Monday, September 25, 2017

নিউইয়র্ক : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখছেন শামসুদ্দিন আজাদ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত করার মধ্য দিয়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের সংকল্প গ্রহণ করা হয়। একইসাথে আদালত কর্তৃক মৃত্যুদন্ডপাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারকে আরো তৎপর হবার আহবান উচ্চারিত হয়।
এ উপলক্ষে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৃথক ৩টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ বছরের মত এবারও জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর ব্যানারে সর্বস্তরের প্রবাসীদের মধ্যে খাদ্যের প্যাকেট বিতরণ করা হয় ‘তবারক’ হিসেবে। উল্লেখ্য, ১ আগস্ট থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ মুজিব আদর্শে উজ্জীবিত বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা, দোয়া-মাহফিল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সারামাসই রয়েছে নানা কর্মসূচি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির আবহে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশ্যে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি একমিনিট নিরবতা পালন করেন। শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার মাধ্যমে সকালের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানসূচি শেষ হয়।
বিকেলে ৬টা ৩০ মিনিটে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান “আলোচনা পর্ব”। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর প্রণীত একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আলোচনা পর্বে অন্যান্যদের সাথে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত খুলনা-২ আসনের এমপি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো: জাহিদ আহসান রাসেল, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট মো: আবু জাহির এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো: আব্দুর রহমান।
আলোচনার আগে অডিটোরিয়ামে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফররত তিন এমপিকে সাথে নিয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি মিশনের পক্ষে জাতির পিতার প্রকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যেই ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজি’র ১৭টি অভীষ্টের অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়েছে, যা বিস্ময়কর”।
রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, “জাতির পিতার হত্যাকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতার জীবন ও আদর্শকে ধারণ করেছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিশ্বের বুকে সগৌরবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ”।
এমপি মো: জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “জাতির পিতা আমাদের দেখিয়ে গেছেন, কিভাবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হয়”। তিনি আরও বলেন, “জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি ও বিচারহীনতার যে সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা হত্যার বিচার ও ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে সে কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করেছে”।
এডভোকেট মো: আবু জাহির এমপি জাতির পিতার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন ও জেল জুলুমের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা যে মহামানবকে হত্যা করতে সাহস পায়নি তাঁকে ৭৫-এর ঘাতকরা সপরিবারে নির্মমভাবে কাপুরুষের মতো হত্যা করেছিল, এমন হত্যাকান্ড এর আগে কখনই বিশ্ব দেখেনি”।
এমপি মিজানুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা হত্যার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “প্রবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল সংকটে দেশের পাশে থেকেছেন। হৃদয়ে দেশপ্রেম নিয়ে মাতৃভূমির উন্নয়নে কাজ করেছেন”। তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় প্রবাসীদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সকল এমপিগণই দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আবারও আওয়ামী লীগ সরকারকে বিজয়ী করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পলাতক জাতির পিতার খুনীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সকল প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে সকল সহকর্মীকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমের আলোকপাত করেন।
জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহিদ হাসান রাসেল এমপি, এডভোকেট আবু জাহির এমপি, মিজানুর রহমান এমপি, রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ও সহ-সভাপতিবৃন্দসহ মোট ৬৫ জন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সমাবেশে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটে। বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্যে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতাপূর্ণ সহায়তা প্রত্যাশা করেন। একইসাথে, এই আমেরিকায় যারা বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করার কথাও বলেন সকলে। বক্তারা বলেন, সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যদি পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে না পারে তাহলে গত ৮ বছরের সকল অর্জন ধুলিসাত হয়ে যাবে, আবারো জঙ্গিরাষ্ট্রের কালিমা লেপন করা হবে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশকে। এজন্যে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

 

3 Comments

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা August 16, 2017 at 9:32 pm

