Thursday, October 19, 2017

                                                                            শেখ হাসিনা

মধুমতি পারের কন্যার উপাখ্যান: নদীর নাম মধুমতি- কোকিল ডাকা ছায়া ঢাকা গ্রামবাংলার এই মধুমতি পারের এক কন্যা দুঃখিনী বাংলার বাঙালিদের মন জয় করে এখন বিশ্ববাসীর মন জয় করে চলেছেন- যে কোনো বিশ্ব সম্মেলনে এই কন্যার উপস্থিতি ছাড়া যেন আন্তর্জাতিক সম্মেলনই বেমামান বা ফাঁকা ফাঁকা মনে হয়- আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্যোগতাগণ মধুমতি পারের এই কন্যাকে আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণ করে নেওয়ার জন্য এবং সেই দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার জন্য হন্যে হয়ে বাংলার বুকে ছুটে আসছেন- কিন্তু এমন কি ক্যারিশমা তাঁর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে যে তাঁকে নিতে পারলে বা তাঁকে সর্বোচ্চ পুরস্কার ও সম্মাননা দিতে পারলে তাদের জীবন তথা সবকিছুই সার্থক মনে করছে সবাই! ক্যারিশমাতো অবশ্যই আছে- এই মধুমতি পারের কন্যার উপাখ্যান নিয়েই আজ আলোকপাত করবো- যিনি হলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক ও বাংলাদেশের জাতির পিতা শতাব্দীর মহাপুরুষ রূপকথার প্রবাদ পুরুষ আবহমান বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা- যার নাম হলো শেখ হাসিনা- তাঁর মাতার নাম বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব। দাদা শেখ লুৎফর রহমান এবং দাদী সায়েরা খাতুন।

বাঙালি জাতির জনকের কন্যা গণতন্ত্রের মানস কন্যা বিশ্ব দরবারে বাঙালির তথা বাংলাদেশের নবপরিচয়ের রূপকার দেশরত্ন শেখ হাসিনা- যাকে ১৯৮১ সালে ‘অবলা নারী’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল- অথচ সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না- আজ তিনি বিশ্বকে হতবাক করে গঙ্গা পানি চুক্তি, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, ছিটমহল বিনিময়, গণতন্ত্র, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধান করে একের পর এক বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে অনন্য ও ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করেছেন- একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব আজ সব উচ্চতা ছাড়িয়ে বিশ্বনন্দিত- বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন- তিনি হলেন এখন বিশ্বনেতা।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শরৎকাল! “মেঘ বলেছে ‘যাব যাব’, রাত বলেছে ‘যাই’,/ সাগর বলে ‘কূল মিলেছে- আমি তো আর নাই’।” হ্যাঁ, শরতের মনোমুগ্ধকর এমনি একটি দিনে শান্ত-স্নিগ্ধ শিশির ভেজা শাপলা, পদ্ম, টগর, কামিনী, মালতি, জবা, হাসনাহেনা ও শিউলিঝরা শরৎ প্রাতের সমীরণে নরম সুরেলা সুরের মূর্ছনা উঠিয়ে- শুভ্র কাশবনে মৃদু দোলা দিয়ে নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে সবার মনে পুলক জাগিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একটি শিশুর আগমন ঘটে- সেই শিহরণ জাগা প্রকৃতির শুভ্র কোমল শরতের ছোট্ট শিশুটিই আজকের শেখ হাসিনা। তাঁর বাল্যশিক্ষা সেখানকার পাঠশালা থেকেই শুরু। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনা প্রথমে পুরান ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনের একটি বাসায় থাকতেন। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে থাকেন।

১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমে ঢাকার টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়- কারাবন্দি পিতার অবর্তমানে বড় সন্তান হিসেবে মায়ের সঙ্গে মিলে ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং বোন শেখ রেহানাকে স্নেহ-মায়া-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন।

