Jan 16, 2018

হাকিকুল ইসলাম খোকন : ওয়াশিংটন: বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিসিসিডিআই বাংলাস্কুলের আয়োজনে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হল বিজয়মেলা ও পৌষ পিঠা উৎসব। লাখো শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৬ ডিসেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার নোভা আনানডেল ক্যাম্পাসে ছোটছোট শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের চিত্রাংকনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় মেলার অনুষ্ঠান। একই সাথে শুরু হয় পৌষ পিঠা উৎসব।
বৃহত্তর ওয়াশিংটন প্রবাসী শতশত বাংলাদেশীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত বিজয় উৎসব অন্যদিকে দেশীয় পিঠাপুলির মৌ মৌ গন্ধ আর বাংলাস্কুলের ছোট ছোট শিশুদের মুক্তির চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা ম্গ্ধু হয় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা। চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার পাশাপাশি শুরু হয় পিঠা প্রতিযোগীতার বিচারকার্য্য। চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় বিচার কার্য্য পরিচালনা করেন সোনালী সোহানা, সুনীল শুকলা, ও সামিনা আমিন। পিঠা প্রতিযোগীতায় বিচারকার্য্য পরিচালনা করেন বুশরা ওয়াহিদ, ড, তুহীন, ও নাসিমা খান পপি।
চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা শেষে মুলমঞ্চের সামনে শুরু হয় শিশুদের অংশগ্রহনে যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগীতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সজ্জিত হয়ে শিশুরা কেউ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী, চাষী, সৈনিক, ফেরিওয়ালা, গ্রামের বধু ইত্যাদি নানা সাজে সজ্জিত হয়ে অংশগ্রহন করে। যেমন খুশি তেমন সাজো বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ওয়াহিদ হোসাইনী, হিরন চৌধুরী, ও মোজহারুল হক।
শিশুদের অংশগ্রহনে যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানের পরপরই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে পুষ্পাস্তবক অর্পন করে প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ। এর পরেই অনুষ্ঠানের মুলমঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুরুতেই হাজারো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। বাংলাস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে অনুষ্ঠানে আগত শতশত অতিথির কন্ঠে ভেসে ওঠে ”আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। চীরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাশ…” বাঙালির জাতীয় সঙ্গীত। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের পরপরই বাংলাস্কুলের ক্ষুদে শিল্পীরা আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা শেষে শুরু হয় দলীয় সঙ্গীত। বিজয়ের গানে কাব্যগীতি শিরোনামে অনুষ্ঠিত এইপর্বের নির্দেশনায় ছিলেন বাংলাস্কুলের গানের ওস্তাদ নাসের চৌধুরী এবং গ্রন্থনায় ছিলেন আতীয়া মাহজাবীন নিতু। এইপর্বে অংশগ্রহন করেন সুমু, শিখাম উর্মীলা, অদিতি, নীতু, নিভা, নাসিমা, বুলবুলি, কামাল, স্বরোজ, জেসমিন, উজ¦ল, শাহিদা মেরিনা, ও সঞ্জয়। এইপর্বে তবলায় সঙ্গত করেন আশীষ বড়–য়া, মন্দীরায় জয় ও গীটারে ছিলেন অনু।
দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনা শেষে বাংলাস্কুল মিউজিক একাডেমীর পরিচলানায় অনুষ্ঠিত হয় গানের অনুষ্ঠান। এই পর্বে বাংলাস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, সর্যোদয়ে তুমি, আমার দেশের মতন, গ্রীষ্ম বর্ষা, যে মাটির বুকে, প্রতিদিন তোমায়, সেই রেল লাইনের, সালাম সালাম, আমার বড় ভাই, সোনা সোনা সোনা, ও মাঝি নাও ছাইড়া দে গানগুলো একের পর এক পরিবেশন করে। গানে অংশগ্রন করে ফারিয়াল, নোরা, অনুজ, তানিশা, পরাগ, অংকিতা, অবন্তি, সাবরিনা, ফারজান, হৃদিতা, মুহিত, কৌশিক, সুষ্ময়, সৃজন, রানিতা, সুসান, অনিতা, অতশী, তাসনুভা, ও অহনা।
এর পরপরই বাংলাস্কুল ড্যান্স একাডেমির ছাত্রছাত্রিদের নৃত্য পরিবেশিত হয়। একাত্তরের মা জননী কোথায় তোমার, ও পৃথিবী তোমায় জানাই ইত্যাদি গানে নৃত্য পরিবেশন করে অবন্তি, রানিতা, সুসান, অনিতা, অতশী, তাসনুভা, অহনা, অংকিতা, সাবরিনা, মরিয়ম ইজরা, নোরা, দর্পন, লাইবা, নাজিলা, হৃদিতা, আদিত্য, জেসিকা, নাইমা, মুহিত, ফারিয়াল, অনুবা, অনুসা, লানিকা, তানিসা, তাজ, সুমিত, সাবিনা, ও অবন্তিকা।
অনুষ্ঠানের মুল মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করা হয়। পুরষ্কার বিতরন শেষে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিসিসিডিআই সাধারন সম্পাদক শিমুল সাহা। এরপরপরই মঞ্চে আসে ওয়াশিংটনের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল শ্যাডো ড্রিম। পুরো অনুষ্ঠাটি পরিচালনা করেন শামীম চৌধুরী ও শতরূপা বড়ুয়া। প্রায় মধ্যরাতে বিসিসিডিআই বাংলাস্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিজয়মেলা ও পৌষ পিঠা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন