Nov 22, 2017

নিউইয়র্ক : ইউনাইটেড বেঙ্গলী ফোরামের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন রাশেদ আহমেদ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু বলতে কিছু থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সকলেই বাঙালি-এটি তাদের একমাত্র পরিচয়। তাই সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে আর এহেন অপকর্মে কেউ প্রবৃত্ত হবে না এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনও সুসংহত হবে’-এমন অভিমত পোষণ করেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র ইউনিটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ।
১২ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় রংপুরে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরে আমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলাম জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল বাঙালি। সেই চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সংখ্যালঘু অপবাদ অব্যাহত রাখলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও দূর করা সম্ভব হবে না।’
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলে ‘ইউনাইটেড বেঙ্গলী ফোরাম’ ব্যানারে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লেখক-কলামিস্ট শিতাংশু গুহ এবং উপস্থাপন করেন তোফাজ্জল হোসেন লিটন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত, ফাহিম রেজা নূর, স্বীকৃতি বড়–য়া, সুব্রত বিশ্বাস, গোপাল সান্যাল, নূরে আলম জিকু, মুজাহিদ আনসারী, প্রভাস দাস, গোবিন্দ সরকার প্রমুখ।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে শিতাংশু গুহ অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বলে দাবি করলেও মাঝেমধ্যে প্রশাসনের গোচরেই এমন কিছু অঘটন ঘটছে যা মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দেয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় জামাত-শিবির তথা সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দেয়। রংপুরের এমন পৈশাচিকতায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হলেই হয়তো জনমনে স্বস্তি আসবে।’
এদিকে, রংপুরের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস ১২ নভেম্বর রাতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশে মিথ্যা অযুহাত দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জ্ঞাতসারে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, হত্যা, লুন্ঠন, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। গত ১০ নভেম্বর রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামে মুসলিম মৌলবাদীদের এই ন্যাক্কারজনক কাজের সর্বশেষ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।’
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার আন্তরিক নয়। এজন্য ঐক্য পরিষদ গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছে।’
‘শত শত ইসলামিক মৌলবাদী সময় নিয়ে, সাত দিন ধরে মসজিদে মসজিদে আলোচনা করে, বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ-মিছিল করে, কথিত অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এবং মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে’-বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘একই ফেসবুক ‘কৌশল প্রয়োগ’ করে মুসলিম মৌলবাদীরা রামু, সাঁথিয়া, নাসিরনগর, সিলেটসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্মূল করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে। যদিও সরকার নিজেকে অসাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির কর্ণধার বলে দাবি করছে।’
ঐক্য পরিষদ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্পদায়ের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ক্রমে বেড়েই চলেছে। একদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনসমক্ষে অসম্মান ও হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে’ অন্যদিকে যারা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কথা বলছে বা বলতে চাচ্ছে, তাদেরকে গুম ও হত্যার শিকার হতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপল দাস, অনিরুদ্ধ রায়, মিথুন চৌধুরীসহ অনেককে গুম করা হলেও এসব গুমের ব্যাপারে কোনো সরকারী ভাষ্য মেলেনি। বরং সরকার রহস্যময় নীরবতা পালন করছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।