১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গালর্স কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। স্কুল জীবনেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৬২-তে স্কুলের ছাত্রী হয়েও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজিমপুর গার্লস স্কুল থেকে তার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট গালর্স কলেজে অধ্যায়নকালে ১৯৬৬-১৯৬৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। কলেজ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু তার রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা এবং সে বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। ’৬৯-এর গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী থাকা অবস্থায় বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছে। উল্লেখ্য ড. ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে ২০০৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করার জন্য স্বাধীনতা-উত্তরকালে শেখ হাসিনা ইডেন কলেজে নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাসা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। দুই ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল বাসা থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের ঢাকার ধানমন্ডির ১৮ নং সড়কের একটি একতলা বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় জন্মলাভ করে। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে মিত্রবাহিনী বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে শেখ হাসিনাকেও মুক্ত করে। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্ম হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্য ও প্রযুক্তি উন্নয়নে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ যে এত দ্রুত ডিজিটাল হতে পেরেছে এজন্য জয়-এর অবদান অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অটিজম এবং নিওরোডেভলোপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কমিটির চেয়ারপার্সন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে অটিজম বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)র চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী বিশ্বাসঘাতকের হাতে ধানমন্ডী ৩২ নং রোডের বাড়িতে সপরিবার বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে নিহত হন। ওই সময় তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা স্বামী প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে তারা রেহাই পান। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তাদেরও খুঁজছিল। সামরিক জান্তা দেশে ফেরার ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করলে বাধ্য হয়ে স্বামী-সন্তানসহ শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য হয়ে ভারতে আসেন। এখানেই শুরু হয় তাদের নির্বাসিত জীবন এবং মৃত্যুর বিভীষিকা নিয়ে কাটে শেখ হাসিনার দুঃসহ ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন। অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও অনিশ্চিয়তার মধ্যে কাটে দীর্ঘ ছয় বছর।

১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৬ বছর পর নির্বাসন শেষে সব হারানোর বেদনা নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি যখন বাংলার মাটিতে পা দেন, তখন লক্ষ লক্ষ জনতা অশ্রুসিক্ত নয়নে তেজগাঁও বিমানবন্দরে সমবেত হয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী মধুমতি পারের কন্যাকে বরণ করে নিয়েছিল এবং প্রকৃতিও সেদিন অঝোরে কেঁদেছিল- অর্থাৎ সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।

শেখ হাসিনাকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াতে বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ পড়তে হয়- ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ’! তিনি দিনরাত পরিশ্রম করছেন বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রথম দফায়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় এবং ২০১৪ থেকে তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

১৯৯৬ সালে ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে এবং ২৩ জুন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ একুশ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন আবার ক্ষমতায় আসে- তাঁর সরকারের আমলেই ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত হয় ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। প্রমত্তা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধু সেতু। বাংলাদেশ অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা- দারিদ্র্য হ্রাস পায়- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া সর্বোপরি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে তিনি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০৮ সালের নবম সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন এবং ১৯৮৬ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও পার্বত্য জনসংহতি সমিতির প্রধান গেরিলা নেতা সন্তু লারমার সাথে এক ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ১৯৯৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারী চুক্তি অনুযায়ী খাগড়াছড়ি ষ্টেডিয়ামে শান্তিবাহিনীর ৭৩৯ সদস্যের প্রথম দলটি সন্তু লারমার নেতৃত্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অস্ত্র সমর্পণ করেছিল- সন্তু লারমা নিজে শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন এবং উভয় নেতা এই শান্তি চুক্তিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দেন। উল্লেখ্য ১৯৯৮-তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে আইরিশ রিপাবলিকানদের সশস্ত্র বিদ্রোহ বন্ধে বৃটিশ সরকার ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির সাথে এক ঐতিহাসিক শান্তি চূক্তি হয়- ঐ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বার বার বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ হয়- বৃটিশ সরকার বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেছিল শান্তির চুক্তির জন্য আমরা বাংলাদেশকে অনুসরণ করছি- বিবিসি-তে বাংলাদেশের উদাহরণ উল্লেখ করে সারাদিনব্যাপী এটা প্রচার করা হয় এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশের কথা প্রচার হয়ে যায়- কিন্তু সবচেয়ে অবাক কাণ্ড নোবেল কমিটির কাছে শান্তি-কন্যা শেখ হাসিনার সে শান্তির চুক্তির খবর তখনো পৌঁছেনি!

