Dec 11, 2017


নিউইয়র্ক : নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের উদ্ধারে প্রশাসনের রহস্যজনক ঢিলেমি এবং বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এক প্রতিবাদ সভা করেছে গত ১৯ নভেম্বর (রোববার)। এদিন বিকেল ৫টায় এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইনক-এর সদস্যসহ নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সাপ্তাহিকের সম্পাদক এবং কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি। এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নাজমুল আহসান, বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ডাঃ ওয়াজেড এ খান, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক এবং টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার, বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক এবং একাত্তর টিভির ইউএস ব্যুরো প্রধান মাহফুজুর রহমান এবং প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। প্রতিবাদ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কলামিষ্ট আবু জাফর মাহমুদ, বর্তমান বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি শাহ নেওয়াজ, আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর ও ফটো সাংবাদিক এ হাই স্বপন, বর্তমান বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বেলাল আহমেদ,টাইম টিভির পরিচালক ইলিয়াস খসরু, বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক ও সংবাদ সংস্থা ইউএনএ-র সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন, সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুল, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব শিবলী চৌধুরী কয়েছ, প্রথম আলো পত্রিকার উত্তরামেরিকা কার্যালয়ের সিনিয়র রিপোর্টার ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মনজুরুল হক মঞ্জু, ভোরের কাগজ পত্রিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি শামীম আহমেদ, সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ, সাংবাদিক ও সংগঠক হাকিকুল ইসলাম খোকন, দেশকণ্ঠ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি শামসুল আলম লিটন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট খন্দকার ফরহাদ, এক্টিভিষ্ট হাসানুজ্জামান হাসান, প্রবাস পত্রিকার সাংবাদিক এস.এম. সারওয়ার ও কণ্ঠশিল্পী রনো নেওয়াজসহ আরো অনেকে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন-বাংলাদেশে ‘গুম’ সংস্কৃতিতে প্রবাসের সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন। কোন একটা প্রতিবেদন লেখার কারণে উৎপল দাস এক মাসের অধিক সময় ধরে নিখোঁজ। দেশের সাংবাদিকরা আন্দোলন করছেন। অথচ প্রশাসনের টনক নড়ছে না। তাহলে অবাধ-স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ কোথায়? তারা আরো বলেন-দেশের উন্নয়ন হলেই শেষ কথা নয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে সরকারের সাফল্যগাঁথা কোন কাজে আসবে না। তারা বলেন-দেশে এখন মিডিয়া জগতে সেলফ সেন্সরশিপ চলছে। এতে কথা বলার মৌলিক অধিকার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সাংবাদিকরা অবিলম্বে নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসকে উদ্ধারে তড়িৎ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সভায় নাজমুল আহসান বলেন-বাংলাদেশে এখন কেবল অপহরণ ও গুমের খবর শুনি। যা উদ্বেগ বাড়ায়। তিনি বলেন-দেশে সাংবাদিকরা দু’ভাগে বিভক্ত। সরকারের সমর্থক সাংবাদিক আছেন-বিরোধীও আছেন। তারা উৎপল দাসের উদ্ধারের জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন। কিন্তু সরকার তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও এ ব্যাপারে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি। এতে বুঝা যায়, এ ব্যাপারে সরকারও উদাসীন। তিনি বলেন-শুধু উন্নয়নের কথা বললেই হবে না, সরকারকে সকলের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে হবে।
ডাঃ ওয়াজেদ এ খান বলেন-একটি রাষ্ট্রে যখন আইনের শাসন থাকে না, তখন সমাজের ভারসাম্যও থাকে না। যখন সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পায় না, সেখানে কারো নিরাপত্তা আশা করা যায় না। তিনি বলেন-সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলতে দিতে হবে। মিডিয়া এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উৎপল দাসকে উদ্ধারে প্রশাসনের ঢিলেমিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন-দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না সরকার। তিনি আরো বলেন-প্রাইভেটলি এবং সরকারি মদদে দেশে গুম অপহরণ হচ্ছে। এ সবের সমাপ্তি ঘটুক। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।
আবু তাহের বলেন-উৎপল দাস কোথায় আছে কেউ জানে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ‘গুম’ কালচার ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এটা বর্তমান সরকারের কালো তিলক। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবার গণতন্ত্রের জন্য জীবনভর লড়াই করেছেন, তাদের শাসনামলে সাংবাদিক গুম বা নির্যাতনের ঘটনা আশা করা যায় না। তিনি সম্প্রতি ঢাকা সফরকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন-দেশে মিডিয়া জগতে দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে। যা গণতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি অবিলম্বে উৎপল দাসকে উদ্ধার করে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
রতন তালুকদার বলেন-দেশে গণতন্ত্রের আবরণে যে পরিমাণ অপহরণ-গুম হচ্ছে, তা ভীষণ উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। এতে আমরা শংকিত। এখন দেশে যেতে ভয় পাচ্ছি। আমার প্রশ্ন, দেশে কি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র আছে? সরকারের নিয়ন্ত্রণ কি প্রধানমন্ত্রীর হাতে আছে? তিনি বলেন-দেশে যেন ডান্ডাতন্ত্র চলছে। যেখানে তাকাই নির্যাতনের ছবি। নির্যাতিতদের কান্না দেখি। হিন্দু-মুসলিম-বিরোধী মতামতের মানুষ সকলে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রবাস থেকে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মাহফুজুর রহমান বলেন-অপহরণ-গুম ১৯৭৮ সালেও হয়েছে। এখনও হচ্ছে। সকল অপহরণ ও গুমের তদন্ত হওয়া উচিত। আমাদের এটাও দেখতে হবে-যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধী, তারা এসব কাজ করছে কিনা। কারণ, উৎপল দাস ও মোবাশ্বের সিজার প্রগতিশীল সাংবাদিক-শিক্ষক। তিনি বলেন-এ ধরনের গুমের ঘটনার দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। সমাজ তথা রাষ্ট্রকে সভ্য করতে হলে প্রতিটি গুমের রহস্য উদঘাটন জরুরি। গুম ও অপহরণের বিরুদ্ধে মিডিয়াকেও বেশি বেশি রিপোর্ট করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোহাম্মদ সাঈদ বলেন-মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। আমরা দেশে মুক্ত সাংবাকিতা দেখতে চাই। অপহরণ-গুমের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। তিনি মিডিয়া বিরোধী ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিও জানান তাঁর বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেী পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মাহফুজুর রহমানের প্রয়াণে তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে বিশেষ সহযোগিতা করে বাংলাদেশ প্লাজা কর্তৃপক্ষ।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।