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট। ভোররাত। ধানমন্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমান তার আত্মীয় ও মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে যান। যে ঘরে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়েছিল আবদুল ও রমা । উপর থেকেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় তার ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মহিতুল ইসলামকে টেলিফোন করে বলেন, ‘সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে। জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন লাগা।’ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে, মহিতুল গণভবন (তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়) এক্সচেঞ্জে চেষ্টা করতে থাকেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করামাত্রই বাড়িটি লক্ষ্য করে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়।
একটু পরেই বঙ্গবন্ধু তার ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। ঘুম থেকে উঠে আসে গৃহকর্মী আবদুল আর রমা। বেগম মুজিবের কথায় রমা নিচে নেমে মেইন গেটের বাইরে এসে দেখেন সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগুচ্ছে। রমা বাড়ির ভেতরে ফিরে দেখেন, লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় নামছেন। দোতলায় গিয়ে দেখেন, বেগম মুজিব আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন। রমা আর আব্দুল দোতলায় দাঁড়িয়ে না থেকে তিনতলায় চলে যান এবং বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামালকে ঘুম থেকে তোলেন। ঘটনা শুনে শার্ট-প্যান্ট পড়ে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। সুলতানা কামাল আসেন দোতলা পর্যন্ত। রমা দোতালায় শেখ জামাল ও তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে তোলেন। জামাকাপড় পরে শেখ জামাল তার স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় বেগম মুজিবের কক্ষে যান। ওদিকে গোলাগুলির মধ্যে অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন মহিতুল। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জে চেষ্টার এক পর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি …’। বঙ্গবন্ধু তার কথা শেষ করতে পারেননি। একঝাঁক গুলি জানালার কাচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। কাচের এক টুকরায় মহিতুলের ডান হাতের কনুই জখম হয়। ওই জানালা দিয়ে গুলি আসতেই থাকে। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন এবং মহিতুলের হাত ধরে কাছে টেনে শুইয়ে দেন। এর মধ্যেই গৃহকর্মী আবদুলকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে তার পাঞ্জাবি ও চশমা পাঠিয়ে দেন বেগম মুজিব। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে আবদুলের হাত থেকে পাঞ্জাবি আর চশমা নিয়ে বারান্দায় বের হয়ে বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছো ?’ এ কথা বলেই বঙ্গবন্ধু উপরে চলে যান।
বঙ্গবন্ধু উপরে উঠতে না উঠতেই শেখ কামাল নিচে নেমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আর্মি আর পুলিশ ভাইরা, আপনারা আমার সঙ্গে আসেন।’ এ সময় শেখ কামালের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান মহিতুল ইসলাম ও পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) নুরুল ইসলাম খান। ঠিক তখনই মেজর নূর, মেজর মহিউদ্দিন এবং ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। গেটের ভেতর ঢুকেই তারা হ্যান্ডস আপ বলে চিৎকার করতে থাকে। মহিতুল ইসলামকে টেনে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান নুরুল ইসলাম খান। কোন কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করে বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। মহিতুলকে বলতে থাকেন, “আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল, আপনি ওদেরকে বলেন”। মহিতুল ঘাতকদের বলেন, “উনি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল”। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে শেখ কামালকে লক্ষ্য করে বজলুল হুদা তার হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ব্রাশফায়ার করে। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল। এর মধ্যে একটা গুলি মহিতুলের হাঁটুতে আর একটা নুরুল ইসলামের পায়ে লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ওই ঘরে ঢুকে বজলুল হুদা সবাইকে বাইরে গিয়ে দাঁড়ানোর আদেশ দেয়।
বংগবন্ধুর টেলিফোনে যোগাযোগের প্রচেষ্টাঃ
নিচে কী হচ্ছে তার কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দোতলায় তার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফোনে তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনকে পান। তিনি তাকে বলেন, ‘জামিল, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোকেরা আমার বাসা অ্যাটাক করেছে। শফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বলো।’ তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকেও ফোন করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তাকে বলেন, ‘শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে, কামালকে (শেখ কামাল) বোধ হয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও।’ জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আউট অফ দ্যা হাউস?’
বঙ্গবন্ধুর কথা শোনার পরই কর্নেল জামিল বঙ্গবন্ধুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সঙ্গে ছিলেন নিজের গাড়িচালক আয়েনউদ্দিন মোল্লা। কিন্তু, পথেই সোবাহানবাগ মসজিদের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। পালিয়ে বেঁচে যান আয়েনউদ্দিন। এদিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির গেটের সামনে মহিতুল, নুরুল ইসলাম, আবদুল মতিন, পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ অন্য সদস্যদের সারি করে দাঁড় করানো হয়। এর মধ্যে ঘাতকদের একজন পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যকে গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান। এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে চলে যায়।
বংগন্ধুর সর্বশেষ প্রশ্ন
তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে? বঙ্গবন্ধুর ঘরে তিনি ছাড়াও ছিলেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে অবস্থান নেয়। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসলেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গের সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’ বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে মহিউদ্দিন ঘাবড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি- বেয়াদবি করছিস কেন?’ এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি অবস্থান নেয় বজলুল হুদা ও নূর। বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসার সময় নূর কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর তাদের স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে। বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। নিথর দেহটা সিঁড়ির মধ্যে পড়ে থাকে। সারা সিঁড়ি ভেসে যায় রক্তে।
রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে
বঙ্গবন্ধুর পেছন পেছন রমাও যাচ্ছিল। কিন্তু, ঘাতকরা তাকে ঘরের মধ্যে চলে যেতে বলে। এর মধ্যে দোতলায় শেখ রেহানার ঘরে থাকা তার চাচা শেখ নাসের ওই কক্ষে যায়। তার হাতে গুলি লাগার ক্ষত ছিল। রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে। এ সময় ওই ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের ও রমা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিচে নেমে এসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর পরই মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন তাদের সৈন্যসহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসে। আজিজ পাশা তার সৈন্যদের নিয়ে দোতলায় চলে যায়। তারা বঙ্গবন্ধুর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা দরজায় গুলি করে। তখন বেগম মুজিব দরজা খুলে দেয় এবং ঘরের মধ্যে যারা আছে তাদের না মারার জন্য অনুরোধ করেন। ঘাতকরা বেগম মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে আসতে থাকে।
বংগমাতার হত্যাকান্ড
সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখেই বেগম মুজিব কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘আমি যাব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেলো।’ বেগম মুজিব নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানান। ঘাতকরা শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে যায়। আর বেগম মুজিবকে তার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। বেগম মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন। বেগম মুজিবের নিথর দেহটি ঘরের দরজায় পড়ে থাকে। বাঁদিকে পড়ে থাকে শেখ জামালের মৃতদেহ। রোজী জামালের মুখে গুলি লাগে। আর রক্তক্ষরণে বিবর্ণ হয়ে যায় সুলতানা কামালের মুখ।
