Jan 16, 2018

জেনেভা : ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে জেনেভায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অজন্তা দেবরায়। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের স্বার্থেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় প্রশাসনকে আরো মনোযোগী হতে হবে। কারণ, সংখ্যালঘুরা অবজ্ঞার শিকার হলে অবশিষ্ঠ জনগোষ্ঠিও সত্যিকারের সুখী হতে পারে না’-এমন মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকার সংগঠক শাহরিয়ার কবীর।
‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ (‘International Human Rights Day-2017’) উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর শনিবার জেনেভাস্থ জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে মহাত্মা গান্ধী মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিমূল : কারণ এবং প্রতিকার’ (‘Cleansing Religious Minorities in Bangladesh: Causes & Remedies’) শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহরিয়ার কবীর। শাহরিয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধর্ম-ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এহেন অবস্থায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্যে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর সরকারের চাপ অব্যাহত রাখা জরুরী।’
সুইজারল্যান্ডস্থ ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চ এবং আর্থ ফোকাসের সহায়তায় বাংলাদেশ মাইনোরিটি কোয়ালিশনের এ সেমিনারে যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার কর্মী অজন্তা দেবরায় অভিযোগ করেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এমনি অবস্থায় হরহামেশা আক্রান্ত হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা। এটি মেনে নেয়া যায় না। এহেন বর্বরতার দায় ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা এবং তার সরকার এড়াতে পারে না।’
‘মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে না পারলে উন্নয়ন পরিক্রমা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়’-মন্তব্য এই সমাজকর্মীর।
সেমিনার থেকে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্মূলের সাথে জড়িতদেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দের কথা বলা হয়। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্মূলের চক্রান্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়েই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দেখানো সম্ভব বলে আলোচনায় অভিমত পোষণ করা হয়। সেমিনারের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্কস্থ মাইনোরিটি কোয়ালিশনের নেতা শিতাংশু গুহ এসব তথ্য জানান মিডিয়াকে।
জ্যামি বড়–য়ার সঞ্চালনায় এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রেভারেন্ড জোতিশ্বর ভিক্ষু। আলোচনায় আরো অংশ নেন ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চের সমন্বয়ক ড. মনোজ কারিয়ান, প্যাক্স কালচারালের প্রেসিডেন্ট থিয়েরি বিকোট, ড. উজ্জাত চৌধুরী, হল্যান্ডের মানবাধিকার সংগঠক বিকাশ চৌধুরী বড়–য়া, বেলজিয়ামস্থ পীচ অব সলিডারিটির সভাপতি এম এম মোর্শেদ, জেনেভা সিটি কাউন্সিলের মেম্বার সিলভেন থিবোজ, রুবেন নেভারো, ড. সোবালিয়া প্রমুখ। সেমিনারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরাও অংশ নেন।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন