Sunday, November 19, 2017

১৫ই আগষ্ট জাতীয় ‘শোক দিবস’ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম ‘মৃত্যুবার্ষিকী’। হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ, শোকাবহ এই দিনটিতে-গভীর শ্রদ্ধা, বিনম্র ভালোবাসায় ও কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ‘বঙ্গমাতা’ বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগষ্টে নিহত সকল শহীদদের।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলার হত-দরিদ্র, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট, আজকের এই দিনে-স্বপরিবারে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, লাল-সবুজ পতাকা ও জাতীয় সংগীত মেনে নিতে পারেনি, স্বাধীনতাবিরোধী সেই সব মৌলবাদী অপগোষ্টীরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু’কে হত্যা করে, জাতির জীবনে এক কালো অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। যা বাঙ্গালী জাতি কখনও কামনা করেনি।

আজকের এই কলংকিত দিনটিতে নরপিশাচ ও ঘৃণ্য ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বুলেটের আঘাতে বর্বরোচিত ভাবে হত্যা করেছে, তাঁর সহধর্মিনী ‘বঙ্গমাতা’ বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযুদ্ধা শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধু অন্তঃসত্তা সুলতানা কামাল ও রোজী কামাল, সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধু’র প্রিয় ভাগ্নে ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্তঃসত্তা স্ত্রী আরজু মণি, শহীদ সেরনিয়াবাদ, রিন্টু, কর্ণেল জামিল এবং হত্যা করা হয়েছে, সেদিনের কর্তব্যরত অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদেরকেও।

১৫ই আগষ্টের রক্তপ্লাবিত এই ট্র্যাজেডির সময় দেশের বাহিরে থাকায়-ঘাতকচক্রের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু’র দুই কন্যা, বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সম্মানিতা শেখ রেহানা। এই হত্যাকান্ড ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে জগন্যতম ‘হত্যাকান্ড’। ১৫ই আগষ্টের আজকের শোকাবহ এইদিনে সেইসব নরপিশাচ ঘৃণ্য ঘাতকদের ধিক্কার জানিয়েছেন, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অত্যান্ত আবেগময় কণ্ঠে বিবৃতিতে-আরও বলেনঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে মুহুর্তে ব্রতি ছিলেন, দেশ গড়ার কাজে এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে। ঠিক সেই মুহুর্তে একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে, বাঙ্গালী জাতিকে পিছিয়ে দেয়-প্রগতি ও সমৃদ্ধির অগ্রমিছিল থেকে। গভীর দুঃখের বিষয় হলো, একটি দেশের ‘জাতির জনককে’ স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও, এই হত্যা মামলার বিচার সুদীর্ঘ ৩৪ বছর নীরবে ও নিভৃতে কেঁদেছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কুখ্যাত খুঁনী মির জাফর মোস্তাক ও তৎকালীন সামরিক জান্তা জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ সকল সামরিক স্বৈরা-শাসক ‘কুখ্যাত ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ জারি এবং তা ধারাবাহিকভাবে বহাল রেখে বঙ্গবন্ধু’র আত্মস্বীকৃত খুঁনীদের পুরস্কৃত করে চাকুরীতে পুনর্বহাল ও বিভন্নভাবে তাদেরকে রক্ষার অপচেষ্টা করেছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু’র আত্মস্বীকৃত খুঁনীদেরকে বিদেশী মিশনগুলিতেও নির্লজ্জভাবে চাকুরী দেয়া হয়েছে।

এখানে আরও উল্লেখ করা হয় যে, অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬-এ, জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়- আরোহনের পর কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ বাতিল করে। এবং পুনঃ শুরু হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ হত্যা মামলা। সুদীর্ঘ ৩৫ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই ২০১০ সালে, জাতির জনকের হত্যা মামলার রায় বাস্তবায়ণ ও পাঁচ খুঁনীর ফাঁসির আদেশ কার্যকরের মধ্যদিয়ে জাতিকে কিছুটা হলেও কলংকের গ্লানি থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ‘বঙ্গবন্ধু’র আত্মস্বীকৃত অন্যান্য খুঁনী যারা এখনও বিদেশে পলাতক, অবিলম্বে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে ‘তাদে’র ফাঁসি কার্যকরার জন্যও বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ।

আজকের এই শোকাবহ দিনে-হল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আরও বলেনঃ ব্যাক্তি মুজিবের মৃত্যু হলেও, আদর্শের মুজিব আমাদের মাঝে চির অম্লান-চিরভাস্বর! মুজিব মৃত্যুঞ্জয়ী! জাতীয় ‘শোক দিবসে’ আমাদের শপথ হোক, ‘বঙ্গবন্ধু’র আদর্শে উজ্জীবিত ও অটুট থেকে, শোককে শক্তিতে পরিণত করে, সকল অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা ও প্রতিহত করে, ‘বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মুলে বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও আমরা শক্তিশালী এবং সর্বাত্মকভাবে তাঁকে সহযোগীতা করবো। জাতীয় ‘শোক দিবসে’র এইদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ই আগষ্টে, নিহত সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’ জানিয়েছেন, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ।

শোকাহতরা হলেনঃ হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাঈদ ফারুক, সহ-সভাপতি জনাব এমদাদ হোসেন, সহ-সভাপতি জনাব ইমরান হোসেন, সহ-সভাপতি জনাব জাকিরুল হক টিপু, সহ-সভাপতি জনাব সন্দীপ কুমার দাস, সহ-সভাপতি জনাব আবরার হোসেন শামীম, উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য জনাব মতিউর রহমান ও অমিত কাজল, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রশীদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল বাবুল, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক বিষ্ণু বিস্বাস, জনসংযোগ সম্পাদক ফজলুর রহমান, যুব ক্রীড়া সম্পাদক শামীম আক্রাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ভূশন চন্দ্র নাথ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নীপু দাশ ও কোষাধ্যক্ষ লক্ষন সরকার, কার্যনির্বাহী সংসদে’র সদস্য আলাউদ্দিন মোল্লা, জাহিদ হোসেন, আশিক, রানা আহমেদ, নূরুল ইসলাম নোমান, আতিকুর রহমান, কামাল হোসেন, মাসুদ, তপন সরকার, সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মশিয়ুর রহমান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।