Tuesday, September 26, 2017

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : পারভেজ আহমেদ (২২) নামক এক বাংলাদেশী মেধাবি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র ‘আইসিস’-এ ভর্তির জন্যে সউদি আরব থেকে গত জুনে সিরিয়ায় যাবার পথে পারভেজকে গ্রেফতার করে সউদি পুলিশ। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ওজোনপার্কে তার বাবার বাড়িতে খোঁজ-খবর নিতে থাকে এফবিআই। ১৭ জুলাই পারভেজের কম্প্যুটারসহ যাবতীয় কাগজপত্র অনুসন্ধান করে এফবিআই নিশ্চিত হয় যে, সে আইসিসে ভর্তির জন্যেই সউদি আরব থেকে সিরিয়ায় গমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে সউদি পুলিশ তাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়। এফবিআই’র অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সউদি পুলিশ তাকে ২৮ আগস্ট নিউইয়র্কে ফেরৎ পাঠায়। জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পরই এফবিআই পারভেজকে পাকড়াও করে এবং ২৯ আগস্ট ব্রুকলীনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয়। পারভেজ তার মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন। মেধাবি ছাত্র হিসেবে সে নিউইয়র্কের সেরা ‘স্টাইভ্যাসেন্ট হাই স্কুল’-এ ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর সে হান্টার কলেজে ভর্তি হলেও অনিয়মিত ছাত্রে পরিণত হয়। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘হঠাৎ করেই বদলে যায় পারভেজ। সবকিছু ছেড়ে সে নিরব হয়ে যায়। গত জুন মাসে বাবার সাথে সউদি আরবে যায় পারভেজ। সেখান থেকেই উধাও হয় সে।
ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত অভিযোগ অনুযায়ী সে তার মা-বাবাকে সে লিখে জানায় যে, ‘আমি যদি কোন কারণে নিষ্ঠুর হয়ে থাকি/অতিরিক্ত কিছু করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমি যা তোমাদেরকে শেখাকে চেয়েছি দয়া করে তা স্মরণ করিয়ো’ ((“Forgive me if I was harsh/overbearing. Please remember all that I tried to teach you.”)। পারভেজের বিরুদ্ধে আইসিসকে হত্যাযজ্ঞে যাবতীয় সহায়তা এবং আইসিসের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন তথা অসহায়-নিরপরাধ মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এগুলো প্রমাণিত হলে তাকে কমপক্ষে ২০ বছরের দন্ড ভোগ করতে হবে।
এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তের সময় আহমেদের ফোনে আইসিসের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার ছবি ছাড়াও ৫ জনকে ঝুলিয়ে হত্যার ছবিও দেখা গেছে। সমকামীদের এভাবেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা উচিত বলেও পারভেজ লিখে রেখেছে। শুধু তাই ৯/১১ এ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলাকে যথার্থ বলেও অভিহিত করেছে পারভেজ। তার সেলফোনে আইসিসের লিডার আবু বকর আল-বাগদাদীর ছবিও পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাভেজের ফোনে আরো লেখা পাওয়া যায় যে, ‘আমরা খুব শীঘ্রই জিহাদে অংশ নিচ্ছি এবং এরপরই আমরা শহীদ হবো।
তদন্তের সময় এফবিআই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারভেজের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত হবার বাসনার তথ্য জানতে পেরেছে। সে আমেরিকানদের ইসলামের শত্রু হিসেবে মন্তব্য করে এদেরকে খতম করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন স্থানে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে পারভেজ একটি পোস্টে লিখেছে, ‘কারা জিহাদি? অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের ভ’মিতে যে সব মুসলমান শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার জন্যে আত্মত্যাগ করেন, তারাই জিহাদি। সত্যিকারের সন্ত্রাসী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’। মাননীয় আদালতকে এসব তথ্য সবিস্তারে অবহিত করেন এফবিআইয়ের সহকারি পরিচালক উইলিয়াম এফ সুইনি (Assistant Director-in-Charge William F. Sweeney.)
আদালতে প্রদত্ত অভিযোগে এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সফরের পর গত জানুয়ারিতে নিউইয়র্কে ফেরার সময়েই জেএফকে এয়ারপোর্টে এফবিআই তার মুখোমুখী হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐসব পোস্টের ব্যাপারে পারভেজ তাদের বলেছিলেন যে, ‘সে যখন গাঁজা-আফিমে বেশী আসক্ত হয়ে পড়েছিল, সে সময়েই ঐ ধরনের মতামত প্রকাশ পেয়েছে। তা সত্যি কিছু ছিল না।’
পারভেজ আহমেদের গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক মুসলমানদের ব্যাপারে সন্দেহযুক্ত আচরণের মধ্যে এমন ঘটনা বাংলাদেশীদের জন্যে আরো নাজুক অবস্থা তৈরী করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
২৯ আগস্ট মঙ্গলবার অপরাহ্নে পারভেজকে ব্রুকলীনে ফেডারেল কোর্টের জজ জেমস ওরেনস্টাইনের (United States Magistrate Judge James Orenstein) এজলাসে সোপর্দ করার পরই উপরোক্ত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তাকে জামিনহীন আটকাদেশ গিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।