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে একাধিক শক্তিশালী ‘আর্জেস গ্রেনেড’ মেরে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি ভারতের সরবরাহকৃত ‘থারটি সিক্স হ্যান্ড গ্রেনেড’ দিয়ে- অথচ শক্তিশালী ‘আর্জেস গ্রেনেড’-এর কাছে ‘থারটি সিক্স হ্যান্ড গ্রেনেড’ বাচ্চাদের খেলনাও না! যুদ্ধ ছাড়া সাধারণ মানুষের উপর শক্তিশালী ‘আর্জেস গ্রেনেড’ নিক্ষেপ পৃথিবীতে এই প্রথম। শেখ হাসিনার নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন দিয়ে তাদের নেত্রীকে সেদিন রক্ষা করেন। নিজেদের জীবন দিয়ে একটি দলের প্রধানকে রক্ষা করার নজির বিশ্বের ইতিহাসে আর আছে কি না জানিনা।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট বিপুলভাবে জয়লাভ করে। এককভাবে আওয়ামী লীগই লাভ করে তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। গঠিত হয় মহাজোট সরকার। শুরু হয় রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের কাজ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদান আজ আর্ন্তাজাতিকভাবে স্বীকৃত- বিশ্বজনীন শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই কোথাও। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও সমাদৃত। এর জন্য তিনি বহু পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন- এখানে বিশেষভাবে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

ক্ষুধার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা ২রা আগস্ট, ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সিইআরইএস’ মেডেল দিয়ে ভূষিত করে।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর গ্রেট ব্রিটেনের ডান্ডি অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিবারেল আর্টস’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি শান্তি, গণতন্ত্র ও উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘নেতাজী মেমোরিয়াল পদক ১৯৯৭’ প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ‘পল হ্যারিস ফেলো’ নির্বাচিত করে এবং ১৯৯৬-৯৭ সালের সম্মাননা মেডেল প্রদান করে।

একই বছর লায়ন্স ক্লাবসমূহের আন্তর্জাতিক এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক শেখ হাসিনাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

১৯৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী আয়োজিত এক বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১২ই এপ্রিল, ১৯৯৮ সালে অল-ইন্ডিয়া পিস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের জন্য ‘ইউনেস্কো’ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘ফেলিক্স হোফে বোইনি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

১৯৯৮ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অবস্থিত মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশন সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, অহিংসা, সামাজিক বোঝাপড়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসলোভিত্তিক এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশান তাঁকে ‘এম কে গান্ধী’ পদক প্রদান করে।

১৯৯৯ সালে ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানস্বরূপ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা কর্তৃক শেখ হাসিনা ‘সেরেস পদক’ লাভ করেন।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদানের জন্য ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে  সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ উপাধি প্রদান করে।

৯ই এপ্রিল ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রেনডল্প ম্যাকন ওমেন্স কলেজ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য, সাহস এবং অর্জনের জন্য ‘পার্ল এস. বাক’ পুরস্কার প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানেটিকাট-এর ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস’ ডিগ্রি প্রদান করে।

২০০০ সালে আফ্রো-এশিয়ান লইয়ার্স ফেডারেশন ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করে।

২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করে। কৃষি খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতি থেকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং খাদ্যশস্যে উদ্বৃত্তের জন্য এ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

২০০৫ সালের জুন মাসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির স্বপক্ষে অবদানের জন্য রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডস ইউনিভার্সিটি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

শেখ হাসিনা ২০১০ সালে নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০ নারীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন।

১২ই জানুয়ারী, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ এবং উন্নয়ন এর জন্য তার নিরন্তর সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক ২০০৯’ প্রদান করা হয়।

২০১০ সালের ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএন ক্ষমতাধর ৮ এশীয় নারীর তালিকা প্রকাশ করেছিল- সেই তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা।

শিশুমৃত্যুর হার ৫০% কমিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে এই স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতির পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সেন্ট পিটার্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ‘অনারারি ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করে। বাংলাদেশের উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার জন্য এ পদক দেওয়া হয়।

২০১০ সালে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনায় জাতিসংঘ ‘এমডিজি অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার প্রদান করে। শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

