Nov 22, 2017


নিউইয়র্ক (ইউএনএ): প্রবাসের নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত সম্মেলন ও লোকজ মেলা-২০১৭। সম্মেলনের মূল আলোচনায় বক্তারা বলেন, মূলত: বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার জনমানুষের কথা আর আচার-ব্যবহারই আমাদের সত্যিকারের লোকজ সংস্কৃতি। যার স্বীকৃতি অনেক আগেই ইউনেস্কো দিলেও কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদই তার লেখনী আর নাটক-সিনেমায় তুলে আনেন। বক্তারা বলেন, বাংলার লোকজ সংস্কৃতিই আমাদের অসল সংস্কৃতি, আমাদের সংস্কৃতির রুট। দেশ ও প্রবাসে লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে না পারলে আমরা আমাদের রুট (আসল সংস্কৃতি) হারিয়ে ফেলবো। বক্তারা বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, অপসংস্কৃতির দাপটে যেনো বাঙালী-বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি সহারিয়ে না যায়। এজন্য হুমায়ুন আহমদ সহ শাহ আব্দুল করীম, লালন ফকিরদের বারবার স্মরণ করতে হবে, তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করে নতুন প্রজন্মসহ সবার মাঝে বাংলা সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশের নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে আয়াজিত এবারের এই সম্মেলনের প্রধান আকর্ষন ও উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, আলোচনা, গুণীজন সম্বর্ধনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সিটির উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেসে ২৭ আগষ্ট রোববার এই আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত সম্মেলন ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক এম আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে এক গুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেহের আফরোজ শাওন। এর আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্গংীত পরিবেশন এবং মরহুম হুমায়ুন আহমেদ সহ সকল শহীদের আতœার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান, সাংবাদিক জাকিয়া খান, সাবেক এমপি ও সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, বিশিষ্ট লেখক ডা. সিনহা মনসুর, বিশিষ্ট শিল্পী ডা. মেছের আহমেদ, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আতোয়ারুল আলম ও বৃহত্তর রংপুর সমিতির সভাপতি মাহবুব আলী বুল। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন ও মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহাদ সোলায়মান। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মেলন ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব নূরুল ইসলাম বর্ষণ এবং প্রধান সমন্বয়কারী এ কে এম নূরুল হক ও সহ সমন্বয়কারী হাজী আব্দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এবারের ১৭তম আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত সম্মেলন ও লোকজ মেলা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথা সাহিত্রিক হুমায়ুন আহমেদ সম্মরণে আয়োজন করায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন. মূলত: হুমায়ুন আহমেদই বাংলাদেশের আদি সংস্কৃতি বিশেষ করে লোকজ গান মানুষের মাঝে নতুন করে জনপ্রিয় করে তোলেন। বক্তারা হুমায়ুন আহমেদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রবীন্দ্র-নজরুলের পরই হুমায়ুন আহমেদ-ই বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় লেখক। বক্তারা বলেন, এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শিল্প-সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করে তাদের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে হবে। শুধু অভিভাবকরাই অনুষ্ঠানে আসলে চলবে না, সাথে নিজেদের সন্তান-সন্তুতিদের নিয়ে আসতে হবে। সবার মাঝে লোকজ সংস্কৃতির সুবাতাশ ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আশানরূপ লোক সমাগম না হওয়ায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সহ একাধিক অতিথি বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, এমন ভালো আয়োজনে দর্শক-শ্রোতা না থাকলে সম্মেলন ও মেলার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সফল হবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রবাসের ৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘গুণীজন’ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরা হলেন ড. আজিজুল ইসলাম (শিক্ষা), জাকিয়া খান (সাংবাদিকতা), হাসানুর রহমান (শিশু সংগঠক), ছদরুন নূর (সংগঠক), অবিনাশ চন্দ্র আচার্য (কবি), মেহের আফরোজ শাওন (অভিনয় ও সঙ্গীত) এবং হুমায়ুন আহমেদ (মরনোত্তর সম্মাননা)। এদের মধ্যে অসুস্থ্যতার জন্য ছদরুন নূর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পাড়ায় তার পক্ষে সম্মানা গ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। অপরদিকে মরহুল হুমায়ুন আহমেদের সম্মাননা গ্রহণ করেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। গোপালগঞ্জ সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি হাজী আকব্দুর রহমানের সৌজন্যে সম্মাননা প্ল্যাকগুলো প্রদান করা হয়। উভয় পবৃ উপস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক এবিএম সালেউদ্দীন।
গুণীজন সম্মাননা শেষে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ স্ংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। টাইম টিভির সাবেক নিউজ প্রেজেন্টার দিমা নেফার তিতি ও বিশিষ্ট শিল্পী সেলিম ইব্রাহীমের উপস্থাপনায় এই পর্বে দেশ ও প্রবাষের বিশিষ্ট শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত সম্মেলন ও লোকজ মেলা-২০১৭ উপলক্ষে ‘সুর’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।

1 Comment

একজন বাংগালী মুক্তিযোদ্ধা August 29, 2017 at 8:05 pm

“,,,,,,,,অনুষ্ঠানে আশানরূপ লোক সমাগম না হওয়ায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সহ একাধিক অতিথি বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, এমন ভালো আয়োজনে দর্শক-শ্রোতা না থাকলে সম্মেলন ও মেলার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সফল হবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে……..” If you guys wouldn’t invite SHAON here thoue would be much more people. Because people know what she is and what she did to Humaoyun Ahmed’s family.. Shaon should be ashamed of her past. Whatever she and the organizer of this program may keep their eyes closed but the general mass don;t. So, ………?

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।