Tuesday, September 26, 2017

নিউইয়র্ক : যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন শাহরিয়ার কবীর। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্থান বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ‘প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটির করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনার ৩ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ইষ্ট লন্ডনের চার্চহীল কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্য ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সেমিনারে কী-নোট স্পীকার ছিলেন লেখক-সাংবাদিক, মানবাধিকার নেতা ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘নাৎসী বাহিনী কর্তৃক গণহত্যাসহ বিশ্বব্যাপী প্রতিটি গণহত্যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও বাংলাদেশে তিন মিলিয়ন মানুষকে হত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। বিশ্ববাসী বিষয়টি জানলেও ১৯৭৫ পরবর্তিতে এ বিষয়ে কোন কূটনৈতিক তৎপরতা হয়নি, বরং ‘৭৫ পরবর্তি সরকারগুলো বাংলাদেশকে পাকিস্থানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিল।’ শাহরিয়ার কবীর উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, শীর্ষ অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তারপরেও কথা থেকে যায়, যেসব মানবতা বিরোধী অপরাধী মারা গেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি।’ আইন করে এদেরও বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন আইন রয়েছে, ইচ্ছে করলে যে কেউ প্রমাণসহ এসব বিষয়ে মামলা করতে পারে।’
‘এখনও আমরা যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামাতের বিচার করতে পারিনি’। মানবতা বিরোধী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের দাবী জানান শাহরিয়ার কবীর।
যুক্তরাজ্য ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির অনরারী প্রেসিডেন্ট ইসহাক কাজলের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এনামুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীন সাংবাদিক-কলামিস্ট, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে তার ব্যবস্থা সরকারীভাবে করতে হবে। দেশের মানুষ যাতে ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের দিকে ধাবিত না হয় সেলক্ষ্যে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা জরুরী।’
বৃটেনে পালিয়ে থাকা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মইনুদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দন্ড কার্যকর করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান জনপ্রিয় এই কলামিস্ট।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জামাল খান। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আনসার আহমেদ উল্লাহর সাবির্ক তত্ত্ব¡াবধানে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির স্মৃতি আজাদ, শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, নারী নেত্রী হোসনেয়ারা মতিন প্রমূখ।
সেমিনারে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি মতিয়ার চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পুস্পিতা গুপ্তা, গণজাগরণ মঞ্চের অজয়ন্তা দেব রায়, সাবেক কাউন্সিলর ও নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা নুরুদ্দিন আহমদ, স্মীথ ব্যাকার, শাহানা আখঞ্জি প্রমুখ।

 

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা September 7, 2017 at 2:52 pm

Why so late with this demand? We did it long time ago and submitted to The UNO under the leadership of Doctor Prodip Ranjan Kar. Still try hard and I am sure UNO will come up with positive action.

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।