শেখ রাসেলের আকুতি
ভাইয়া, ওরা আমাকে মারবে নাতো? লাইনে দাঁড়িয়ে শেখ রাসেল প্রথমে রমাকে ও পরে মহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘ভাইয়া, ওরা আমাকে মারবে নাতো? পাশা মহিতুলের কাছ থেকে জোর করে তাকে দোতলায় নিয়ে যেতে বলে। আজিজ পাশার কথামতো এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। রাসেলের চোখ বের হয়ে যায়। আর মাথার পেছনের অংশ থেতলে যায়। রাসেলের দেহটি পড়ে থাকে সুলতানা কামালের পাশে। পুরো ঘরের মেঝেতে মোটা রক্তের আস্তর পড়ে গিয়েছিল। এর মাঝেই ঘাতকের দল লুটপাট চালায়। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন তার দু্থমেয়ে ছিলেন না। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা স্বামীর সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানাকেও নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।
পূর্ব ঘটনা
ঘাতকদের প্রস্তুতি ১৯৭৫ সালের ১৪ আগষ্ট সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর ২ ফিল্ড রেজিমেন্টের যানবাহনগুলো সচল হয়ে ওঠে। ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণে অবস্থিত ইউনিট থেকে ১০৫এমএম কামানগুলোকে ভারি ট্রাক দিয়ে টেনে নির্মাণাধীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় নিয়মিত নৈশ প্রশিক্ষণের জন্য। রাত ১০টার দিকে সেনানিবাসের উত্তরপ্রান্ত থেকে বেঙ্গল ল্যান্সারের টি-৫৪ ট্যাংকগুলো ইউনিট থেকে বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্টে ১৮টি কামান ও ২৮টি ট্যাংক একত্রিত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘাতক অফিসাররা সেখানে জড়ো হয়। ১৫ আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরে মেজর ফারুক অফিসারদের নির্দেশ দেয় বিমানবন্দরের কাছে হেড কোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন অফিসে মিলিত হতে। অফিসারদের আপারেশনের পরিকল্পনা জানায় মেজর ফারুক। সেই ছিল এই অপারেশনের দায়িত্বে। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাড়ি সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বাড়ি ঘিরে দুটো বৃত্ত তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভেতরের বৃত্তের সদস্যরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করবে। বাহির বা ভেতর কোন আক্রমণ এলে তা ঠেকানোর দায়িত্বে দেয়া হয় বাইরের বৃত্তের সদস্যদের। সিদ্ধান্ত হয় সবদিকের রাস্তা ব্লক করে রাখবে একটা দল। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাসা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডিতেই শেখ ফজলুল হক মণি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণেরও সিদ্ধান্ত হয়। ডালিমকে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সময় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেন মেজর ফারুক। কিন্তু, পূর্বসম্পর্কের অজুহাতে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণে উপস্থিত না থেকে স্বেচ্ছায় সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব নেয় ডালিম। ভারি মেশিনগান সংযোজিত দ্রুতগতির একটি জিপে রওনা দেয় ডালিম। সঙ্গে এক প্লাটুন ল্যান্সারসহ একটি বড় ট্রাক।
শেখ মণির বাসায় আক্রমণ
শেখ মণির বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব দেয়া হয় রিসালদার মোসলেমউদ্দিনকে। তার সঙ্গে দেয়া হয় দু্ই প্লাটুন সৈন্য। এক কোম্পানি সেনাসহ রেডিও স্টেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউমার্কেট এলাকার দায়িত্বে থাকে মেজর শাহরিয়ার। একই সঙ্গে ওই গ্রুপকে বিডিআর থেকে কোন ধরনের আক্রমণ হলে প্রতিহত করার দায়িত্বও দেয়া হয়। ২৮টি গোলাবিহীন ট্যাংক নিয়ে শেরেবাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নেন মেজর ফারুক নিজে। তবে ট্যাংকের মেশিনগানগুলোয় প্রচুর গুলি ছিল। মেজর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের জন্য ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিনশ্থ সাধারণ সৈনিককে তৈরি করা হয়। মেজর রশিদের সরাসরি কোন আক্রমণের দায়িত্ব ছিল না। তার দায়িত্ব ছিল হত্যাকা- পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেয়া এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমন্বয় করা। তার নেতৃত্বে থাকা ১৮টি কামান গোলাভর্তি করে যুদ্ধাবস্থায় তৈরি রাখা হয়। কামানগুলো রক্ষীবাহিনীর হেড কোয়ার্টার এবং বঙ্গবন্ধুর বাসা লক্ষ্য করে তাক করা হয়। একটিমাত্র ১০৫ এমএম হাউইটজার কামান রাখা হয় আর্টিলারির মেজর মহিউদ্দিনের অধীনে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির উল্টো দিকে লেকের পাড়ে। