারণা করে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নেই, এটি যেমন সত্য, একইভাবে কমিটিহীন বিএনপিও বসে নেই। নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিএনপির কর্মসূচির সমর্থনে কাজ করছি। আজকের এ সংবাদ সম্মেলন তারই অংশ। আমরা আশা করছি, সামনের বছরের নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট সকলে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন। স্বৈরাচার কখনোই স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, সামনের দিনেও জনতার রোষানলে সবকিছু তছনছ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’

 

 

3 Comments

kamal August 7, 2017 at 10:41 am

if you get 280 seats then no need election. You just ask Sheikh Hasina to take over the power….

সাঈদূর রহমান, লং আইল্যান্ড থেকে August 7, 2017 at 9:57 pm

আমেরিকায় অবস্থান করে কিভাবে জানলেন এই নির্বাচনী ফলাফল? দেশে গিয়ে দেখুন কোথায় আপনার দল আর কোথায় আওয়ামী লীগের অবস্থান। আওয়ামী লীগ ২৮০ আসন না পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অবশ্যই লাভ করবে। আমিও দেশের বাহিরে থাকি, রাজনীতি করি না। তবে দেশে যাই প্রতি বছর এবং দেখেছি মানুষ এই সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে কতটুকে খুশী। আপনাদেরকে ক্ষ্মতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৭১ এর দালালগন যারা দেশ থেকে পালিয়ে আছে এবং আশা করছে আপনারা কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা নিরাপদ, তাদের ৭১ এর কর্মকান্ডের জন্য কোনো জবাবদিহী করতে হবে না। কিন্তু তারা জানে না যে আপনাদের দল আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসবে না, জন্মদাতার ভাংগা সুটকেস ও ছেড়া গেঞ্জীর ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকার হাওয়া ভবন এবং গুলশান বনানীতে একাধিক বাড়ীর মালিক হবার বিষয়ে জবাব দিতে হবে না।

kamal August 8, 2017 at 8:33 pm

Vai…. Vanga Sutches and Chera Gengi are in credit card now……. Stupid and Chora Tareq received 1500/month as orphan but did not study….

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।