Jan 16, 2018

সাফিউল সাফিঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়ে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সঞ্ছারনায় গত ১৬ ই ডিসেম্বর রোজ শনিবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি হলে মহান বিজয় দিবস ২০১৭ পালন করেছে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলোয়াত করে ভাষাশহীদ, জাতির পিতা‘বঙ্গবন্ধু’,বঙ্গমাতা,জাতীয় চারনেতা, ১৫ই আগস্ট এর শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৭ বীরশ্রেষ্ঠ সহ সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আলোচনা সভা বক্তব্য রাখেনঃ ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু , সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান , উপদেষ্টা জনাব মাহবুবুল হক , ফজলে এলাহি জুয়েল। হাসনাত রুবেল। সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন সারকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইম উদ্দিন বাবু, নুরুল ইসলাম টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার সাইদুর রাহমান ।

বক্তারা বলেনঃ একাত্তরের পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ছাব্বিশে মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। কিন্তু সেদিন থেকে দেশ ছিল হানাদার বাহিনীর দখলে। তবে তারা ছিল না শান্তিতে। বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম থেকে তাদের অবৈধ শাসন ও দখলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে। নয় মাস ধরে চলেছে এ যুদ্ধ প্রথমে গেরিলা যুদ্ধ, তারপর গেরিলা তৎপরতা ও নিয়মিত সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে একসঙ্গে। অবশেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরার কাছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাঙালির ঐক্যবদ্ধ মুক্তিসংগ্রাম, রণাঙ্গনে বীরোচিত ভূমিকা এসবই ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে। নয় মাসে বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন সেদিন এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, প্রায় দুই লাখ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ আর সেসব বীর যোদ্ধার জানাই অভিবাদন।
মাত্র নয় মাসের মধ্যে বিজয় অর্জন করলেও পরাজিত শক্তিও থেমে থাকেনি। তারা যেমন মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানিদের দালাল ও দোসর হয়ে কাজ করেছে, তেমনই পরে গোপনে প্রস্তুতি নিয়েছে আঘাত হানার। সেটি ঘটেছিল সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে। তারপর সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য, কিছু রাজনীতিবিদ ও আমলা এবং মুষ্টিমেয় কিছু বিপথগামী বিভ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা মিলে প্রত্যাখ্যাত পাকিস্তানি রাজনীতি ফিরিয়ে আনে, দেশকে ধর্মান্ধতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার পথে নিয়ে যায়।প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯ থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যাদর্শে আবার যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষ বিপুল পরিশ্রমে দেশকে এগিয়েও নিচ্ছে। আর বর্তমান সরকার মানুষকে যথার্থ পথের দিশা দিয়ে দেশের উন্নতিকে বেগবান করেছে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত এক নাম।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনই সম্মানের পাত্রও আজ। বিজয়ের প্রকৃত তাৎপর্যে দেশ আজ জেগে উঠছে। এই সময়ে বিজয় দিবস নতুন ব্যঞ্জনা ও তাৎপর্যে হাজির হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধে রাহুমুক্ত হলো বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল আর তার কন্যার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বিজয়ের সুফল, স্বাধীনতার ফসল ধীরে ধীরে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনঃ অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দিকুর রহমান রাসেল, রাজু আহম্মদ, মোহাম্মদ আশরাফ ফরাদ, মশিউর রহমান শাওন , রনি, ওমর,আমির জীবন , ফজলে রাব্বি , সামসুল আলম, সোহেল আহমেদ, সাফায়েত অন্তর, শামীম খান ,তাসবির হোসেন,মাঞ্জুর আহমেদ মামুন, মনসর আহমেদ, মোহাম্মাদ ইউসুফ, মাসুম বিল্লাহ, শাওন রহমান , সাইদুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, হাসান শাহীন, তুহীন, আরিফুল হক আরিফ, আজাদুর রহমান, রাজ্জাক, নাজমুল হোসেন, দোলন, সহ সকল নেতৃবৃন্দ। বিবৃতে আরো সম্মতি জানানঃ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ডেনমার্ক শাখা, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ডেনমার্ক শাখা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ডেনমার্ক শাখার সকল নেতৃবৃন্দ।
একজন গর্বিত মা, গণতন্ত্র ও মানবতার জননী, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিশ্ব মানবতার বিবেক জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
বিজয় দিবসে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাননে স্পেন থেকে আগত সঙ্গীত শিল্পী রাজু গাজী ও স্থানীয় শিল্পী অধ্যাপক সাজ্জাত হোসেন সঙ্গীত পরিবেশন করেন ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি করা হয়।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন