Dec 11, 2017


এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: ‘আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে বিএনপির কোন শাখা কিংবা চ্যাপ্টার নেই। এবং আইনগতভাবে আপনি বিএনপির কোন ধরনের মালিকানাও দাবি করতে পারেন না’।
মার্কিন কোর্টে বিএনপির মালিকানা দাবিতে নিউইয়র্কের জ্যাকব মিল্টন নামক জনৈক ব্যক্তির দায়েরকৃত মামলার ব্যাপারে ২৮ নভেম্বর ঐ জ্যাকব মিল্টন বরাবরে প্রদত্ত এক চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স কাউন্টিতে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্টে জ্যাকব মিল্টন এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ইনডেক্স নম্বর ৯৮১৯/১৭।
মামলায় বিবাদি করা হয় শরাফত হোসেন বাবু, আকতার হোসেন বাদল, জসীমউদ্দিন ভূইয়া, মিজানুর রহমান (মিল্টন ভূইয়া), মোস্তফা কামাল পাশা বাবুলসহ ৮ জনকে। এরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সংগঠকদের অন্যতম। মামলায় আবেদন জানানো হয় যে, বিএনপির নাম, লগো, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নাম ও ছবি কেউই ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ, জিয়াউর রহমান ইনক, বিএনপি ইউএসএ ইনক, তারেক রহমান ইনক নামে জ্যাকব মিল্টন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘অলাভজনক সংস্থা’ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তার অনুমতি ব্যতিত অন্য কেউ এসব নাম ব্যবহার করতে পারবেন না বলে মামলায় উল্লেখ করে উপরোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়। মাননীয় আদালত বাদিপক্ষের দীর্ঘ শুনানীর পর বিবাদিগণের কাছে নোটিশ প্রদান করেন। সেই নোটিশ পেয়ে ৮ জনই এটর্নীর মাধ্যমে গত ৪ অক্টোবর আদালতে সময় প্রার্থনা করলে মাননীয় আদালত ৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।
বিএনপি মহাসচিবের এই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যাহোক, মোহাম্মদ শরাফত হোসেন, জসীমউদ্দিন ভূইয়া, আকতার হোসেন বাদল, মিল্টন ভূইয়াসহ অন্যেরা আমাদের সংগঠনের পক্ষে নিউইয়র্কসহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। বিএনপির নীতি ও আদর্শের পরিপূরক সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন বিএনপির সমর্থকদের সাথে নিয়ে।’
চিঠিতে জ্যাকব মিল্টনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, ‘আপনাকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যে, বিএনপির নামে কোন মামলা-মোকদ্দমা কিংবা অন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কোন এখতিয়ার আপনার নেই এবং আমাদের দল কর্তৃক উপরোক্ত নেতৃবৃন্দকে প্রদত্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে বাধা দানেরও অধিকার আপনার নেই।’
মিজা ফখরুল তার চিঠিতে লিখেছেন, ‘এমতাবস্থায় আপনাকে পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে যে, বিএনপির নাম, লগো এবং বিএনপির এফিলিয়েটেড সবকিছু ব্যবহার থেকে অবিলম্বে বিরত হোন। বিএনপি এবং বিএনপি সম্পর্কিত নামে যে সব কোম্পানীর মালিকানা দাবিতে আপনি ব্যবহার করছেন, সেগুলো থেকেও বিরত হবার আহবান জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, প্রায় ৫ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কোন কমিটি না থাকায় দলীয় নেতা-কর্মীরা খন্ড-বিখন্ড হয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনার মধ্যেই জ্যাকব মিল্টনের ঐ মামলায় সকলে হতভম্ব হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মামলার বিবাদিগণের পক্ষে মিল্টন ভ’ইয়া সম্প্রতি লন্ডনে গিয়ে এমন একটি চিঠির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এই চিঠির কপি নিয়ে উপরোক্ত ৮ নেতার নিযুক্ত মার্কিন এটর্নী ৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে হাজির হবেন বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন।
উদ্ভ’ত পরিস্থিতির আলোকে নিউইয়র্কে কর্মরত বিএনপির নেতা-কর্মীরা উল্লেখ করেছেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রু বিএনপির কমিটি হলেই সবকিছুর অবসান ঘটবে’।
মামলার বিবাদিগণের পক্ষে আকতার হোসেন বাদল, জসীম ভূইয়া এবং মিল্টন ভূইয়া পৃথকভাবে এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘দীর্ঘদিন যাবত যারা এই মার্কিন মুল্লুকে বিএনপির ঝান্ডা উর্দ্ধে রাখতে সক্রিয় রয়েছি, তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনে কালক্ষেপণের কোন অবকাশ থাকতে পারে না। কমিটি না হলে আরো অনেক জ্যাকব মিল্টনের সৃষ্টি হতে পারে।’

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা November 30, 2017 at 6:40 am

বিএনপি নামক শব্দটিকে নিয়ে এসব তালবাহানা কেবলই একটা খেলা এবং সে খেলার পেছনে কারন নিজেদের প্রচারনা কারন এরা জানেন তাদের বিএনপি শীঘ্রই মহাসমুদ্রের অতল তলে হারিয়ে যাবে যেখান থেকে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। কারন যে দলের জন্মই হয়েছিল অবৈধভাবে সে দলের এই মহাবিশ্বে বিচরন করার অধিকার নেই।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।