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পর সবাইকে তাজা বুলেট ইস্যু করা হয়। ঘাতকের দল বিমানবন্দর এলাকা থেকে ভোররাত ৪টার দিকে ধানমন্ডির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ফারুকের নেতৃত্বে ২৮টি ট্যাংক বিমানবন্দর সড়কে বনানীর এমপি চেকপোস্ট দিয়ে সেনানিবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে ফজরের আজান পড়ে যায়। ফারুক তার ট্যাংক নিয়ে ৪৬ ব্রিগেড ইউনিটের লাইনের একেবারে ভেতর দিয়ে বাইপাস সড়ক ধরে সেনাসিবাসের প্রধান সড়কে চলে আসে। ঢাকা সেনানিবাসে সে সময়ে বিমানবাহিনীর যে হেলিপ্যাড ছিল, তার ঠিক উল্টো দিকের একটি গেট দিয়ে ফারুক তার ট্যাংক নিয়ে বিমানবন্দরের (পুরনো বিমানবন্দর) ভেতর ঢুকে পড়ে। এ সময় ফারুককে অনুসরণ করছিল মাত্র দুটি ট্যাংক। বাকি ট্যাংকগুলো পথ হারিয়ে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে ফার্মগেটের দিকে এগুতে থাকে। ফারুক এয়ারপোর্টের পশ্চিম দিকের দেয়াল ভেঙে রক্ষীবাহিনীর হেড কোয়ার্টারের সামনে উপস্থিত হয়। ভোর সোয়া ৫টার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসা আক্রমণ করা হয়। শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ঘাতকরা। প্রাণে বেঁচে যান শেখ মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস। ডালিমের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বেবী, ১২ বছরের ছেলে আরিফ, চার বছরের নাতি বাবু (আবুল হাসনাত আবদুল্লার ছেলে), ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আবদুল নইম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই), তিন অতিথি এবং চারজন কাজের লোককে।
শেষকৃত্য ও দাফন :
পরের দিন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর লাশ ছাড়া ১৫ আগস্টে নিহতদের লাশ দাফন করেন। আবদুল হামিদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে কফিনে নিহতদের লাশ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের লাশ সংগ্রহ করে বনানী গোরস্তানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। বনানী কবরস্থানে সারিবদ্ধ কবরের মধ্যে প্রথমটি বেগম মুজিবের, দ্বিতীয়টি শেখ নাসেরের, এরপর শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, শেখ রাসেল, ১৩ নম্বরটি শেখ মণির, ১৪ নম্বরটি আরজু মণির, ১৭ নম্বরটি সেরনিয়াবাতের আর বাকি কবরগুলো সেদিন এই তিন বাড়িতে যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের। ১৬ আগস্ট বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে তাকে দাফন করা হয় তার বাবার কবরের পাশে কিন্তু দাফনের পূর্বে যে ধর্মীয় বিধিবিধান তা পালন না করেই লাশের সাথে যাওয়া সেনাসদস্যরা জাতির পিতাকে কবরস্থ করতে আদেশ দিলেও স্থানীয় উপস্থিত ইমাম সাহেব ও অন্যান্য সবাই লাশ কবর দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়েই ঘাতকদের প্রতিনিধিরা মাত্র ১০ মিনিট সময় বেধে দেয়। ফলে একজন দৌড়ে গিয়ে পাশের মুদী দোকান থেকে একটা ৫৭০ কাপড় কাচা সাবান নিয়ে এসে সেই ৫৭০ সাবান দিয়েই বংবন্ধুকে যেন তেন গোসল করিয়ে সাদা পুরনো কাপড় দিয়েই বংগবন্ধুর লাশকে সমাহিত করা হয়েছিল। বিমানবাহিনীর যে এমআই-৮ হেলিকপ্টারে বংগবন্ধুর লাশ বহন করা হয়েছিল তার পাইলট ছিলেন তদানিন্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (পরবর্তীতে এয়ার কমোডর) শমশের আলী যিনি এখনও বেচে আছেন ঐ সব করুন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসবে।

একজন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা August 17, 2017 at 8:32 pm

শোক দিবস পালন করতে হবে যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থাকবে বহমান। কিন্তু আশে পাশে রাজাকারদের উত্তরসুরীকে দেখা যাচ্ছে। তারা কি করে বংগবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য দূঃখ প্রকাশ করবে>

একজন বাংগালী August 19, 2017 at 10:49 pm

এল কালের টেক্সী ড্রাইভার এখন কোটি কোটি টাকার মালিক এবং সেই কোটিপতি হবার পেছনে কি কারন তা জাতি জানে। প্রধান মন্ত্রী আসবেন তা জানার পরই সেই নব্য কোটিপতি আগেও চলে এসেছেন এবং তৈরী হচ্ছেন প্রধান মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবার জন্য। কি আশ্চর্ক্স্য বাংলাদেশ।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।