Jan 16, 2018

নিউইয়র্ক : জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অভিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে “অভিবাসনের সত্যান্বেষণ: বিশ্ব অভিবাসন রিপোর্ট ২০১৮ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নির্দেশক এর উদ্বোধন” শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন (বাম থেকে দ্বিতীয়)। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অভিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে “অভিবাসনের সত্যান্বেষণ: বিশ্ব অভিবাসন রিপোর্ট ২০১৮ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নির্দেশক এর উদ্বোধন” শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। ১৮ ডিসেম্বর সোমবার এ অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ও পর্তুগাল।
ইভেন্টটির কী-নোট স্পীকার ছিলেন আইওএম এর মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ল্যাসি সুইং।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং পর্তুগালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সসিসকো ডুয়ারর্টে লোপেজ ইভেন্টটিতে স্বাগত বক্তব্য দেন।
বিশ্ব অভিবাসন রিপোর্ট ২০১৮ এর উদ্বোধন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নির্দেশকসমূহকে পরিচিত করানোর লক্ষ্যেই এই ইভেন্টটি আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী অনিয়মিত ও অনিরাপদ অভিবাসনের ধারা হ্রাসের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণীর অংশবিশেষ “বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবপাচার বিরোধী আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিশ্বের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে” -তিনি এ অনুষ্ঠানে পড়ে শোনান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের পাঠানো রেমিটেন্স গ্রহণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি শীর্ষস্থানীয় দেশ। আমরা সবসময়ই ন্যায়সঙ্গত জনশক্তির নিয়োগ, এর নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন, আইনানুগ অভিবাসন, উপযুক্ত কর্ম-পরিবেশ, পরিবারের সদস্যসহ অভিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, রেমিটেন্স পাঠানোর খরচ কমানো ইত্যাদি বিষয়গুলোর জন্য সকল ফোরামে কথা বলে আসছি। তাছাড়া রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে অভিবাসনকে আমরা জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালায় সম্পৃক্ত করেছি”।
অভিবাসীদের অধিকারের কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়মিত অভিবাসন কমপ্যাক্ট গ্রহনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা; জাতীয় নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে অভিবাসনকে স্থান দেওয়া এবং অভিবাসনের ফলপ্রসু ব্যবস্থাপনার জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সুদৃঢ় করা -এসবের জন্য বৈশ্বিকভাবে সকলকে এগিয়ে আসা দরকার”।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও সামর্থের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশ সরকার মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে এবং আইওএমসহ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ দ্বি-পাক্ষিকভাবে এই সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আইওএম এর ভূমিকা অত্যন্ত প্রসংশনীয়”।
অনুষ্ঠানটিতে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইওএম এর মাইগ্রেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ম্যারি ম্যাকাওলিফি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম অ্যালেন, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগের প্রধান জনমিতিক বিশ্লেষক জর্জ ব্রাভো, আইওএম এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট সুসামি মেলদি এবং আইওএম-এর পলিসি অফিসার ডেভিড মার্টিনিউ।
প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানটির মডারেটর ছিলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়ের ইভা আকারম্যান বোর্জে।
বক্তাগণ রিপোর্টটির ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন এই তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক প্রতিবেদনটি জাতীয় নীতি প্রণয়নে অভিবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করতে সাহায্য করবে।
এরপর রাষ্ট্রদূত অভিবাসী দিবস উপলক্ষে ইউনিসেফ ও আইওএম আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাক, আইওএম এর মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ল্যাসি সুইং এবং ইউনিসেফ এর নির্বাহী পরিচালক উইলিয়াম অ্যান্থনি ক্রিসপ লেক ইউনিসেফ ও আইওএম আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া দিনব্যাপী জাতিসংঘ ও এর আওতাধীন অন্যান্য সংস্থা আয়োজিত ইভেন্টগুলোতেও বাংলাদেশ মিশন অংশগ্রহণ করে।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন