Jan 17, 2018

ধরুন খেতে বসেছেন এমন সময় দেখলেন আপনার সামনের মানুষটির গলায় খাবার আটকে গেছে এবং শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটপট করছে। আপনি তখন কী করবেন । হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সেই সময়টুকুও আপনার নেই । অসহায় ভাবে আপনাকে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা তখন

ভারতের প্রথম বায়ুসেনা প্রধান সুব্র্ত মুখার্জীরও মৃত্যু হয়েছিল এভাবেই । টোকিওর এক রেঁস্তোরায় গলায় মাংসের হাড় আটকে শ্বাসকষ্টে মারা যান । ২০১৫ সালে কলকাতার লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা অর্নেশ সিংহানিয়া নামে এক যুবক কুকুরের সাথে খেলতে গিয়ে গলায় রবারের বল আটকে যায় । হাসপাতাল যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে । এরকম দুর্ঘটনা যে কোন সময় কারর সাথেই ঘটতে পারে ১ দিনের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধর পর্যন্ত ।
তাহলে উপায় কী ? খুব সহজ একটি উপায় আছে ,ওটা জানা থাকলে এরকম দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে । পদ্ধতিটির নাম “হেইম্লিচ ম্যানইউভার “(Heimlich maneuver)। বিখ্যাত আমেরিকান ই .এন .টি . স্পেসালিস্ট হেনরি হেইম্লিচ ১৯৭৪ সালে এই পদ্ধতিটির বর্ননা দেন ।

কি রকম সেই পদ্ধতি, জেনে নিন:
প্রথমেই বলা প্রয়োজন এইরকম মুহূর্তে সবার আগে মাথা ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন এবং আক্রান্ত ব্যক্তিটিকে ভরসা দিতে হবে যাতে সে বেশী ভয় না পেয়ে যায় । এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিটির পিছনে সোজা ভাবে দাঁড়াতে হবে । তারপর পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুক আর পেটের মধ্যে খানে জোর চেপে ধরে চাপটিকে উপর দিকে সঞ্চালিত করতে হবে । অনেকটা ইংরেজী ” J “অক্ষরের মত করে । যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির সৃষ্টি হয় ফলে মুখে আটকে থাকা খাবার বা বস্তু মুখদিয়ে কাশির সাথে বেরিয়ে আসে।

এইবার ধরুন নিজে আক্রান্ত কিন্তু আপনার সাহায্যর জন্য আসেপাশে কেউ নেই তাহলে কী করবেন ? এক্ষেত্রে , একটি চেয়ার নেবেন , চেয়ারের যেদিকে হেলান দেওয়া হয় ওটি পেট আর বুকের মধ্যস্থলে রেখে যতটা সম্ভব চেপে রেখে উপরের দিকে চাপটিকে সঞ্চালিত করতে যাতে কাশির সৃষ্টি হয় ।যাতে খাবার বা বস্তু মুখদিয়ে কাশির সাথে বেরিয়ে আসে

এবার ধরা যাক সদ্যজাত শিশু দুই আড়াই বছর বয়স অব্দি সেক্ষেত্রে উপাই কী ?
শিশুটিকে বাঁ হাতে রাখতে হবে , পিঠের দিকটা যাতে উপর দিকে থাকে আর মুখ মেঝের দিকে ( ছবির মত ) । এবার ডান হাতের চেটো দিয়ে পিঠের দিকে কাঁধের উপর তিন চারটি চাপড় মারতে হবে যাতে মুখ দিয়ে আটকানো খাবার বা বস্তুটি বেরিয়ে আসে । তখনও যদি না বের হয় তাহলে বাচ্চাটিকে চিৎ করে শোয়াতে হবে এবং দুই আঙ্গুল দিয়ে অল্প চাপে বুকের মধ্যস্থলে মালিশের মত চাপ মুখের দিকে সঞ্চালন করতে হবে । তারপর আবার পূর্বের মত বাঁ হাতে রেখে তিন চারটি চাপড় মারতে হবে । এতে শিশুর মুখদিয়ে বস্তুটি বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় ।

কিছু পরামর্শ :
১. খাবার ধিরে ধিরে খান ,চিবিয়ে চিবিয়ে ,ছোট টুকরো টুকরো করে ।
২. মুখে খাবার নিয়ে কথা বলবেন না ,হাসবেন না ।
৩. মোটা লোকের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যাদের গলায় ফ্যাট জমে আছে তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে । তাই তাদের ওজন কমাবার ,গলায় ফ্যাট কমাবার প্রচেষ্টা নিতে হবে।
৪. খাবার সময় জল সাথে রাখুন ,অবশ্যই গ্লাসে ।
৫. বাচ্চাদের খাবারের সময় কথা বলতে বারণ করতে হবে আর আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেতে বলতে হবে ।
৬.বাচ্চাদের বাদাম,ছোলা ,মটর,টফি খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে অন্তত চার বছর বয়স পর্য়ন্ত ।
৭. ছোট ছোট বস্তু যেমন বোতাম , ছোট বল ,গুলি , পেনের ঢাকনা এসব জিনিস নাগালের বাইরে রাখতে হবে ।
৮. বাচ্চাদের মুখে কিছু আটকে গেলে মুখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে বার করার চেষ্টা না করাই ভাল ,প্রথমে ঠান্ডা জল খাইয়ে চেষ্টা করা উচিৎ খুব আপাতকালীন মূহুর্তেই উপরের পদ্ধতিটি অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন