Dec 11, 2017

মো: আতাউর রহমান। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জেনারেল ব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসে ফিরে যাচ্ছেন। প্রায় সাড়ে ৬ বছর নিউইয়র্কে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অফিস ছাড়বেন আতাউর। বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯৪ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানী ইনক’। এটি মূলত: প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ স্বজনের কাছে প্রেরণের লক্ষ্যে চালু হলেও পরবর্তীতে এর বাণিজ্যিক কর্মপরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০১১ সালের জুলাই মাসে আতাউরের দায়িত্ব গ্রহণের সময় সোনালী এক্সচেঞ্জের শাখা ছিল ৯টি এবং ৮৫ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন ৯৫০০০ জন প্রবাসী। এখন শাখা ১০টি এবং প্রেরণকারির সংখ্যা ১২০০০০। তবে অর্থের পরিমাণ কমে ৮২ মিলিয়ন হয়েছে। এর কারণ হিসেবে আতাউর উল্লেখ করেন, ‘মানুষ বেড়েছে। কিন্তু আগের মত অর্থ প্রেরণ করছেন না। এক সময় অসংখ্য প্রবাসী স্বদেশে স্বপ্নের নীড় নির্মাণের খাতে বিপুল অর্থ পাঠিয়েছেন। ডিভি লটারিতে যারা এসেছেন, তারা উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ নিয়মিতভাবে স্বজনের কাছে পাঠাতেন। এখন রিয়েল এস্টেট সেক্টরে আর কেউ টাকা পাঠাচ্ছেন না। ডিভি লটারিও নেই। আগে যারা এসেছেন তাদের সকলেই সিটিজেন হয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন-নিকটাত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন। ফলে নিয়মিতভাবে অর্থ প্রেরণের প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে গেছে।’
মৃদুভাষী এই ব্যাংকার উল্লেখ করেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না যে, ২০১১ সালের পর এই নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের পরিচালনায় আরো ৪টি রেমিটেন্স অফিস চালু হয়েছে। এগুলো হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস, বি এ এক্সপ্রেস, এনবিএল মানি ট্র্যান্সফার এবং জনতা এক্সপ্রেস। আগে থেকেই রয়েছে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বহুজাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ নাম না জানা অসংখ্য কোম্পানী কাজ করছে একই কম্যুনিটিতে। এমনি অবস্থায় প্রবল একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে সোনালী এক্সচেঞ্জকে টিকে থাকতে হচ্ছে।’
আতাউর অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, ‘আস্থার সাথে বলতে চাই যে, এখন গন্তব্যে অর্থ পৌঁছানো নিয়ে কারোরই কোন অভিযোগ নেই। ঠিক সময়ে স্বজনের একাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে। এছাড়া সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ফি-ও হ্রাস করা হয়েছে। আগে ছিল ন্যূনতম ৫ ডলার। এখন করা হয়েছে ২ ডলার।’
আতাউর রহমান বলেন, ‘সেবার মানোন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ অবলম্বন করেছি, যার সুফল পাচ্ছেন প্রবাসীরা।’
প্রবাসীদের প্রতি, বিশেষ করে মিডিয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আতাউর রহমান বলেছেন, সকলের হৃদ্যতাপূর্ণ সহায়তা পাওয়ায় কাজ করতে অনেক সুবিধা হয়েছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে এমন সহায়তা অব্যাহত থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ব এই সংস্থাটি চালু রাখতে।’
এ পদে ঢাকা থেকে আসবেন এজিএম দেবশ্রী মিত্র। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেশ কয়েক সপ্তাহ লাগবে বিধায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।