Nov 22, 2017

নিউইয়র্ক : কানাডার পুলিশ স্বাগত জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুর্গম পথে পাড়ি জমানো অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের। ছবি-এনআরবি ফাইল।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় পাড়ি জমানোদের জন্যে সুখবর দিয়েছে কানাডা সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়াদের ৭০% এরই মঞ্জুর হয়েছে। এরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেআইনী পথে কানাডায় ঢুকেই আশ্রয় চেয়েছিলেন। কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থাৎ উপরোক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ইলিনয় প্রভৃতি এলাকা থেকে ১৫ হাজার ১০০ জন সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে কানাডায় ঢুকে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। কানাডা ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফ্যুজি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী এর মধ্যে ১০৭৯০ জনের আবেদন তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বিবেচনার জন্যে। তার ৬৯%কেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে অর্থাৎ তারা কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি লাভ করেছেন। এর উল্লেখযোগ্যসংখ্যকরাই হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান, আফ্রিকান এবং বাংলাদেশী।
টরন্টোভিত্তিক ইমিগ্রেশন এটর্নী সান্টল দেশলগেস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনেকেই বলাবলি করে থাকেন যে, সাজানো গল্পের ভিত্তিতে এসাইলাম প্রার্থনা করা হচ্ছে এবং সকলের আবেদনই নাকচ হয়ে যাচ্ছে। যদিও বাস্তবে এগুলো সত্য নয়।
আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাসরতদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত হতে হয়েছে। এক ধরনের ভীতি গ্রাস করেছে ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটিকে। এজন্যে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের বড় একটি অংশ ছুটছেন কানাডায়।
কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমেদ হোসেনের অফিস থেকে গত সপ্তাহে জানা গেছে যে, এ তথ্যটিকে কেউ যেন কানাডার সামগ্রিক পরিস্থিতি হিসেবে মনে না করেন।
এদিকে কানাডার দুটি মিডিয়া পরিচালিত জরিপে উদঘাটিত হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বসবাস অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো ৪০ হাজার ৮০০ ব্যক্তির এসাইলামের আবেদন বিবেচনাধীন ছিল। এগুলোর নিস্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, সেটিও দেখার বিষয়। তাহলেই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সীমান্ত অতিক্রমকারিদের বিশেষ বিবেচনা প্রদর্শন করা হচ্ছে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন এটর্নীদের পরামর্শকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যারা কানাডায় পাড়ি জমাতে চান, তারা যেন কানাডার এটর্নীদের সাথে পরামর্শ করেই সীমান্ত অতিক্রমের পদক্ষেপ নেন।
কানাডিয়ান প্রেস থেকে আরো জানা যায়, পরিবার পরিজন এবং অন্যান্য দক্ষ বা যোগ্য লোক ছাড়াও উদ্বাস্তুদেরও স্বাগত জানানো হবে। কানাডায় অভিবাসীর সংখ্যা শতাব্দীর সর্বোচ্চ হারে পৌঁছেছে বলে গত ২৫ অক্টোবর জানিয়েছে স্ট্যাটিসটিক কানাডা।
এদিকে সন্তানদের কানাডায় ইমিগ্রেশন অথবা স্পন্সরের আবেদনের ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। ১৯ বছরের স্থলে বয়সসীমা আগের মতো ২২ বছর করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর থেকে এই বিধান কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।