Dec 15, 2017

নিউইয়র্ক : সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সি আর দত্তের সাথে ৬ সহযোদ্ধা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা ইজ দ্য বেস্ট। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানেও শেখ হাসিনা অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। শান্তির জন্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই’-এমন অভিমত অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পোষণ করলেন বাংলাদেশের নবগঠিত বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ-বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) সি আর দত্ত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক (জে. অব) সিআর দত্ত বীর উত্তমের বয়স এখন ৯০ বছর। বাস করছেন নিউইয়র্কে তার কন্যা মহুয়া দত্তের বাসায়। সেখানেই তার সাথে গত রোববার কথা হয় ৩ কন্ঠযোদ্ধাসহ ৬ মুক্তিযোদ্ধার। বয়সের ভারে আক্রান্ত সি আর দত্তের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের কাছে পেয়ে যারপর নাই আনন্দবোধ করেন সাবেক এই জেনারেল।
বয়সের কারণে অনেক কিছুরই খেই হারিয়ে ফেললেও বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ব্যাপারে মনোযোগ কমেনি বিন্দুমাত্র। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা উঠতেই জেনারেল দত্ত বললেন, ‘শেখ হাসিনা যা করছেন সেটিই সঠিক। দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান এবং রোহিঙ্গাদের সসম্মানে দেশে ফিরে যাবার পরিবেশ তৈরীর জন্যে শেখ হাসিনা যে সব পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আহবান রেখেছেন-সেটিই যখার্থ উদ্ভ’ত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে।’
‘সবকিছু সমঝোতার মধ্য দিয়েই করা উচিত। তাহলে সমাধানের অস্তিত্ব স্থায়ী হয়’-উল্লেখ করেন এই জেনারেল।
মুুক্তিযুদ্ধের এই সেক্টর কমান্ডারের সাথে সাক্ষাত করা সহযোদ্ধারা ছিলেন রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর, শহীদ হাসান, আবুল বাশার চুন্নু, রাশেদ আহমেদ এবং লাবলু আনসার।
নিউইয়র্ক সিটিতে দক্ষিণ এশিয়ানদের রাজধানী হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটসে চ্যানেল আই ভবন থেকে গাড়ি চালিয়ে ২০ মাইল দূর ওয়েস্টচেষ্টারে মহুয়া দত্তের বাসায় পৌঁছার পরই সি আর দত্ত সকলকে স্বাগত জানালেন। নির্জন পরিবেশ, শরৎকালের শিশির স্নাত স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় তৈরী হলো ভিন্ন এক আমেজ। বাসায় ঢুকতেই সিআর দত্তের কন্যা মহুয়া দত্ত, কানাডা প্রবাসী কন্যা চয়নিকা দত্ত, নাতনী অঞ্জলি দত্ত আন্তরিকতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানালেন।
মুক্তিযুদ্ধের এই অকুতোভয় সৈনিক এখন অবসর জবীন-যাপন করছেন। কখনও কানাডা, কখনও বাংলাদেশ, আবার কখনও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বেশির ভাগ সময়েই তিনি তার নিউইয়র্ক প্রবাসী কন্যা মহুয়া দত্তের এই বাড়িতেই অবস্থান করেন। সহযোদ্ধা দের দেখে মুগ্ধ হন, অভিভূত হন জেনারেল দত্ত। আর বারবার রসিকতা করে বলতে থাকেন, ‘আমি কিন্তু গান গাইতে পারবো না।’ কারণ, ৩ কন্ঠযোদ্ধার সাথে অন্যদেরকেও তিনি প্রাথমিক দৃষ্টিতেই গায়ক মনে করেছিলেন। ‘বিখ্যাত জনপ্রিয় সব শিল্পীরা আমাকে দেখতে এসেছে, এটা আমার জন্যে অত্যন্ত গৌরবের’-বলেন জেনারেল দত্ত।
এ সময় সবাই মিলে তার হাতে একগুচ্ছ ফুল তুলে দেন। এক ফাঁকে ফকির আলমগীর তার লেখা একটি গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুরা’ পরম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে দেন। তিনি সকলকে অনেক আশির্বাদ করেন। তার সান্নিধ্যে তাকে জড়িয়ে ঘরের ভেতরে বাইরে অনেক ছবি উঠানো হয়।
এখানেও তার স্বভাবসুলভ রসিকতা, নাতনীকে বলছিলন- ফকির আলমগীরের চুলের ছবি ঠিক মতো তুলেছ কিনা। পরিবারের সবাই হেসে একাকার, ‘তুমি যেখানে আমাদের নামও কখনও কখনও ভুলে যাও, সেখানে ফকির আলমগীরের নাম ঠিক মনে রেখেছ।’ এ সময় ফকির আলমগীর স্বগত:উচ্চারণ করেন, তিনিআমার এতো বড় ভক্ত তা জানা ছিল না।’
সাক্ষাত শেষে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘এই মহীরুহসম কিংবদন্তিতুল্য মুক্তিযোদ্ধার কাছে আমরা শরতের সকালে ছুটে গিয়েছিলাম আমাদের আবেগ আর ভালোবাসার কথা জানাতে। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভাবনা জানতে।’
সি আর দত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সকলের প্রতি আকুল আহবান জানালেন, ‘জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের উর্দ্ধে রাখতে হবে। একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার যে কর্মযজ্ঞ চলছে তা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তাকে দেখে মুক্তিযোদ্ধাদের মনে হয়েছে, দেশের প্রতি বুকভরা ভালোবাসা আর আন্তরিকতা আজও চির অম্নান।

 

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা September 26, 2017 at 9:37 pm

৭১ সনে যারা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়েছিলেন তারা আবার মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে হলো? তারা যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন তবে যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং বিনিময়ে একটা পয়সাও প্রবাসী সরকারের কাছ থেকে পায়নি তারা কি? তাদেরকে কি রাজাকার আখ্যা দিব? জেনারেল সি আর দত্তের সাথে দেখা করে তারা নিজেদেরকে সহযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে কি তারা তাদের দাবী (মুক্তিযোদ্ধা হবার) কেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন না? সবাইকে অনুরোধ করবো এই প্রক্রীয়ার বিরোধীতা করার জন্য।

Leave a Comment

মহিউদ্দিন স্মরণে দোয়া মাহফিল

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): চট্টাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এক বিবৃতিতে এই শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত ভোর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন ইন্তেকাল করেন। খবর ইউএনএ’র।
এদিকে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন রাত ৯টায় জ্যাকসন হাইটসের নিউ মেজবান রেষ্টুরেন্টে এই দোয়া মাহফিল হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।