Tuesday, October 17, 2017

শেখ হাসিনা

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতিসংঘে ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪দিনব্যাপী কর্মকান্ডের আলোকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এক প্রেস ব্রিফিংকালে বলেছেন, ‘এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং সে আলোকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বসভায় জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বাস্তবতার আলোকে এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে কিছু প্রস্তাবও পেশ করবেন।’ উদ্ভ’ত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ অবসানের লক্ষ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, এমনকি মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘সামগ্রিকভাবে, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও সুসংহত করবে। একই সাথে, জাতিসংঘের হাত ধরে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বহুমুখী সফলতা ও অবদানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আগামী ১৮-২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক আসছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে তিনি ৫২ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম হচ্ছে ‘ফোকাসিং অন পিপল : স্ট্রাইভিং ফর পীচ এ্যান্ড ডিসেন্ট লাইফ ফর অ্যল অন এ সাসটেইনেবল প্ল্যানেট’। এটি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে বিধৃত বৈশ্বিক অভিষ্ট লক্ষ্যের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
মাসুদ বলেন, ‘এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ হতে এ বিষয়ে যে প্রেস বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে তা সকলেই দেখেছেন। এটি গত ৯ বছরে নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক মিয়ানমার বিষয়ে প্রদত্ত প্রথম বক্তব্য। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘে উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবো। একাধিক আরও কারণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।’
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা নবম বছরের মত এবার আসছেন জাতিসংঘে। শেখ হাসিনার কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মাসুদ জানান, ‘বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সংহতি রক্ষাকল্পে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব জাতিসংঘ সংস্থার কার্যক্রমের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগের সঙ্গে আমরা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের অধিকাংশই সংহতি প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্কারের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানদের সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।’ মাসুদ জানান, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শান্তিরক্ষী এবং জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে Sexual Exploitation and Abuse এর কিছু নজীর আছে। এ বিষয়ে নতুন মহাসচিব অত্যন্ত সোচ্চার। শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশসমূহ সহ এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে ‘সার্কেল অব লিডারশিপ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে চাচ্ছেন মহাসচিব। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যμমে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাত্র ৪ জন রাষ্ট্র/সরকার প্রধান এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং শেখ হাসিনা তার অন্যতম।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শান্তিরক্ষা কার্যμমে যৌন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কঠোর নীতিগত অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
একইদিন অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ডিল-জিআই ফলো আপ’ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী টেকসই শিল্পায়ন, শোভন ও যথোচিত কর্ম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে মহাসচিবের ‘হাই লেভেল প্যানেল অন উইমেন্স ইকনোমিক এম্পাওয়ারমেন্ট’-এ একজন প্যানেলিষ্ট হিসেবে বক্তব্য দেবেন। কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, আইএমএফ প্রধানসহ বিশ্বের কয়েকটি স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানীর প্রধানগণ এতে বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অর্জনসমূহ তুলে ধরবেন।
একই দিনে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা তথা ওআইসি কর্তৃক রোহিঙ্গা বিষয়ক কন্টাক্ট গ্রুপের একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টসহ ওআইসি দেশসমূহের নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জোরালো সমর্থন কামনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০সেপ্টেম্বর ‘প্রহিবিশন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পক্ষ হতে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
একই দিনে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএনডিপি এবং ইউএন অফিস অন সাউথ সাউথ কোঅপারেশন এর সহযোগিতায় ‘এসডিজি বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং তদারকি : সাউথ সাউথ এবং ট্রায়াঙ্গুলার সহযোগিতায় উদ্ভাবনী কর্মকান্ডে অংশিদারিত্ব’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করবেন। এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট, নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডস এর প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি দেশের মন্ত্রীগণের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ‘এসডিজি ট্র্যাকার’ উদ্বোধন করবেন। এর পরপরই সেখানে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রাইভেট সেক্টর কর্তৃক অর্থায়ন বিষয়ক আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশ। এ আয়োজনে সহায়তা দিচ্ছে কানাডা এবং ইউএনডিপি। এ পর্বে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সোস্যাল ইমপেক্ট ফান্ড’ উদ্বোধন করবেন। ইউএনডিপির প্রশাসক ছাড়াও উগান্ডা, বেনিনসহ কয়েকটি দেশের মন্ত্রীবর্গ এতে বক্তব্য প্রদান করবেন।
২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা কার্যμম বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে μমাগত উন্নতি তুলে ধরবেন এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপর জোর দেবেন।
২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও শেখ হাসিনা বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র সুসংহত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্য গাঁথার বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে। ‘রূপকল্প ২০২১’-এর আলোকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে সরকার যে ইতিমধ্যে কার্যμম শুরু করেছে, সে বিষয়ে
আলোকপাতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশাগুলোও তাঁর বক্তৃতায় থাকবে বলে
আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি কিছু বৈশ্বিক বিষয়ক যেমন: মধ্যপ্রাচ্য সংকট, পারমানবিক নির ̄¿ীকরণ, সাইবার সিকিউরিটি, মানব পাচার রোধ, সুনীল অর্থনীতি, জাতিসংঘের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত তুলে ধরতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
এছাড়াও ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘পানি সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল’ এর একটি বিশেষ বৈঠকে এই প্যানেলের একজন মনোনীত সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২১
এপ্রিল ‘২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডা’র পানি সম্পদের প্রাপ্যতা ও ব্যবস্থাপনা এবং সকলের জন্য সেনিটেশন নিশ্চিতকরণ
সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ‘প্যারিস চুক্তি-তে পানি সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এই প্যানেলটি গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে অস্ট্রেলিয়া, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস,
মরিশাস, মেক্সিকো, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল ও তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি/ প্রধানমন্ত্রী এই প্যানেলের সদস্য হিসেবে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের
সাথে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা বিষয়ে মত-বিনিময় করবেন। এই বেঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে
বাংলাদেশ থেকে আসা একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যোগ দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র/ সরকার প্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের আইটি বিষয়ক খ্যাতনামা
কিছু কোম্পানীর প্রেসিডেন্ট/সিইও এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি রিসেপশন, কমনওয়েলথ সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানদের
সম্মানে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রিসেপশন ও জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করবেন।
২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় যাবেন। সেখানে তার একমাত্র পুত্র ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় একান্তই পারিবারিক সময় কাটাবেন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, এর আগেও শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপনের পর ভার্জিনিয়ায় পুত্র-পুত্রবধূ এবং নাতিদের সাথে পারিবারিক-অবকাশ যাপনের জন্যে অবস্থান করা সত্বেও অন-লাইনে ঢাকায় তার গুরুত্বপূর্ণ কাজও সম্পন্ন করেছেন। এবারও তেমনটি ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ সংবাদদাতাকে নিশ্চিত করেছেন। ভার্জিনিয়ায় অবস্থানকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কোন কর্মকর্তার সাথে শেখ হাসিনার বৈঠকের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, ‘ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলতে পারবেন সে সম্ভাবনার কথা।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, বাংলাদেশ মিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও ছিলেন এ সময়। অপরদিকে, নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও ঢাকা থেকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন কভার করতে আসা সাংবাদিকরাও ছিলেন এ ব্রিফিংয়ে।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের ফাঁকে প্রবাসীদের দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে বক্তব্য দেবেন ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। সর্বস্তরের প্রবাসীর সমন্বয়ে এ সংবর্ধনার আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এছাড়া, ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের সময় বাইরে আওয়ামী পরিবারের নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রবাসীরা শান্তি-সমাবেশ করবেন। একইভাবে ১৭ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর শেখ হাসিনাকে বিপুলভাবে অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের লোকজন।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।