২০১১ সালে প্যারিসের ডাউফিন ইউনিভার্সিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক ও ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করে। শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকার জন্য এ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ), সাউথ-সাউথ নিউজ ও জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন যৌথভাবে স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জনের জন্য ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১১: ডিজিটাল ডেভেলোপমেন্ট ফর ডিজিটাল হেল্থ’ শীর্ষক পুরস্কার প্রদান করে।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকোউ, এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে তাঁর অসামান্য ভূমিকার জন্য এ ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থানে, ফোর্বসের করা ২০১৬ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ৩৬তম স্থানে আছেন তিনি।

২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি ত্রিপুরা(আগরতলা)সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের স্বীকৃতিসরূপ সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

২০১২ সালে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ‘কালচারাল ডাইভারসিটি পদক’ প্রদান করে।

২০১২ সালে বন ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের জন্য ইকুয়েটর পুরস্কার, ওয়াঙ্গারি মাথাই পুরস্কার এবং আর্থ কেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভায় ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব পাস হয়।

২০১৩ সালের ১৬ জুন দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূরীকরণে অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

২০১৩ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের জন্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৩’ পুরস্কার প্রদান করে।

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযু্ক্তি মেলায় সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক ‘ম্যানহাটন অ্যাওয়ার্ড ২০১৩’ পদক লাভ করেন।

২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নে অবদানে জন্য ইউনেস্কো ‘শান্তি বৃক্ষ পুরস্কার’ (ট্রি অব পিস) প্রদান করে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে এই স্মারক তুলে দেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক স্মারকটি হস্তান্তর করার আগে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন জোড়ালো বক্তা। রাজনৈতিক ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সাফল্যের জন্য বিশ্ব খাদ্য সংস্থা শেখ হাসিনাকে ‘ফাও অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

২০১৪ সালের ২১শে নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়। বাংলাদেশে তৃণমূলপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু, সর্বসাধারণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বিশ্বের দরবারে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এই পুরষ্কার গ্রহণ করেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার পান।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ তারিখে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ’ পুরষ্কারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ ইত্যাদিসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সামগ্রিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করে ‘পলিসি লিডারশিপ’ শাখায় তাকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ২৫ মার্চ রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় শেখ হাসিনাকে ডব্লিউআইপি (উইমেন ইন পার্লামেন্ট) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ৭০তম অধিবেশনে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ লাভ করেন ৷

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিশ্বের শীর্ষ ১শ’ চিন্তাবিদদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরেন পলিসির ২০১৫ সালের ওই তালিকায় তাঁর নাম ১৩ তম অবস্থানে উঠে আসে।

২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

একই বছর ২৪ মার্চ আমেরিকার খ্যাতনামা ফরচুন ম্যাগাজিনের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের তালিকায় দশম স্থানে উঠে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফরচুন ম্যাগাজিন তাকে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র নারী নেতা আখ্যায়িত করে।

মার্কিন অপর খ্যাতনামা সাময়িকী ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৬ সালের ৬ জুন প্রকাশিত বিশ্বের ক্ষমতাধর ১শ’ নারীর তালিকায় ৩৬ নম্বরে উঠে আসেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ‘ইউএন ওম্যান’। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অফ চেঞ্জ’ পুরস্কারে ভূষিত করে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল নারীকে এই অর্জন উৎসর্গ করেন।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন অনেক- এখন শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা শুধু সময়ের দাবি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অং সান সুচী-র দেশ মায়ানমার থেকে আসা লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক কারনে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন শেখ হাসিনা- লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় ও মানবিক আচরণের জন্য ব্রিটিশ মিডিয়া শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ তথা ‘মানবতার জননী’ বলে আখ্যায়িত করেছে- যা মুহূর্তে সারা বিশ্বে প্রচার হয়ে যায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে এই মমতাময়ী মা আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেছেন, “তারাও (রোহিঙ্গা) মানুষ এবং মানুষ হিসেবেই তাদের বাঁচার অধিকার রয়েছে। তারা কেন এত দুঃখ কষ্ট ভোগ করবে?” তিনি আরো বলেন, “আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরও ২/৫/৭ লাখ মানুষকেও (রোহিঙ্গা শরণার্থীকে) খেতে দিতে পারবো।”- এখানে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে কীভাবে কোন ভাষায় সম্ভাষণ করবো! সে সম্ভাষিত ভাষা আমার মনে হয় বাংলা অভিধানে নেই! গণতন্ত্রের মানস কন্যা দেশরত্ন শান্তিকন্যা বিশ্বজননী শেখ হাসিনার চরণে ঠাঁই পাবার আশায় জাতিসংঘ বলেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। রোহিঙ্গারা বিশ্বজননী তথা ‘মানবতার জননী’-র কাছে ছুটে আসছে অন্ততপক্ষে এই আশায়- “আঁধারের ভ্রুকুটিতে ভয় নাই, মাগো তোমার চরণে জানি পাবো ঠাঁই”।

সারা বিশ্বের নির্যাতিত বিশেষ করে দুঃখিনী বাংলা মা ও বাঙালির জন্য এই মমতাময়ী মা জননী হচ্ছেন আশীর্বাদ। তাই বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পাবেন না তো কে পাবেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার? এখন প্রশ্ন জাগছে ‘শান্তিতে নোবেল পুরস্কার’ তুমি কার জন্য? তবে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার না পেলেও তেমন কিছু একটা আসে যায় না- শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অবিরাম লড়াই করে চলেছেন।

শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং নিয়মিত পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করে থাকেন। একজন ধর্মপ্রাণ হিসেবে প্রতি প্রত্যুষে তাহাজ্জুদের ও ফজরের নামাজ আদায় করে তবেই দিনের কাজ শুরু করেন। দৈনিক পত্রিকা পড়া এবং বই পড়া তাঁর নিয়মিত অভ্যাস। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বই পড়ার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করে থাকেন। এরই মধ্যে তাঁর রচিত একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে- তাঁর লেখার বিষয়বস্তু স্বদেশ ভাবনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন, আগামীর রূপরেখা ও মানবতাবোধের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’, ‘কেন তারা পথশিশু’, ‘স্বৈরতন্ত্রের উৎপত্তি’, ‘যেতে হবে অনেক দূর’, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং কিছু চিন্তাভাবনা’, ‘জনগণ এবং গণতন্ত্র’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম’, ‘গণমানুষের উন্নয়ন’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদাকালো’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’, ‘মাইলস টু গো, দ্য কোয়েস্ট ফর ভিশন-২০২১’ (দুই খন্ড)। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও মানবতার সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্র-এর তিনি সভাপতি। লায়ন্স ক্লাব, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বাংলাদেশ অন্ধকল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য। মরণোত্তর চক্ষু দান করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলা একাডেমির সদস্য। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন ক্রীড়ামোদী- এরকম ক্রিকেট-প্রেমী প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীতে খুব কমই আছেন- আন্তর্জাতিক খেলায় বাংলাদেশ টিমকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করেন। শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে পারিবারিকভাবে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রেহানাসহ বাড়ির আঙ্গিনায় ক্রিকেট খেলতেন- সবসময় শাড়ি পড়া অবস্থায় ক্রিকেটে শেখ হাসিনাকে কেউ কোনোদিন বোল্ড আউট করতে পারেনি তবে ক্যাচ আউট হয়েছেন।

দুঃখিনী বাংলার নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে বার বার নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে ১৫ দিন অন্তরীন করে রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাঁকে দুই দুইবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে আটক করে তিন মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে টানা ১৫ দিন গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফতার করে তাকে এক মাস আটক রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করে গৃহবন্দি রাখা হয়। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে আটকে রাখা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে প্রায় এক বছর সাব-জেলে আটকে রাখে।

বর্তমানে শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। জনগণের কাছে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন শেখ হাসিনা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। এর আগে পদ্মাসেতুর ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের কড়া শর্তের কাছে বঙ্গবন্ধু কন্যা নতজানু হননি এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সাহসের সঙ্গে একাত্তরের ন্যায় গেরিলা কায়দায় যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছেন- এ ঐতিহাসিক বিজয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে কি?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ আজ এক বিস্ময়ের নাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে আমূল বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনার ফলে সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে সফলতা। বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নে শীর্ষ পাঁচ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে শুধু খাদ্য উদ্বৃত্তই নয়, খাদ্য রপ্তানির দেশে পরিণত হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সুযোগ-সুবিধাসহ রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান, বিধবা ভাতা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার, ঘরে ফেরা কার্যক্রম, দুস্থ ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পোঁছে দেওয়া হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহের ফলেই একাত্তরের নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরে সাড়ে ৩৫০ নটিক্যাল মাইলজুড়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ৬৮ বছরের অমীমাসিংত ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে।

শেখ হাসিনার মতো এরকম সর্বহারা দুঃখিনী প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না- ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের সকলকে হারিয়ে একেবারে অসহায় এতিম হয়ে পড়েছিলেন- এই দুঃখিনী মা জননী এখন বাংলার জনগণকে নিয়ে বেঁচে আছেন। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “কেউ কল্পনা করতে পারেন, এক পরিবারের ১৬ জন মানুষ কে হত্যা করে ফেলার পরেও বেঁচে থাকা এক মেয়ে সোনার বাংলার স্বপ্নকে সফল করতে লড়াই করে চলেছে!”

মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী জাতির এবং তাঁর পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের জন্য দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন এবং বর্তমানে তিনি শুধু বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রনায়ক নন- তিনি এখন বিশ্বনেতার প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছেন। ২০১৬তে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর মাত্র পাঁচ দিন ওয়াশিংটনে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় কাটান প্রধানমন্ত্রী- গত ৩৫ বছরে ইতিহাসে এই প্রথম তিনি ব্যক্তিগত ছুটিতে টানা পাঁচ দিন কাটালেন। তারপরও এই ছুটিতে থাকা অবস্থায়ও তিনি অফিসিয়াল ৫১টি ফাইল স্বাক্ষর করেছেন। ২০১৭তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭২ তম সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেশ কিছু জরুরি গুরুত্বপূর্ণ  ই-ফাইল(ইলেক্ট্রোনিক ফাইল)   ডিজিটালি স্বাক্ষর করেছেন।- তাই এখন মনে হচ্ছে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’ আবহমান বাংলায় এই প্রবাদ প্রবচনটি শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই প্রযোজ্য।

বঙ্গবন্ধুর রক্ত তাঁর ধমনীতে প্রবাহমান- পিতার অনেক আদর্শই শেখ হাসিনা পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন তাই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সন্তান হিসেবে ১৬ কোটি বাঙালি তথা বিশ্বের ত্রিশ কোটি বাঙালির হৃদয়জুড়ে রয়েছেন তিনি- দুঃখিনী বাংলা মা এবং বাঙালির জন্য এই মমতাময়ী মা জননী শেখ হাসিনা হচ্ছেন আশীর্বাদ- যিনি বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সুদৃঢ় লক্ষ্যস্থির নিশ্চিত করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মসহ কোটি কোটি বাঙালি আবারো একটি সুন্দর স্নিগ্ধ সোনালি সকাল অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলা, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার জন্য অধীর আগ্রহে বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত শান্তি-কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিকে চেয়ে আছে এবং সেই আশায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তাঁর ৭০তম শুভ জন্মদিনে স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশফুল শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তাঁর দীর্ঘায়ু-সুস্বাস্থ্য কামনা করে অনুভূতি প্রকাশ করবো রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ঠিক এভাবেই- “আজি দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী-/ তোমার অভয় বাজে হৃদয়মাঝে হৃদয়হরণী!/ ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!/ তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।”

 

 

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা; ২ নং সেক্টর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

2 Comments

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা September 27, 2017 at 10:15 pm

হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে আমার অভিনন্দন এই সুন্দর লেখনীর জন্য। আমার হাযার বছরের চেষ্টায়ও এমন লেখা উপস্থাপন করতে পারবো না।

Farouk Waheed October 1, 2017 at 12:51 am

সাঈদ মুক্তিযোদ্ধা, আপনি যে ধৈর্য সহকারে পড়েছেন- এজন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ! অবশ্য দেখতে হবে তো আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এখনতো আবার মানুষের পড়ার সময় নাই- না পড়েই সমালোচনা করে।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।