Nov 22, 2017

বর্ণমালা নিউজ: ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী মেহেন্দী সাফাদীকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের চরিত্র হননের চেষ্ঠা করে ব্যর্থ ক্রেডিটকার্ড প্রতারণায় সাজাপ্রাপ্ত নিউইয়র্কের জ্যাকব মিল্টন ও তার সহযোগী নীরু নিরা ওরফে নীরা বাব্বানী এখন পরীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের বিএনপির রাজনীতি করা থেকে বিরত রাখতে মামলা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা। কুইন্স কাউন্টি সুপ্রীম কোর্টের মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার কাছে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল, সাবেক সহ সভাপতি সরাফত হোসেন বাবু, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন ভূঁয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া (মিল্টন), সেলিম রেজা, ওমর ফারুক ও সবুজ।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকাকে টেলিফোনে এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি ওয়াকেবহাল নই। তারা কি করতে চাচ্ছে এবং এদেশের আইনে এমন মামলার কোন গুরুত্ব আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তাই তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা সম্ভব না।
এদিকে এই মামলাকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ। গিয়াস বলেন, আত্মপরিচয়হীনরা বিএনপিকে হেয় করতে আওয়ামী সরকারের দালাল হিসাবে এই কাজটি করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটির সাবেক এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, এরা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মামলায় সাজা খেটেও সংশোধিত হয়নি। এদের কর্মকান্ড এতো ঘৃণিত যে তাদের নিয়ে মন্তব্য করতেও ঘৃণা হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এরাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলো। এরা বলছে শেখ মুজিবের (বঙ্গবন্ধুর) ছবিরও আমেরিকায় ব্যবহারের প্যাটেন করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল যাকেও মামলায় আসামী করা হয়েছে তিনি বলেন, এদের কর্মকান্ড ও অপকর্ম সম্পর্কে কমিউনিটির সবাই জানে। এদেরকে আমরা কোর্টেই মোকাবিরা করবো। বাবুল জানান আগামী ২০ অক্টোবর কুইন্স কাউন্টি সুপ্রীম কোর্টে মামলার তারিখ রয়েছে, সেদিন আমরা সবাই যাবো এই দুষ্টচক্রকে মোকাবিলা করতে।
কয়েক মাস আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমেরিকায় ‘বিএনপি’, ‘জিয়াউর রহমান’, ‘খালেদা জিয়া’ সহ কয়েকটি শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন জ্যাকব মিল্টন ও নীরু নীরা। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরের সময়ে সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখে বিজ্ঞপ্তি দেন তারা।
তাদের এই কর্মকান্ড কান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা-কর্মীরা হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন প্রথমে যখন এমন নিষেধাজ্ঞা জারী করে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এ বিজ্ঞাপন দেন জ্যাকব মিল্টনরা। এ নিয়ে কমিউনিটিতে কম হাসাহাসি হয়নি সে সময়ে। যারা কখনও বিএনপির রাজনীতি করেননি এবং যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা-কর্মীরা চেনে না, তারাই একদিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভাগ্য নিয়ন্ত্রা হলেন কিভাবে? এটা করার পেছনে তাদের কি উদ্দেশ্য রয়েছে এসব নিয়ে কখনও কখনও চুটুল আড্ডায় কথাবার্তা হলেও কেউ এসবকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু হাস্যকর বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য ‘গোদের উপর বিষফোঁডা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্কে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হতবাক করে দিয়ে চলতি সপ্তাহে জ্যাকব মিল্টন ও নীরু নীরা ‘জিয়াউর রহমান কর্পোরেশন’, খালেদা জিয়া কর্পোরেশন’ ও ‘বিএনপি কর্পোরেশন’ সহ কয়েকটি জাতীয়তাবাদী কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিএনপির রাজনিিত করা থেকে বিরত রাখার চেষ্ঠা করছে। এই জ্যাকব মিল্টনের সাথে বিএনপি নেত্রী থালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্ঠা জাহিদ সর্দার সাদীর ঘনিষ্ঠতাকে এখন অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। কারন কিছুদিন আগে জ্যাকব মিল্টনরা সাদীর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট ভিত্তিহীন বলেছেন।
এদিকে জ্যাকব মিল্টন ও তার সহযোগী নীরু নীরার বিরুদ্ধে কোন বিবৃতি না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন এদেরকে আমরা বিএনপিতে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষনা করা হবে। তারা বলেন, নীরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নানা কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে নিজেকে দলের কর্মীরও উপরে অবস্থানে নিয়ে এসে এখন দুষ্টুচক্রের পাল্লায় পরে দলের ক্ষতি করছেন কোন উদেশ্যে?

2 Comments

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা October 14, 2017 at 10:02 am

বিএনপির শেখানো বুলি আওড়িয়ে যারা সাংবাদিক/কলামিষ্ট হয়েছে তারাই এখন বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করেছে !!! কি জাস্যকর, তাই না? আমারতো মনে হয় এই জ্যাকব মিল্টন নিজের কুকর্মের প্রতিঘাত থেকে রক্ষা পাবার জন্যই এই কাজ করেছে। কারন নিকট অতিতে এই জ্যাকব মিল্টন বংগবন্ধু, তার কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সবার বিরুদ্ধে যে সব অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেছে তার প্রতিদান পাবে এবং অবশ্যই পাবে। সে ভয়েই এখন একটা চাল খাটিয়ে তার ‘গুরুজন’ দের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রমান করতে চাইছে যে মিল্টন বিএনপির কেউ নন। কিন্তু আমরা জানি, বাংলার জনগন জানে এবং সরকারও এ বিষয়ে অবগত। প্রধান মন্ত্রী নিউ ইয়র্ক সফরকালে ব্যাংগ করেই এই জাকব মিল্টনের নাম উল্লেখ করেছিলেন, সে কথা কি জানা আছে? অপেক্ষা করুন///////

kamal October 14, 2017 at 9:17 pm

Bnagladesh Nangta Party (BNP) can do anything……. what we never can imagine

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।