Sunday, November 19, 2017

এসকে সিনহা

নিউইয়র্ক, ১৮ আগস্ট, ২০১৭: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খিৃস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় প্রকাশের পর থেকে সরকারের মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে যাচ্ছেন। কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করছেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে রায় না পড়েই তারা আদিস্ট হয়ে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষোদগার করে যাচ্ছেন। ঐক্য পরিষদ এ সংঘবদ্ধ হীন তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
ঐক্য পরিষদ কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদ-নেতা-কর্মীর এহেন আচরণকে গোটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেশত্যাগে বাধ্য করার দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত অপকৌশল হিসেবে গণ্য করে।
ঐক্য পরিষদ মনে করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় তৎপর রয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যোগ্য ব্যক্তিরা উপযুক্ত পদ পাননি।
একইভাবে বিভিন্ন সময়ে মুখ রক্ষার জন্য কোনো সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে কোনো পদে আসীন করা হতো। এর পর পরই তাকে অসম্মানজনকভাবে সরিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে বুঝানো হয়েছে যে সংখ্যালঘুদের মধ্যে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি নেই। এভাবে সংখ্যালঘুদের নেতৃত্বশূন্য করার পায়তারা করা হচ্ছে। এ চিহ্নিত গোষ্ঠীই ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরীকে পদত্যাগে বাধ্য করে।
এ বঞ্চনা অব্যাহত থাকলেও বর্তমান সময়ে এটা এক ভয়অবহ আকার ধারণ করেছে। তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, রানা দাশগুপ্তের মতো নেতাকে পদ দেয়। তারপর থেকেই তাঁদেরকে হেনস্তা করে অযোগ্য হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার অপকৌশলে লিপ্ত হয়। একসময় তাঁরা অপমান থেকে রক্ষা পেতে নীরবে সড়ে পড়তে বাধ্য হন। বর্তমান প্রধান বিচারপতির ক্ষেত্রেও একই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে একটি দলের সাধারণ কর্মী পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করছেন, বালখিল্য মন্তব্য করছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ এই নেতা-কর্মীরা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের বিরুদ্ধে এর কাছাকাছি কোনো ভাষাও ব্যবহার করেননি। সবাই জানেন, লতিফুর রহমানকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী বিশ্ব নেত্রী শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে গণভবনে ফিরে আসার আগেই তাঁর ফোনের লাইন কেটে দেয়া হয়। তখনও এসব নেতা-মন্ত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে এমন অপমানজনক বক্তব্য রাখেননি। ঐক্য পরিষদ মনে করে বর্তমান প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকারের মন্ত্রী-নেতাদের এই ঔদ্ধত্য শুধুমাত্র তাঁর সংখ্যালঘু পরিচয়ের জন্যই।
ঐক্য পরিষদ বিশ্বাস করে, সংখ্যালঘুদের নেতৃত্বশূন্য করার এ হীন তৎপরতা ব্যক্তি, দল ও রাষ্ট্রের জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। বরং ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের মনে শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে ঐক্য পরিষদ আশা করে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।