Tuesday, October 17, 2017

নিউইয়র্ক : রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ অবসান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সকলকে নিরাপদে নিজ জন্মস্থানে ফিরে যাবার পরিবেশ তৈরীর জন্যে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট টাকেডা আলেমু।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের সাথে ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন একান্ত বৈঠক করেন।
প্রেসিডেন্ট টাকেডা বলেন, ‘তাঁর (শেখ হাসিনা) উচিত হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে লবিং জোরদার করা, বিশেষ করে চীনের সহায়তা দরকার। কারণ, মিয়ানমারের ব্যাপারে চীন খুবই সংবেদনশীল। খুবই ‘সেনসেটিভ’। এছাড়া, বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে তৎপর মহলও বেশ সজাগ। এ বিষয়টি খুবই সচেতনতার সাথে হ্যান্ডেল করতে হবে। কেয়ারফুল্লি এ্যান্ড সিরিয়াস।’
মিয়ানমার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘে সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন ড. মোমেন। মোমেন তকে জানান যে, চলতি সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরনার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন। সে সময় দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি তাদের ওপর চালানো বর্বরতা সম্পর্কেও অবহিত হন শেখ হাসিনা। এ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখন কী করা উচিত সে পরামর্শ চাইলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট এ অভিমত পোষণ করেন।
সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আগে কখনোই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ কাউন্সিল ঐকমত্যে উপনীত হতে পারেনি। গত বুধবারের বৈঠকে সেটি সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। সিকিউরিটি কাউন্সিলের এমন দৃঢ়চেতার বিকল্প ছিল না। যদিও এখনও কোন রেজ্যুলেশন করা সম্ভব হয়নি। কিংবা সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টও বিবৃতি দেয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে বিস্তারিত বিবরণী প্রকাশ করা। এরপরই হয়তো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রশ্নে সিকিউরিটি কাউন্সিলে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হবে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে আরো আলোচনার ভিত্তিতে। তবে এখনও ওপেন চেম্বারে আলোচনার পরিবেশ তৈরী হয়নি।’
প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, ‘সিকিউরিটি কাউন্সিলের সকল সদস্যই এখন অনুধাবনে সক্ষম হয়েছেন রাখাইনের বাস্তবতা, বর্বরতা। এজন্যে সকলেই উদ্বিগ্ন। যদিও এখনো কেউ কেউ অং সান সু চি’র সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলছেন। আবার কেউ কেউ মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসনের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন। এমনি অবস্থায় আমাদের কাজ করতে হচ্ছে রাখাইনের অধিবাসীদের প্রটেকশনের জন্যে। এবং চলমান পরিস্থিতি আরো গুরুতর আকার ধারণ করার আগেই সকলকে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটি সুবিধা হয়েছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব এ ইস্যুতে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছেন। জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনার রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান বর্বরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পর মহাসচিব মিয়ানমার প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।’
প্রেসিডেন্ট আরো উল্লেখ করেন, ‘সিকিউরিটি কাউন্সিল এখন পর্যন্ত যতটুকু করেছে, তা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের জাতিগত অধিকার ও নিজ জন্মস্থানে নিরাপদে ফিরে যাবার প্রশ্নে সিকিউরিটি কাউন্সিলকে আরো অনেক কিছু করতে হবে। সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টকে এ ইস্যুতে বিবৃতি দিতে হবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর। এরপরই তা নিয়ে সাধারণ অধিবেশনে বিতর্ক শুরু হতে পারে।’ উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ। ১ অক্টোবর থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ফ্রাঞ্চের স্থায়ী প্রতিনিধি। সেদিকে আলোকপাত করে
সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট টাকেডা বলেন, ‘কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে চীনের সমর্থন দরকার। একইসাথে, আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যুর সাথে মিয়ানমার ইস্যুকে একিভ’ত করলে সমস্যার সমাধান বিলম্বিত হতে পারে।’
এ সময় তিনি জানতে চান যে, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন? ‘খুবই চমৎকার’-জানান ড. মোমেন। এরপর প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই সম্পর্ককে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে এ সমস্যা দীর্ঘ হতে পারে।’
এ বৈঠকের শুরুতেই ড. মোমেন তাকে জানান, ‘আমি এখন বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সিকিউরিটি কাউন্সিলে একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পর রাখাইন স্টেটে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মিয়ানমারকে আহবান জানানোর জন্যে।’
রাখাইনের নিরস্ত্র মানুষ, বিশেষ করে অসহায় নারী ও শিশুরাও বর্বরতার শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এমন অমানবিক পরিস্থিতির অবসানে জাতিসংঘের বলিষ্ঠ ভ’মিকার ভীষণ প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. মোমেন। ড. মোমেন যে সময় নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলছিলেন, তখোন জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে রোহিঙ্গা নির্যাতনকারিদের বিচার এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ-র‌্যালি হচ্ছিল। এ র‌্যালির সমাপ্তি ঘটে জুমআর নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। হাজারো মানুষ এতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য যে, ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ‘জালালাবাদ বিশ্ব সিলেট সম্মেলন’-এ যোগদানের জন্যে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। তিনি তার পুরনো সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র সেমিনারের প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ড. মোমেন। ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য’ অর্জনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র প্রভাব’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী নৌ-ভ্রমনে। আর এই নৌ-ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গি সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের সৌজন্যে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।