Nov 22, 2017

নিউইয়র্ক : ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থার আলোকে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচের প্রধান এডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকায় যাবে। কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানসহ ৪ কংগ্রেসম্যান এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত (ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের পদস্থ কর্মকর্তাগণের সাথে লাগাতার বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে ৪ নভেম্বর শনিবার রাতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ। এ সংবাদদাতার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তায় সরকারের আন্তরিকতার যথেষ্ঠ অভাব বিরাজ করছে। তাই আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সবিস্তারে উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ঢাকায় সাক্ষাত করেও একই তথ্য অবহিত করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান রেখেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, কোন সাড়া এখন পর্যন্ত পাইনি।’
আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা অত্যন্ত আপন ভাবে এবং নির্বাচনেও তার প্রভাব দেখেন সকলে। কিন্তু গত ৮/৯ বছরের কর্মকান্ডে সংখ্যালঘুরা হতাশ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করে রবীন্দ্রঘোষ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় সরকারেরও বিপদ হবে। কারণ, সংখ্যালঘুদের অবজ্ঞা-অবহেলা করে সভ্য সমাজে বেশীদিন টিকে থাকা যায় না।’
রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমরা কোন রাজনীতি করি না। কিংবা ক্ষমতাসীন সরকারকে হেয়-প্রতিপন্থ করতেও আসিনি। আমরা বাহাত্তরের সংবিধানের পুনপ্রতিষ্ঠা চাই এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দেখতে চাই।’
এডভোকেট ঘোষ গত মাসের শেষার্ধে কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। শীঘ্রই ফিরে যাবেন বাংলাদেশে।
‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাজুক পরিস্থিতি’র আলোকে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘হিন্দুজ ইন সাউথ এশিয়া এ্যান্ড দ্য ডায়াসপোরা/ এ্যা সার্ভে অব হিউম্যান রাইটস-২০১৭’ এর কপি কংগ্রেসম্যান এবং পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রদান করেন এডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান দমন-পীড়নের কিছু ডক্যুমেন্টও এ সময় হস্তান্তর করেছেন বলে জানান এডভোকেট ঘোষ।
রবীন্দ্রঘোষ গত ৩১ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলে সাক্ষাত করেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি, হাউজে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান এ্যাড রয়েস এবং প্রভাবশালী সদস্যা কংগ্রেসওমান তুলসি গ্যাবোর্ড, কংগ্রেস ভারতীয় ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান জর্জ হোল্ডিংয়ের সাথে। এর দুদিন পর অর্থাৎ ২ নভেম্বর বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের নির্বাহী পরিচালক এরিন ডি শিংসিনসাক, এই কমিশনেরই ফরেন এফেয়ার্স অফিসার ড. লোরেল এস ভলোডার এবং ব্রুকিং ফেলো জেফারি হেইটারের সাথে।
এসব বৈঠকের আলোকে এ মতবিনিময় সভাটি হয় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় ‘ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট পার্টিশান ডক্যুমেন্টশন প্রজেক্ট’ নামক একটি সংস্থার ব্যানারে এবং তাদেরই অফিসে। সভাপতিত্ব করেন এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সব্যসাচি দস্তিদার। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারি শিতাংশু গুহের সঞ্চালনায় এ সভামঞ্চে আরো উপবেশন করেন ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত এবং প্রদীপ মালাকার।
এতে এডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষই মূলত: কথা বলেছেন বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির আলোকে। এডভোকেট ঘোষ প্রবাসে সংখ্যালঘুদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টির জন্যে।
কবে নাগাদ মার্কিন প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা দেখতে যাবেন-সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন সময় এখনও জানতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে প্রতিনিধি দল যাবার ব্যাপারে।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।