Sunday, September 24, 2017

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরী এবং একাত্তরের ঘাতক আশরাফুজ্জামান খান ও এম এ জব্বারকে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে ১৩ আগস্ট রোববার নিউইয়র্কে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পালিয়ে রয়েছে। অপরদিকে একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার নায়ক আলবদও আশরাফুজ্জামান এবং রাজাকার জব্বারকেও আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছে। এরা উভয়েই আত্মগোপন করে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই দুই ঘাতকের একজন আশরাফুজ্জামান খানের আস্তানার সামনে অর্থাৎ কুইন্সের জ্যামাইকায় ইকনা মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন-বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে সেক্টর কমানন্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। এ কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, গণজাগরণমঞ্চ, বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগ, বঙ্গমাতা পরিষদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, প্রগেসিভ ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালো রাতে শহীদ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হোস্ট সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার।
এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ঘাতকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঢিলেমী আমরা বরদাশত করতে পারি না। অবিলম্বে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’
অপর কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান বলেন, ‘ঘাতকদের ফাসিতে ঝুলানো পর্যন্ত আমরা সোচ্চার থাকবো এই প্রবাসে।’
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক ঘাতকদের ফিরিয়ে নিতে সরকার নাকি ল’ ফার্ম ভাড়া করেছেন। এক বছর আগে এমন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু আজ অবধি এর কোনই অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও শহীদ সাংবাদিক সিরাজ্জুদ্দিন হোসেনের পুত্র ফাহিম রেজা নূর বলেছেন, ‘এই দন্ডিত ঘাতকেরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সিটিজেনশিপ গ্রহণের সময় নিশ্চয়ই উল্লেখ করেনি যে, তারা জাতিরপিতাকে হত্যা করেছে কিংবা একাত্তরে ৩০ লাখ বাঙালির নিধনযজ্ঞে লিপ্ত ছিল। এই মিথ্যার জন্যেই ওদের সিটিজেনশিপ কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের সাথে এ নিয়ে দেন-দরবার করতে হবে।’
যুুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ড. এম এ বাতেন বলেন, ‘আর সময় ক্ষেপনের অবকাশ নেই। পলাতক এসব ঘাতককে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে যত রকমের তদ্বির দরকার, তা আমরা করে যাবো।’
যুক্তরাষ্ট্রস্থ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মিথুন আহমেদ বলেন, ‘একাত্তরের উজ্জীবিত সকল প্রবাসীকে সংঘবদ্ধ হতে হবে। মার্কিন কংগ্রেসে লবিং চালানোর পাশাপাশি স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও জাতিসংঘে স্মারকলিপি দিতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঠাঁই পাচ্ছে, সে প্রশ্ন রাখতে হবে সর্বমহলে।’
বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার বলেন, ‘শোকের মাস আগস্টে যে সংকল্প আমরা গ্রহণ করলাম, তা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত সোচ্চার থাকবো সকলে।’
শহীদ পরিবারের সদস্য ওবায়দুল্লাহ মামুন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সকলকে এক কাতারে আসতে হবে এই দাবি আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে চাপ প্রয়োগের জন্যে।’
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদা জামান বলেন, ‘শুধু সরকারের ওপর ভরসা করলে চলবে না, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরীর যাবতীয় অপকর্মের তথ্য বিচার বিভাগকে অবহিত করতে হবে প্রবাসীদের পক্ষ থেকেই।’
যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘প্রবাসী যুব সমাজের সকলেই সচেষ্ট রয়েছি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরীসহ একাত্তরের ঘাতকদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার জন্যে। আজকের এ সমাবেশে সে তৎপরতা ভিন্ন মাত্রা পেল। আশা করছি এখন স্টেট ডিপার্টমেন্টও নড়েচড়ে উঠবে।’
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা মোজাহিদ আনসারী ও গোপাল সান্যাল, প্রগেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য মাহমুদ হাসান মানিক, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজী, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, প্রচার সম্পাদক শুভ রায়, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মাসুদ নিজ নিজ বক্তব্যে জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ এবং স্টেট ডিপাটমেন্টের সামনে এই ঘাতকদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে বড় ধরনের সমাবেশের আহবান জানান।
এই সমাবেশের সকলের হাতেই ছিল ঘাতকদের ছবি সংবলিত প্লেকার্ড। মাঝেমধ্যেই স্লোগান উঠে, ‘হুশিয়ার-সাবধান-একাত্তরের রাজাকার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়-রাজাকারের ঠাঁই নেই’, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ-রাজাকারেরা গেলি কৈ’, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ ঘাতকেরা গেলি কৈ’ ইত্যাদি।
নিউইয়র্ক পুলিশের ৩টি গাড়িসহ কয়েক ডজন অফিসার ছিলেন এ সমাবেশের নিরাপত্তায়। সমাবেশ চলাকালেই আসর নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আলবদও আশরাফুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত মসজিদে। এরপর মুসল্লীরা বাইরে এসে সেই আশরাফুজ্জামানের অতীত অপকর্মের তথ্য জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এসব মুসল্লীর অধিকাংশই পাকিস্তানী এবং ভারত-বাংলাদেশের। বিক্ষোভকারীরা মুসল্লীগণের প্রতি অনুরোধ জানান যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে আশরাফুজ্জামানেরা হেন কাজ নেই, যা করতে পারে না। তাই তাকে যেন অবিলম্বে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়।

 

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।