Tuesday, October 17, 2017

নিউইয়র্ক : গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল লবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য গ্লোবাল পীচ-শেখ হাসিনা’, চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ শেখ হাসিনা’, ‘চ্যাম্পিয়ন অব হিউম্যান রাইটস-শেখ হাসিনা’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি-শেখ হাসিনা ওয়েলকাম’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বিশ্বশান্তির অগ্রদূত-শেখ হাসিনা’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় জেএফকে এয়ারপোর্টে দলীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে টানা নবম বছরের মত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এলেন । ইতিহাদ এয়ারলাইন্সে তিনি তার সফরসঙ্গিসহ রোববার অপরাহ্নে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। এ সময় অত্যন্ত প্রফুল্ল এবং হাস্যোজ্জল ছিলেন শেখ হাসিনা। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি সকলের কুশলাদিও জানতে চান।
এয়ারপোর্ট থেকে প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি বহর সহ শেখ হাসিনা ম্যানহাটানে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে উঠেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হোটেলে অবস্থান করেই তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। হোটেল লবিতে শেখ হাসিনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ।


নিউইয়র্ক : জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের স্লোগান। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর থেকে অপরাহ্ন সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনাল ছিল প্রবাসীদের দখলে। শতশত প্রবাসীর হাতে ছিল শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর প্লেকার্ড-পোস্টার-ব্যানার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের ব্যানারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী-পুরুষেরা। আগের মত এবারও বিএনপির পক্ষ থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাড়া মেলেনি। ২৫/৩০ জনের মত জড়ো হয়েছিলেন কিন্তু আওয়ামী পরিবারের হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতির কারণে কাল পতাকা প্রদর্শনের অস্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। যদিও বিএনপির হুমকি-ধামকির কারণে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব-মানবতার নেতায় পরিণত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনও এখন তাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করছে। দল-নিরপেক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতির কারণেই বিএনপি পাততাড়ি গুটিয়েছে। এটি শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের বিজয়।’
জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে স্বাগত-সমাবেশে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘জনতার জোয়ার দেখে বিএনপি-জামাতীরা উধাও হয়ে পড়েছে। এথেকেই ওদের শিক্ষা নিয়ে জ্বালাও-পোড়াও আর সন্ত্রাসের রাজনীতি পরিহার করা উচিত।’
স্বাগত-সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারমান নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, লুৎফুল করিম, শামসুদ্দিন আজাদ, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান এবং আবুল কাশেম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সভানেত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, যুব সম্পাদক মাহাবুর রহমান টুকু, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা তারেকুল হায়দার, সেবুল মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মফিজুর রহমান, মাসুদ হোসেন সিরাজি ও আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মমতাজ শাহানা, সবিতা দাস প্রমুখ।
অপরদিকে, লন্ডন থেকে গ্রীণ সিগন্যাল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অধ্যাপক দেলোয়ার-গিয়াস-জিল্লুর-বাবুল-বাতিন- জাকির-সাঈদ গ্রুপের কেউই জেএফকে এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেননি। এদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে বাবু-মিল্টন-জসীম গ্রুপ জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনসহ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্ত তা সফল হয়নি। এক ধরনের হতাশায় এই গ্রুপের কর্মীরা জেএফকে ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। অপর গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জানান, সাড়ে বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এরপর প্রায় প্রতি বছরই আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কমিটি দেয়া হয়নি। এ নিয়ে নেতা-কর্মীরা প্রচন্ড হতাশায় রয়েছেন এবং এরই নিরব প্রতিবাদ হিসেবে জেএফকে এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ দেখাতে যাননি সিংহভাগ কর্মীই। তবে অধ্যাপক দেলোয়ার-গিয়াস-জিল্লুর-বাবুল-বাতিন-জাকির-সাঈদ গ্রুপের পক্ষ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সময় এ বিক্ষোভ দেখাবে বিএনপি, যুবদল, তারেক পরিষদ, জাসাসের নেতা-কর্মীরা।

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা September 19, 2017 at 10:10 am

Hon’ble PM, you did a great job for our people. Did you bring anything for Dr Siddiq

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।