Jan 16, 2018

নিউইয়র্ক : নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ হাসিনা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : নিউইয়র্কে এযাবতকালের বিশাল এক নাগরিক-গণসংবর্ধনা সমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী সামনের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দেবেন প্রার্থীর আচার-আচরণ এবং সামগ্রিক গুনাবলী বিবেচনা করে। বড় গাড়ি, বাড়ি আর টাকা দিয়ে ভোট পাওয়া যাবে না। জনগণের মন জয় করেই নির্বাচনে জিততে হবে। গত ৮ বছরে যে অর্জন সে সব বিস্তারিতভাবে এলাকার মানুষের কাছে জানাতে হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমার এই বার্তা নিজ নিজ এলাকার নেতাদের কাছে পৌছে দিন। কারণ, সামনের নির্বাচনে সকল ভোটার তার ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই নির্বাচিত করনে।’ এ সময় তিনি তার ভাগ্নি বৃটিশ এমপি টিউলিপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘জনপ্রিয়তা কীভাবে বাড়াতে হয় সে হচ্ছে তার অনন্য উদাহরণ। প্রথম নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে সে জয়ী হয়েছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের সে ব্যবধান ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বৃটেনে ভোট চুরি করা সম্ভব নয় অর্থাৎ টিউলিপ তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সব সময় ভোটারদের মন জয় করতে সচেষ্ট থেকেছে।’ শেখ হাসিনা আরেকটি মৌলিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলেন, ‘এলাকাবাসী গভীর পর্যবেক্ষণ রাখেন তার নেতা বানানোর ক্ষেত্রে। তাই দলীয় নেতা-কর্মীদের সন্তানরাও যাতে প্রতিবেশীদের সাথে সৎ-সম্পর্ক এবং ভালো আচরণ করে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেন, “আমি আমার এমপিদেরও বলেছি, আপনারা দেখেন, শেখেন। কীভাবে ভোটারের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা যায়। ওই বড় বড় গাড়ি-বাড়ি হলেই ভোটাররা ভোট দেবে না। ভোটারের সমস্যা জানতে হবে। সেগুলোর সমাধান করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে আপনজন ভাবতে হবে। আগামীতে নির্বাচন। এই ইলেকশনটা বিরাট চ্যালেঞ্জ, এটা মনে রাখতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সামনেই নির্বাচন আসছে। আমাকে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের ভোট পেতে হবে। জনগণ যেন পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চাই।’
১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া এ নাগরিক সংবর্ধনা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে হোটেল ম্যারিয়ট মারকুইসের বলরুমে। আগের বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবার সুধীজনের প্রবেশ পথকে সুবিন্যস্ত করার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের আসনবিশিষ্ট হলরুম ভাড়া করায় কোন ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি কাউকেই।
নিউইয়র্কে বসবাসরত ৩ কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর এবং শহীদ হাসানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেন। তবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয় প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব কর্তৃক ‘মুজিব বাইয়া যাওরে’ গান দিয়ে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ সভাসহ নিউইয়র্কে তাঁর ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রবাসীদের ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাস দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’ তাঁর প্রতি প্রবাসীদের ভালোবাসার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের এ ভালোবাসাই তাঁকে প্রেরণা জোগায়। এ সময় তিনি প্রবাসীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। প্রতিটি খাতে দেশের উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সময় আমাদের যারা ক্ষুধা আর ভিক্ষুকের দেশ মনে করত, এখন তারা সম্মানের চোখে দেখে। বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন প্রধান বক্তা। তবে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন খুবই স্বল্প সময় এবং সংক্ষেপেই অনেক কথা বলেছেন তার নানার ভঙ্গিতে। জয় বলেছেন, ‘প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। বাংলাদেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, বিদ্যুতের অভাব নেই। আমরা এখন পাশের দেশের (রোহিঙ্গা)নাগরিকদের সাহায্য করার কথা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি।’
জয় উল্লেখ করেন, ‘মালয়েশিয়াকে আজকের পর্যায়ে আনতে সে দেশের মানুষ মাহাথির মোহাম্মদকে ২০ বছর ক্ষমতায় রেখেছিলেন। ২০১৪ সালের আগের নির্বাচনে অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আমাদেরও একজন মাহাথির দরকার। আমি এখন গর্বভরে সকলকে জানিয়ে দেই যে, আমাদের মাহাথিরতো (তার মা শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে) আমাদের সামনেই আছেন।’ এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা বিপুল করতালিতে মেতে উঠেন এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানান।
এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আইরিন পারভিন, ফারুক আহমদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুর রহিম বাদশা, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন ভ’ইয়া এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, শ্রমিক লীগ সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য শাখার নেতারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ মঞ্চে উপবেশন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনে এক বেলা খেয়েও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে, কিন্তু এই শরণার্থীদের যে ফিরিয়ে নিতে হবে, সে কথা মিয়ানমারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “মিয়ানমারকে আমরা বলেছি, আপনাদের নাগরিক, তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে নিরাপদ রাখতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে। তাদের ওপর জুলুম অত্যাচার চলবে না।”
তিনি বলেন, “তাদের (মিয়ানমার) ওপর যেন চাপ সৃষ্টি হয়। তাদের নাগরিক তারা ফেরত নিয়ে যাবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে। সেটাই আমরা চাই।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে দুর্ভাগ্য যে, মিয়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা, এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি যেখানে সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে দলে দলে মানুষ এসেছেৃ আমরা কী করব? মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে।”
কক্সবাজারে গিয়ে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশা দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কেবল নিজেদের কথা মনে হয়েছে। আমরাও তো একদিন এইভাবে ওই হানাদার পাকিস্তানিদের কারণে এ ঘর থেকে ওঘরেৃ আমাদের আশ্রয় খুঁজে বেড়াতে হয়েছে। আমাদের ঘড়বাড়ি সব জ্বালিয়ে ছারখার করেছে। সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে।
“আমাদের দেশের মানুষও তো আশ্রয় নিয়েছিল। ভারতে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ছিল। আজকে যখন তারা বিপদে পড়েছে, অবশ্যই তাদের জায়গা দিতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেছে, এত মানুষের খাবার দেবেন কীভাবে? আমি তাদের একটা কথাই বলেছি; ১৬ কোটি মানুষ আমাদের। এই ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাবার দিতে পারি তাহলে এই সাত-আট লাখকে খাবার দিতে পারব না?”
বাংলাদেশের মানুষকে ‘অনেক উদার’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রয়োজনে তারা একবেলা খাবে। অন্যবেলার খাবার এই আশ্রিত মানুষকে তুলে দেবে সেই মানসিকতা তাদের আছে। আমরা সেখানে লঙ্গরখানা খুলে দিয়েছি, চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।”
“কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতেই হবে,” জোরের সঙ্গে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটুক, তা বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে দেওয়া হবে না- সরকার তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
“আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। দেশের মানুষের কল্যাণ চাই। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আমরা করতে চাই। কাজেই সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ সমুন্নত রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করাৃ আমরা সেই ব্যবস্থা নিতে চাই।”
রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকে জাতিসংঘে যাদের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে, প্রত্যেকেই কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সচেতন।
শেখ হাসিনা কয়েক ঘন্টা আগে ওআইসির এক শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জাতিসংঘে ওআইসির এক বৈঠকে আমি প্রশ্ন রেখেছি, আজকে মুসলমানরা কেন রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়ায়? আপনারা সকলে কেন এক হন না? কেন সকলে ঐক্যবদ্ধ হন না?”
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন খাতের আগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন।
“আমরা দেশের উন্নতি চাই। আর তারা মানুষকে পুড়িয়ে মারে। ধ্বংসাত্মক কাজ ছাড়া তারা আর কিছুই করতে পারে না।”
টানা ৪০ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং তার দুই পুত্রের বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম, ঘুষ, দুর্নীতি, এতিমদের অর্থ চুরির অভিযোগ সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ এগিয়ে যায়, আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।

 

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা September 20, 2017 at 10:50 am

বংগবন্ধুর ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল বলেই আজ বাংলাদেশ এবং সিদ্দিকুর রহমান ও নিজাম চৌদ্ধুরীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা। তারা শেখ হাসিনার সামনে ভাষন দেন কিন্তু সেই মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি নেই কেন? শেখ হাসিনা কি ঐ নেতাদেরকে নিষেধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দাওয়াত না করার জন্য, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সন্মান দেখানোর জন্য?

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন