Dec 15, 2017

নিউইয়র্ক : রায় ঘোষণার পর ঘাতক রাসেলকে আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময়ের ছবি। ছবি- এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মাহমুদ দুলাল (৫৭)কে গলা কেটে জবাইয়ের মামলায় আরেক বাংলাদেশী যুবক মোহাম্মদ রাসেল সিদ্দিকী (৩০)কে ২৫ বছরের কারাদন্ড দিলো নিউইয়র্কের আদালত। ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ব্রুকলীন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নীল ফিরেটোগ এ রায় প্রদানের সময় রাসেল ছিলেন ভাবলেশহীন। উল্লেখ্য, গ্রেফতারের পর থেকে বিচারের শেষদিন পর্যন্ত রাসেল নিজের দোষ স্বীকার করেন। এহেন নৃশংসতায় দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি জড়িত নন বলেও উল্লেখ করেন।
২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে ধারালো তরোয়াল দিয়ে দুলালকে জবাই করা হয়। সন্দ্বীপের সন্তান দুলালের ভাড়াটে ছিলেন রাসেল। রাসেলের বাড়ি নোয়াখালী। তিনি দুলালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেসমেন্টে থাকতেন। সেখানেই দুলালকে হত্যা করে রাসেল বাংলাদেশে পলায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু নিউইয়র্কের পুলিশ সে চেষ্টা ব্যর্থ করে ৮ জানুয়ারি ( হত্যার দুদিন পর) তাকে জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারের পর জামিন পাননি রাসেল।
রায়ের পর ব্রুকলীনের ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী (ভারপ্রাপ্ত) এরিক গঞ্জালেজ গণমাধ্যমকে জানান, রাসেল কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছেন। ৩ সন্তানের জনক দুলালকে হত্যা করে যে অপরাধ করেছেন তার প্রায়শ্চিত্য তাকে করতে হবে। কারাদন্ডের মেয়াদ শেষে রাসেলকে আরো ৫ বছর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে অতিবাহিত করতে হবে।
মামলার রায়ের সময় দুলালের শিশু সন্তানসহ দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও স্বামীকে যে আর ফিরে পাবেন না-এটি উচ্চারণ করেন কাঁদতে থাকেন। এ সময় পরিচিতজনেরা তাকে শান্ত¦না দেন।
ব্যাচেলর ভাড়াটে কর্তৃক এমন নির্দয়ভাবে বাড়ির মালিককে হত্যার ঘটনায় কম্যুনিটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। হত্যার মোটিভ নিয়ে সে সময় নানা কথা রটলেও রাসেল বরাবরই একই কথা জানিয়েছেন মাননীয় আদালতকে যে, ‘সময় মতো ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি বলে সব সময় দুলাল আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছ্বিল্য করতেন, এটি সহ্য হয়নি। সেজন্যেই তাকে আমি হত্যা করেছি।’
এটি একজন মানুষকে হত্যার একমাত্র কারণ হতে পারে না ভেবে মাননীয় আদালত রাসেলকে বেশ কয়েক মাস মানসিক অবজার্ভেশনে রেখেছিলেন। চিকিৎসাও দেয়া হয়। কিন্তু রাসেলের কথাও কোন হেরফের ঘটেনি।

 

0 Comments

Leave a Comment

মহিউদ্দিন স্মরণে দোয়া মাহফিল

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): চট্টাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এক বিবৃতিতে এই শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত ভোর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন ইন্তেকাল করেন। খবর ইউএনএ’র।
এদিকে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন রাত ৯টায় জ্যাকসন হাইটসের নিউ মেজবান রেষ্টুরেন্টে এই দোয়া মাহফিল হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।