Thursday, October 19, 2017

কানাডা : টরন্টোর একটি মন্দির পরিদর্শনকালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। ছবি- এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন পেলেই তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবকিছু করা হবে। কারণ, আমরা কেউই আইনের উর্দ্ধে নই। সকল নাগরিকের আইনগত অধিকার সুরক্ষার মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহত হয়’-এ অভিমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। অসুস্থ কন্যাকে দেখার জন্যে কানাডায় অবস্থানকালে গত শুক্রবার ১৫ সেপ্টেম্বর টরন্টো এয়ারপোর্টে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলাপকালে প্রধান বিচারপতি আরো বলেছেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতিরজনককে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা সুসংহত করতে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে অনেক অগ্রসর সাধিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরো মজবুত করতে সকলকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
নিউইয়র্ক থেকে টরন্টোতে গিয়ে সাক্ষাতকারীদের অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নব্যেন্দু বিকাশ দত্ত এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে রোববার রাতে এসব তথ্য জানান। নব্যেন্দু দত্ত উল্লেখ করেন, ‘প্রধান বিচারপতি আমার শৈশব-কৈশরের বন্ধু। একই এলাকার মানুষ বিধায় তিনি যখনই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কানাডায় আসেন তখোনই তার সান্নিধ্য পাই। এবারও তেমনিভাবে তার সাথে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণভাবে নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। এস কে সিনহা আইনের শাসনের অগ্রগতিতে বর্তমান সরকারের সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সবকিছু চলছে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী।’
প্রধান বিচারপতির সাথে সাক্ষাত করা অপর ঘনিষ্ঠজন হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ। এ বিষয়ে শিতাংশু গুহ-এনআরবি নিঊজকে বলেন: ‘উনি আমার দাদা, বড়ভাই। পারিবারিকভাবে আমরা সম্পর্কযুক্ত। কানাডায় অসুস্থ মেয়েকে দেখতে আসছেন জেনে আমরাও তার সাথে দেখা করতে যাই।’
সিনহার সাথে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে শিতাংশু গুহ বলেনঃ ‘আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের কথাবার্তাও সাধারণ। তবে আমরা চাই আমাদের দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ভালো থাকুক, এগিয়ে যাক। এই সরকার আমাদের, বিচার বিভাগও আমাদের। আমরা চাই দেশের কল্যাণে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিরাজ করুক।’
এস কে সিনহা ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার অপরাহ্নে জাপানের উদ্দেশ্যে টরন্টো ত্যাগ করেছেন বলে সেখানকার কম্যুনিটি লিডার অরুন দত্ত জানান। এর আগের দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার টরন্টোর বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু কালচারাল সোসাইটি ও হিন্দু মন্দির পরিদর্শন শেষে মন্দিরের কর্মকর্তা ও ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘নিজেকে সবাই নেতা মনে করে। আমরা কাউকে মানি না। এটা আমাদের খেয়ে ফেলবে।’
তিনি মন্দিরের কর্মকতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা টরন্টোতে আছেন, আপনাদের মধ্যে একতা থাকতে হবে।’
প্রধান বিচারপতি ম্যানিটোবায় (টরন্টো থেকে এক হাজার মাইল দূর) মেয়ের সাথে কয়েক দিন কাটিয়ে জাপান যাওয়ার পথে টরন্টোতে যাত্রা বিরতি করেন। এই সময় তিনি ব্যক্তিগত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের সাথেই কেবল সময় কাটান। কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বা মিডিয়ার সাথে কথা বলতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান বলে অরুন দত্ত উল্লেখ করেন। তিনি কেবলমাত্র এই হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করেন। হিন্দু মন্দির পরিদর্শনের সংবাদটি টরন্টোস্থ একটি ওয়েব পোর্টালেও ছবিসহ স্থান পেয়েছে।
মন্দিরের পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রধান বিচারপতিকে মন্দিরে স্বাগত জানান এবং ফুল দিয়ে বরন করেন। তিনি মন্দিরের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং মন্দির পরিচালিত স্কুল অব হিন্দুইজম ঘুরে দেখেন।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘নীতিশাস্ত্র বলে পরিবারের একজন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে তিনি বাকী সদস্যদের সেই আলোয় আলোকিত করবেন, অন্যদের একই দৃষ্টিতে দেখবেন। যদিও অনেকেই উপরের অবস্থানে আছেন কিন্তু তারা আত্মকেন্দ্রিক। এটা ভালো কিছু না।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং শিক্ষিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হচ্ছে পরিবারের অন্য সদস্যদের, নিজের পাড়া,গ্রাম, শহর পর্যায়ক্রমে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা।’
তিনি বিভিন্ন ধর্মানুসারীদের নিজেদের মধ্যে নানা ভাগে বিভক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকলেও নিজ নিজ ধর্মের প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ। ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা নানাভাগে বিভক্ত, কিন্তু ‘উম্মার’ প্রশ্নে তারা এক। পৃথিবীর একপ্রান্তে তাদের উপর আঘাত এলে অপরপ্রান্তে প্রতিক্রিয়া হয়, ইহুদি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও এই ঐক্য আছে।’
তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্ম হচ্ছে সনাতন ধর্ম। এই ধর্ম এক সময় অত্যন্ত প্রতাপশালী ছিলো। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ঐক্যহীনতার কারণে ধীরে ধীরে এই ধর্মানুসারীরা প্রতাপ হারিয়েছেন।’

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।