Nov 22, 2017

নিউইয়র্ক : পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য সরবরাহের দাবিতে সিটি হলের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন। পাশে মাজেদা উদ্দিন, নাজিম শেখসহ জনপ্রতিনিধিরা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘কয়েদীরা যদি পছন্দের খাদ্য পায়, তাহলে পাবলিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কেন নিজ নিজ সংস্কৃতির আলোকে হালাল খাদ্য পাবে না’-এমন মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সদস্য তথা স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন। এই এ্যাসেম্বলীম্যান গত বছর অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে সকল পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য (জুইশদের জন্যে কুশের এবং হিন্দুদের ভ্যাজেটারিয়ান) সরবরাহের বিধি তৈরীর জন্যে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। সেই বিলের পক্ষে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সমর্থন আদায়ের অভিপ্রায়ে ১২ নভেম্বর রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের প্রতি ১০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যেই ৪ জনই হয় মুসলমান, নয়তো জুইশ। এছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হিন্দুও রয়েছে। একারণেই দুপুরের খাদ্য পরিবেশনের সময় সে সব ধর্মাবলম্বীদের পছন্দের খাদ্য থাকা জরুরী।’ ওয়েপ্রিন উল্লেখ করেন, ‘ক্ষুধার কারণে কোন ছাত্রই যাতে নিজেদের ধর্মীয় রীতির সাথে আপস করে অপছন্দের খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী।’
এ সময় হালাল খাদ্যের দাবিতে আন্দোলনরতদের অন্যতম বাংলাদেশী-আমেরিকান মাজেদা এ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবীনদের নিবাসে, এমনকি কারাগারেও ধর্মীয় সংস্কৃতির আলোকে খাদ্য পরিবেশনের বিধি রয়েছে। অথচ পাবলিক স্কুলে এখনও সে বিধি করা হয়নি। এরফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী দুপুরে অনাহারে থাকে এবং সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে প্রচন্ড ক্ষুধা নিয়ে। এ অবস্থায় অনেকে হোমওয়ার্ক করতে সক্ষম হচ্ছে না।’
সংবাদ সম্মেলনে নাজিম শেখ নামক এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে রিগো পার্কে একটি স্কুলে যাবার সময় বাসা থেকে টিফিন বক্সে দুপুরের খাবার নিয়েছিল। কিন্তু তা ঠান্ডা হওয়ায় সে খেতে পারেনি। না খেয়েই বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে। এটি শরীরের জন্যে কতটা ক্ষতিকর-তা কি বলার অপেক্ষা রাখে?’
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিউইয়র্ক সিটির সকল পাবলিক স্কুলে ঈদের দুদিন ছুটি ঘোষণার বিধি তৈরী হয়েছে দু’বছর আগে। সেই উদ্ধৃতিও আসছে হালাল খাদ্য বিল পাশের ক্ষেত্রে। ঈদের ছুটির জন্যে সৃষ্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং (ডেমক্র্যাট)। কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের অন্যতম নেতা গ্রেস মেং হালাল খাদ্য বিধির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।