Tuesday, October 17, 2017

 

ফ্লোরিডা : বিজনেস পাওয়ার লাঞ্চে বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ছবি- ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ফোবানার ৩১তম বাংলাদেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৭ অক্টোবর শনিবার দুপুরে মায়ামী হায়াত রিজেন্সী হোটেলে প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধির অভিপ্রায়ে চমৎকার একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো।
‘বিলিভ ইন বাংলাদেশ-ইনভেষ্ট ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই ‘বিজনেস পাওয়ার লাঞ্চ’-এ প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
আমেরিকায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এবং মার্কিন বিনিয়োগকারিদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব আজ অবাক বিষ্ময়ে বাংলাদেশের সাফল্য দেখছে। বাংলাদেশ এমন সাফল্য লাভ করবে কেউ কোনদিন ভাবতে পারেনি। এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির হিসাবে উল্লেখ করতো। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আজ তার আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের নিরাপদ একটি স্থানে পরিনত হয়েছে।’ ব্যারিস্টার মাহমুদ বলেন, ‘বন্যা, ঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্বেও বারবার বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় প্রদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাঙালিরা বিশেষ এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।’
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে পনিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমৃদ্ধি এবং লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টায় শরিক হওয়ার সময় এসেছে।’
বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের দেয়া সুবিধাদি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইন করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাক্স হলিডে, যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর রেয়াত, রয়্যালটির রেমিটেন্স, শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত প্রত্যাহার নীতি, লভ্যাংশ ও পুঁজি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ওষুধ শিল্প দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ৯২টি দেশে রফতানি হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীনও এ সময় বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এ২আই’র পলিসি এডভাইজার আনির চৌধুরী মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতাপূর্ণ সহায়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আনির চৌধুরী বলেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমির সার্বিক কল্যাণে আগ্রহী প্রবাসীরা ৩ ভাবে সহায়তা করতে পারেন। প্রথমত: উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারী হিসেবে, দ্বিতীয়ত: সেবামূলক প্রকল্প গ্রহণ এবং তৃতীয়ত: প্রবাসের অভিজ্ঞতা নিজ দেশের উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা। আনির চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘গল্পের মত মনে হলেও বাংলাদেশে এখন অনেক কিছুই বাস্তব। সেই আলোকে মাতৃভ’মির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিটি প্রবাসীর কিছু না কিছু করা উচিত।’
প্রধান আলোচক ছিলেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমিও প্রবাসী ছিলাম। অর্থাৎ এনআরবি ছিলাম। এখন আরবি হিসেবে অবস্থান করছি বাংলাদেশে। আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দেশে ফিরে লাখ টাকায় একটি গাড়ি ক্রয় করেছি। অবশিষ্ট দেড় লাখ টাকায় ব্যবসা আরম্ভ করেছিলাম মধ্যপ্রাচ্যে। এভাবেই ক্রমান্বয়ে আজকের অবস্থানে উন্নীত হতে পরেছি প্রবাসের অভিজ্ঞতায়। এখন আমি আর এনআরবি নই, আরবি।’
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাসের আলোকে অপর আলোচক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী ভারতীয় প্রবাসীদের প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেই ব্যাংকটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। সে আলোকেই আমি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি এবং প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’
গত দেড় দশকে ১৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশীকে মার্কিন আইটি সেক্টরে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবার উপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান ‘পিপল এন টেক’র প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ বলেন, ‘৩ বছর আগে ঢাকায় পিপল এন টেক ইন্সটিটিউট চালু করেছি। অভিবাসন মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন-এমন উদ্যমী বাংলাদেশীদের সেখানেই মার্কিন আইটি সেক্টরে চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ’র পরিপূরক বিভিন্ন প্রকল্পেও কাজের চেষ্টা করছি। আমি ধৈর্যের সাথে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আর এভাবেই বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে কিছু করতে আগ্রহবোধ করছি।’
ইঞ্জিনিয়ার হানিফ বলেন, ‘১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। এখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে যারাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন, তারাই লাভবান হচ্ছেন।’
আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন একিউজিশনের সিইও মাইক পাটেল, এনএইচসিজি গ্রুপের সিনিয়র এসোসিয়েট উইলিয়াম হ্যামিলটন, জিআরপি ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার রিক পাটেল, আলফা কন্সট্রাকসনের সিইও মাইক সারোনা প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার প্রবাসীদের মহামিলন মেলা হিসেবে পরিচিত ‘ফোবানা’র এ আয়োজনটি সকলের হৃদয় স্পর্শ করেছে। শুধু গান আর আড্ডা নয়, মাতৃভূমিতে প্রবাসীদের বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টিকারী এমন আলোচনা অন্য সব সমাবেশেও করা উচিত বলে অভিমত পোষণ করেছেন ফোবানার নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও এনআরবি বিজনেস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া চৌধুরী।
এই আলোচনা প্রসঙ্গে বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান বলেন, ‘ফেলে আসা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে প্রতিটি প্রবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। ফোবানার সম্মেলনে এমন আলোচনা তারই বহি:প্রকাশ ঘটালো।’

 

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা October 8, 2017 at 4:08 pm

ফোবানার এই শ্লোগান দেখে হাসি পায়। তারা এই সংগঠন কি বাংলাদেশকে ভালবেসে তৈরী হয়েছিল? যারা এর সাথে জড়িত তাদের কতজনের শেকড় বাংলাদেশে আছে? এদেশীয় সংগঠনে তাদের জায়গা নেই বলেই ফোবানা নাম দিয়ে বাংগালীদের একটা প্লাটফরম তৈরী করেছিল। যদি এ কথা সত্য না হয়ে থাকে তবে উত্তর দিন, “নামকরন ফোবানা কেন? ফোবানা কি বাংলা কোনো শব্দ?

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।