Nov 22, 2017

নিউইয়র্ক : দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র হিসেবে বিজয়ী হবার পর ভাষণ দিচ্ছেন বিল ডি ব্লাসিয়ো। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ভোটের মাধ্যমে দু:শাসন আর অপশাসনের জবাব দিলেন আমেরিকানরা। গত ১০ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান শাসিত কংগ্রেসের বিভিন্ন পদক্ষেপে অতীষ্ঠ ভোটাররা ভার্জিনিয়া এবং নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের দুই রিপাবলিকান গভর্ণরকেই ধরাশায়ী করেছেন। ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগে থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জন্যে টেস্ট কেস হিসেবে অভিহিত করা হয়। ট্রাম্পের শাসনের পক্ষে জনগণ কতটা সন্তুষ্ট তারই স্পষ্ট প্রকাশ ঘটলো গোপন ব্যালটে। ভার্জিনিয়া গভর্ণর হিসেবে জয়ী হলেন ডেমক্র্যাট রাল্্ফ এস নর্দ্যাম। তিনি লে. গভর্ণর ছিলেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৫৩.৯%। এখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন এডোয়ার্ড জিলেসপাই। ভোট পেয়েছেন ৪৫%। অপরদিকে, নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্ণর হিসেবে জয়ী হলেন ফিলিপ মার্ফি। ৫৫.৭% ভোট পেয়েছেন। তার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন রিপাবলিকান কিম গুয়াডেঙ্গো। কিম ছিলেন লে. গভর্ণর। ভোট পেয়েছেন ৪২.৪%।
উল্লেখ্য, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সর্বত্র বৃষ্টি ঝরেছে। তবুও ভোটারের উপস্থিতিতে কোন হেরফের ঘটেনি। ভার্জিনিয়া এবং নিউজার্সিতে বসবাসরত বাংলাদেশী-আমেরিকানরাও একই আমেজে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ভোটের এ আমেজ ডেমক্র্যাটরা ধরে রাখতে সক্ষম হলে সামনের বছরের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অহমিকা খর্ব করা সহজ হবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
নিউইয়র্ক সিটির ১১০তম মেয়র নির্বাচন হলো মঙ্গলবার। একইসাথে সিটি প্রশাসনের গুরুত্বপর্ণ পাবলিক এডভোকেট ও কম্পট্রোলার পদ ছাড়াও ৫ বরোর প্রেসিডেন্ট, ২ জন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি ও ৫১ জন সিটি কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল এবং বিচার বিভাগে ছুটি চলে। এই সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত সবকটি কেন্দ্রের আশপাশেই ছিল বাংলা লেখা নির্দেশিকা। কেন্দ্রের ভেতরেই বাংলায় লেখা পোস্টার নজরে এসেছে। ব্যালটেও ছিল ব্ংালা। এমনকি বাংলায় অনুবাদক ছিলেন ভোটারকে সহায়তার জন্যে। সবকিছু মিলিয়ে ভিন্ন এক আমেজে ভোট গৃহিত হলো। কুইন্সের হিলসাইড এলাকা নিয়ে গঠিত কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এ প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশী তৈয়বুর রহমান হারুন। এজন্যে এ এলাকার বাংলাদেশীরাও উৎসবে আমেজে ভোট দিয়েছেন। তবে তিনি জয়ী হতে পারেননি সকল বাংলাদেশীর ভোট লাভে সক্ষম না হওয়ায়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো বিপুল ভোটের ব্যবধানে পুনরায় জয়ী হলেন। রিপাবলিকানরা আটঘাট বেধে নেমেছিলো, কিন্তু ভোটারের মধ্যে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়নি। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন-বিদ্বেষ, জাতীয়তা এবং বর্ণ-বিদ্বেষ, লিঙ্গ-বিদ্বেষী বক্তব্য এবং বিভিন্ন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ভোটারররা রিপাবলিকানদের প্রতি আগ্রহী হননি। বলা যেতে পারে যে, ঘৃণাভরেই প্রত্যাখান করেছেন ভোটাররা। অপরদিকে, ধর্ম এবং বর্ণগতভাবে বিল ডি ব্লাসিয়োর অবস্থান ছিল খুবই প্রবল। ইমিগ্র্যান্টদের স্বার্থ রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি তিনি। ফেডারেল অনুদান বন্ধের হুমকিতেও মাথানত করেননি ইমিগ্রেশন ইস্যুতে। অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের নিরাপত্তায় গোটা প্রশাসনকে তিনি ব্যবহার করছেন প্রকাশ্যেই। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে বদ্ধ-পরিকর ভোটারেরা বিল ডি ব্লাসিয়োকে আবারো নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে অধিষ্ঠিত করলো। তার কাছে ধরাশায়ী হলেন রিপাবলিকান নিকোল ম্যালিয়োটাকিস। এই সিটির রেজিস্টার্ড ভোটারের ৭০% এরও বেশী ডেমক্র্যাট হলেও ইতিপূর্বেক রিপাবলিকান প্রার্থীরাও ভোটারের মধ্যে জাগরণ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। এরফলে বিগত কয়েক টার্মেই রিপাবলিকান মেয়রের দখলে ছিল এই ডেমক্র্যাট সিটি। কিন্তু গরিব ও মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত বিল ডি ব্লাসিয়ো সে প্রথাকে চ’র্ণ করে টানা দু’টার্মের জন্যে মেয়র হলেন। তিনি পেয়েছেন ৬৬,২% ভোট। তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বি পেয়েছেন ২৮%।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।