Monday, October 16, 2017

আব্দুল হান্নান খান। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘প্রত্যেক বিভাগে একটি করে অর্থাৎ মোট ৮টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব। বর্তমানের একটি মাত্র ট্রাইব্যুনাল দিয়ে বিচার চালালে পৌণে ৭০০ জনের বিচার সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৭০০ বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর অনেক আগেই সকল অভিযুক্ত রাজাকারের মৃত্যু হবে’। এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারি আব্দুল হান্নান খান। পুলিশের আইজি পদমর্যাদার অধিকারি হান্নান খান বলেন, ‘বিচারক সংকটের অজুহাতে গত বছর একটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করায় এখন মাত্র একটি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। এরফলে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন পৌণে ৭ শ’তে উপনীত হয়েছে।’
হান্নান খান উল্লেখ করেন, ‘অথচ এই আইনেই বলা হয়েছে বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি অনেক আগেই। বাংলাদেশের প্রতিটি ডিভিশনে একটি করে মোট ৮টি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। তাহলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভিকটিম পরিবার বেঁচে থেকে ঘাতকদের শাস্তি দেখে যেতে পারবেন।’
পারিবারিক সফরে নিউইয়র্কে অবস্থানরত হান্নান খান ৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধা, কন্ঠযোদ্ধা এবং মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে অনানুষ্ঠানিক এক আলোচনায় আরো বলেন, ‘তবে বাংলাদেশে বর্তমানে বিচারকের সংকট রয়েছে, এমন কথা ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতিও উল্লেখ করেছেন। এ কারণে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্রুনালের চেয়ারম্যানের শুন্য পদটিও পূরণ করা সম্ভব হয়নি।’
তদন্ত সংস্থার প্রধান আরো উল্লেখ করেন, ‘একটি বিষয় সকলেরই জানা থাকা উচিত যে, গুরুতর অপরাধের অভিযোগ কখনোই তামাদি হয় না। তাই একাত্তরের অপরাধীরাও রেহাই পাবে না। এজন্যে প্রয়োজন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো।’
দলগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলেছে এবং তদন্ত সংস্থা থেকে প্রসিকিউশন সংস্থায় দাখিলের পরও বিচার শুরু হয়নি কেন-এ প্রসঙ্গে ঝানু এই পুলিশ অফিসার হান্নান খান বলেন, ‘জবাব খুব সহজ। বিচারকের সংকটে একটি মাত্র আদালতও ঠিকমত কাজে সক্ষম হচ্ছে না। ২০১১ সালে আমি এ দায়িত্ব হাতে নেই ৪২৫টি অভিযোগসহ। তারপর আদালতের সংখ্যা একটি থেকে দুটি করা হয়। কিছুটা ত্বরান্বিত হয় বিচার প্রক্রিয়া। একটি বিষয়ে সকলের ধারণা থাকা উচিত যে, আমরা প্রাপ্ত অভিযোগের তদন্ত শেষে তা পেশ করি প্রসিকিউশন টিমের কাছে। তারা সেই নথিপত্র বিশ্লেষণ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করেন আদালতে। সে অনুযায়ী আমরা জামায়াতের তদন্ত প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পেশ করেছি। অবশিষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে প্রসিকিউশন টিমের।’
‘সরকারী দলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে কিনা’ জানতে চাইলে হান্নান খান সরাসরি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন গুঞ্জন আরো অনেক মামলা নিয়ে ছিল। বাস্তবে সেগুলো ধোপে টেকেনি। বিচার শেষে ফাঁসিতে ঝুলিয়েই ঘাতকদের দম্ভ চূর্ণ করা হয় আইন অনুযায়ী। তাই ট্রাইব্যুনালের সংকট কমলেই প্রসিকিউশন টিম নিশ্চয়ই জামাতের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মাননীয় আদালতে পেশ করবেন।’
সুশীল সমাজ থেকে দাবি উঠেছে আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে বিচার ত্বরান্বিত করার-এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিটি দেশেরই সুশীল সমাজের ভূমিকা দেখা গেছে। তারা সোচ্চার হওয়ায় রাজনীতিকরা চাঙ্গা হয়ে বিচারকে ত্বরান্বিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাংলাদেশের সুশীল সমাজও সে দায়িত্বই পালন করছেন।’
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ‘৩৭২৪ রাজাকারের বিরুদ্ধে ৭১৪ মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৫২টির তদন্ত সমাপ্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন তথা চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে-এমন অভিযুক্ত রাজাকারের সংখ্যা ১৪৪। রায় ঘোষণা করা হয়েছে ২৯টি মামলার। তদন্তকালে অভিযুক্তদের মৃত্যু হওয়ায় ৫টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে শীর্ষ ৬ রাজাকার-ঘাতকের। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৩ জন আত্মগোপনে রয়েছে, যার মধ্যে দু’জন এই আমেরিকায়। এদের বাংলাদেশে নিয়ে রায় কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে উপরোক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আলবদর আশরাফুজ্জামান এবং রাজাকার আব্দুল জব্বার যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপন করেছে। এই দু’জনকে বাংলাদেশের কাছে সোপর্দ করার জন্যে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিপ্রায়ে ১৩ আগস্ট রোববার নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম’র যুক্তরাষ্ট্র শাখা। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বলে এ সময় হান্নান খানকে অবহিত করা হয়।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, নিউইয়র্কস্থ ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র সভাপতি লাবলু আনসার এবং সেক্রেটারি শহীদুল ইসলামও ছিলেন অনানুষ্ঠানিক এ মতবিনিময়কালে।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।