Dec 11, 2017

নিউইয়র্ক : থার্ড কমিটিতে রেজ্যুলেশন পার্সের তথ্য জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : রাশিয়া, চীন, সিরিয়াসহ ১০ দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েও ঠেকাতে পারেনি মিয়ানমারের বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী থার্ড কমিটির রেজ্যুলেশন। ওআইসির পক্ষে সৌদি আরব এই রেজুলেশন উত্থাপন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির (Situation of human rights in Myanmar) উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে এই রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়। ১৩৫টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ।
এতে রাখাইন প্রদেশে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, সকলের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি গৃহীত এই রেজুলেশন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থনেরই প্রতিফলন। আর এজন্যে বাংলাদেশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লাগাতার ক’টনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছিল বলে রেজ্যুলেশন গৃহিত হবার পরই জাতিসংঘ সদর দফতরে জড়ো হওয়া গণমাধ্যম কর্মীদের জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটির এই সভায় রেজুলেশন ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের বক্তব্য সমর্থন করে রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে আরো জোরালো বক্তব্য প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সোমালিয়া, মিশর ও বাংলাদেশ।
ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করে।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ জানান, তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই রেজুলেশন আসছে ডিসেম্বরে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। এতে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন বিশেষ দূত নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এছাড়া, এই রেজ্যুলেশনে ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই রেজ্যুলেশনকে বাংলাদেশের ক’টনৈতিক তৎপরতার ফসল হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন গণমাধ্যমকে আরো জানান, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্র তৈরী না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত রাখতে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ। এজন্যে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যথাযথ নির্দেশ প্রদান করেছেন।’
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদ গত ০৬ নভেম্বর মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর বিবৃতি প্রদান করেন।
অত:পর ১৩ অক্টোবর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে ‘আরিয়া ফর্মুলা’ মিটিং এ বসে নিরাপত্তা পরিষদ।
১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরী ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক্ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে এবং “গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল (বঃযহরপ পষবধহংরহম) ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট” এর সহযোগিতায় “রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতা : শুধু নিন্দা জ্ঞাপনই নয় প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ (Atrocities against Rohingya : From Condemnation to Action)” শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।