Sunday, September 24, 2017

নিউইয়র্ক : ৩দিনব্যাপী বাংলাদেশ কনভেনশনের সমাপনী দিবসে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘প্রবাসে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হোক আমাদের নতুন কিছু করার প্রত্যয়’-এমন সংকল্পে উজ্জীবিত হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে নিউইয়র্কে শেষ হলো ৩দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কনভেনশন।’ সমাপনী দিবসে কনভেনশনের প্রধান অতিথি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এটি ভয়ংকর একটি সমস্যা। এথেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখার জন্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। একইসাথে পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা জানাতে হবে দেশত্যাগী রোহিঙ্গা এবং বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশীরা যাতে শীঘ্রই পরিত্রাণ লাভে সক্ষম হন।’ টেক্সাস অঙ্গরাজের হিউস্টন এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউঅর্লিন্সে ভয়াবহ হারিকেন ও জলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে ক্ষতিগস্তদের পাশে দাঁড়াতেও প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। বাংলাদেশ কনভেনশনের মাধ্যমে প্রবাস প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে রাখার এ উদ্যোগের নেপথ্য সংগঠকদের তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এভাবেই প্রতিটি প্রবাসী যে বাংলাদেশের বিশেস দূত, তার সাক্ষ্য রাখছেন।’ এ সময় মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ কনভেনশনের উদ্যোক্তা ও কনভেনর আলমগীর খান আলম, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে বেলোজিনো মিলনায়তনের ভেতরে ও বাইরের এ কনভেনশনে সর্বস্তরের প্রবাসীর সমাগম ঘটে। এতে অনুষ্ঠিত সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ অবসানে মার্কিন ও জাতিসংঘ প্রশাসনে লবিং জোরদারের পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহবান উচ্চারিত হয়। ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠা প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত রাখতেও বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করা হয় এবং কম্যুনিটিভিত্তিক সম্প্রীতি জোরদারকল্পে সকলকে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার আহবান জানান বক্তারা।
ঈদুল আযহার দিন সন্ধ্যায় কোরবানী পশুর মাংস দিয়ে ডিনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু এ কনভেনশনে কিংবদন্তী কন্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করেন সহযোদ্ধা ও কন্ঠযোদ্ধারা। কনভেনশনের মূলমঞ্চের সামনে এই শিল্পীর ছবি রেখে সকলে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন করেন সদ্য প্রয়াত এই শিল্পীর প্রতি। এ সময় সম্প্রতি ইন্তেকাল করা আরেক কন্ঠযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ ও লাকী আকন্দের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেমিনার ও আলোচনায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা এম এ সালাম এবং গিয়াস আহমেদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, কম্যুনিটি লিডার শাহনেওয়াজ ও বিলাল চৌধুরী প্রমুখ।
প্রবেশ মূল্যহীন এই কনভেনশনের বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ৩ কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর এবং শহীদ হাসান, প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিন, সেলিম চৌধুরী, মুক্তা সারওয়ার, বিউটি দাস, শাহ মাহবুব, সাইরা রেজা, শাহরিন সুলতানা, জাকারিয়া মহিউদ্দিন, মীরা সিনহা প্রমুখ। সম্মেলনের বাইরের খোলা মাঠে বসেছিল খাদ্য কাপড়ের স্টল। ছিল চুরি আর গহনার স্টলও। নানা বয়েসী ছেলে-মেয়েরা ঈদ-উৎসবে এ কনভেনশনে আসায় ৩দিনই বর্নাঢ্য এক আমেজ ছড়িয়ে ছিল জ্যাকসন হাইটস এলাকায়।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।