Dec 15, 2017

কানাডা : টরন্টোতে মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন্নবীর গ্রন্থ-আলোচনার মঞ্চে লেখকের সাথে বিশিস্টজনেরা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী রচিত ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থ নিয়ে টরন্টোয় স্থানীয় মিজান কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। দীর্ঘ ছুটির শনিবার সন্ধ্যায় অডিটোরিয়ামে একে একে শ্রোতাদর্শক পিনপতন নীরবতায় শুনলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অসমসাহসী কাহিনীর সাথে গ্রন্থে উল্লেখিত অনেক অজানা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর প্রামাণিক বয়ান।
‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাশিল্পী সালমা বাণী, সাহিত্যিক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, কবি ড. দিলারা হাফিজ ও লেখক ড. নূরন নবী। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।
কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ড. নূরন নবী শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই না বরং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীও। ভাবা যায় একজন বিজ্ঞানী ড. নূরন নবীর আবিষ্কৃত পেটেন্টই ৫৫ টি! ভাগ্যিস আমরা তাঁকে কাছে পাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি পরিহার করে, বৈষম্য ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখনই আমাদের জাতীয় স্বার্থে সকলে মিলে কাজ করা ছাড়া এতো বড় ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের সফলতার স্বাধীন বাংলাদেশের সাফল্য পাওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই।’
কথাশিল্পী সালমা বাণী বলেন, ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি সাহিত্যমর্যাদায় যেমন উত্তীর্ণ, তেমনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনাহীন’।
লেখক সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘নিজে অনেক ঘটনার সাথে জড়িত; এমনকি স্বয়ং ঘটনার নায়ক হয়েও কীভাবে ‘আমি’কে আড়াল করতে হয় লেখক এই গ্রন্থে তা দেখিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অনেক নায়কের অনেক কালো অধ্যায় ও ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। নিজের দ্বিধান্বিত মনে অনেক প্রশ্ন জমা ছিল। উত্তর পাইনি। এই বইটি পাঠ করে সেই উত্তর যেমন পেয়েছি; তেমনি মনে জমে থাকা অনেক সংশয় দূর হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ বলেন, ‘এই অমর কাহিনীগল্প শুধুই গল্প নয়; একটি জাতির ইতিহাসও। এই গ্রন্থের কাহিনীকার এমন এক ব্যক্তি যিনি ষাটের দশক থেকে ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।’ তাজুল মোহাম্মদ সবাইকে আহবান জানান যার যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতি আছে, ঘটনা আছে বা গল্প আছে তা এখনই লিপিবদ্ধ করে রাখতে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের অনেক অজানা কাহিনীর অসামান্য বর্ণনার এই গ্রন্থটি রচনার জন্য ড. নবীকে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে অভিবাদন, অভিবাদন, অভিবাদন।’
কবি ড. দিলারা হাফিজ বলেন, ‘হৃদয় ছোঁয়া বর্ণনায় আমাদের সবচেয়ে গৌরবের দিনগুলোর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সংকলন এই ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি। আমার কাছে ড. নূরন নবী শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন; আমার স্বামী কবি রফিক আজাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আলাদা মর্যাদায় আসীন। আমি তাঁকে অভিবাদন জানাই এই গ্রন্থটি রচনার জন্য।’ কবি রফিক আজাদের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট না নিয়ে পরবর্তীকালে যে বিড়ম্বনা তিনি ভোগ করেছেন তা থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং বংশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মর্যাদার জন্য হলেও ড. নবীকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করে রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড. নূরন নবীর ভগ্নিসম কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীর বোন সেলিনা সিদ্দিকী সুশু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক শিল্পী সৈয়দ ইকবাল।
ড. নূরন নবীর সহধর্মিণী মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবী তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘ড. নূরন নবীর সাথে পরিচয়, পথ চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে। ছাত্র রাজনীতির দুটি আদর্শিক দলের সাথে আমরা দুজন যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আমাদের পারস্পরিক সম্মান-শ্রদ্ধা প্রকাশে দলের ভিন্ন আদর্শ কখনোই বাঁধা হয়নি। নবীর আচরণেই এই সম্মানবোধটা প্রকাশ হয়ে পড়তো। আমরা দুজনেই দুইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলাম। দুজনেই পিএইচডি করতে জাপান যাই। আমাদের পথ চলা একই গন্তব্যকে কেন্দ্র করে, আমরা দুজন সারা জীবনের বন্ধু!’
মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবীর বক্তব্যের পর মিলনায়নের সকলে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
সবশেষে লেখকের বক্তব্যে ড. নূরন নবী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান তাঁর স্ত্রী ড. জিনাত নবী বকুলকে; যিনি বন্ধু হয়ে তাঁর পাশে আছেন ও সকল কাজে সহযোগিতা ও প্রেরণা দান করে যাচ্ছেন। ড. নবী সকল আলোচকবৃন্দকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সভাপতি কবি আসাদ চৌধুরীকে। যাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আলাদা মর্যাদা পেয়েছে। উপস্থিত শ্রোতাদর্শককে ধন্যবাদ জানিয়ে নবী বলেন, ‘আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অজানা কাহিনী লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি নতুন প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা অথচ সত্য কাহিনী জানতে পারেন।’ পরিশেষে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সঞ্চালনা করেন দেলওয়ার এলাহী।

 

0 Comments

Leave a Comment

মহিউদ্দিন স্মরণে দোয়া মাহফিল

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): চট্টাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এক বিবৃতিতে এই শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত ভোর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন ইন্তেকাল করেন। খবর ইউএনএ’র।
এদিকে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন রাত ৯টায় জ্যাকসন হাইটসের নিউ মেজবান রেষ্টুরেন্টে এই দোয়া মাহফিল হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।