Jan 17, 2018

নিউইয়র্ক : সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, এডাম ক্যারল (মূল বক্তা) এবং শাহ শহীদুল হক (বাম থেকে)। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে বর্বরতা ও নৃশংসতার জন্যে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীনদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সোপর্দের দাবি উঠেছে নিউইয়র্কে এক সেমিনার থেকে।
১৮ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন উডসাইডে ‘গুলশান ট্যারেস’ মিলনায়তনে এই ‘রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি, হেইট ক্রাইম প্রিভেনশন এ্যান্ড স্ট্যান্ড এগেইনস্ট টেররিজম’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে নিউইয়র্কস্থ ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। সেমিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ‘বার্মা টাস্ক ফোর্স’র প্রধান জাতিসংঘ এডাম ক্যারল।
আমেরিকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট ও মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মেরাজ, কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নি মঈন চৌধুরী, নিউইয়র্ক ইন্সুরেন্স ব্রোকারেজ কোম্পানির প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ, সৈয়দ খাজা উমায়ের হাসান, সৈয়দা উম্মে ফাতেমা প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে হোস্ট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শাহ শহিদুল হক সাঈদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। চীন, রাশিয়া এবং ভারতকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসা জরুরী। অন্যথায় বাগাড়ম্বর করে লাভ নেই।’
সাঈদ বলেন, ‘সম্প্রতি আকায়েদ উল্লাহ নামক এক বাংলাদেশী যুবকের অপকর্মের দায় কোনভাবেই জাতিগতভাবে সকল বাংলাদেশীর ওপর চাপানো যাবে না। কারণ, এই আকায়েদের কোন জাতি বা ধর্ম পরিচয় থাকতে পারে না। আকায়েদরা হচ্ছে মানবতার শত্রু এবং ওদের পরিচয় একটাই, তা হচ্ছে সন্ত্রাসী।’ ‘এ জন্যে সকল প্রবাসীকে দলমতের উর্দ্ধে উঠে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ রচনা করতে হবে। তাহলেই হেইট ক্রাউমের প্রবণতা হ্রাস পাবে’-উল্লেখ করেন সাঈদ।
সেমিনারের উপস্থাপনা করেন সেক্রেটারি সৈয়দ আকিকুর রহমান।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’কে এ ধরণের সেমিনার আয়োজন করবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস দ্বিপাক্ষিক বিষয় হলেও এর সমাধানের জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্বের সকল নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে।’ ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট রয়েছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত রাখতে। ইতিমধ্যেই সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভাতেও আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার বিস্তারিত আলোকপাত করেছি’-বলেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। এ ব্যাপারে প্রত্যেক প্রবাসীকে সোচ্চার থাকতে হবে। একইসাথে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্সের ব্যাপারেও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের ভালোভাবে অবহিত করতে হবে-আহবান রাষ্ট্রদূতের।
মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার সংগঠক এডাম ক্যারোল বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নির্যাতিত নিপীড়িত ও সেখানে পরিকল্পিতভাবে জেনোসাইড হচ্ছে। পৃথিবীর নানা দেশের সংবাদ সংস্থা ও অবজারভার সংগঠনগুলো এর প্রমাণ পেয়েছে কিন্তু মিয়ানমার সরকার তা শিকার করছে না। এটি খুবই দু:খজনক। এহেন অবস্থায় গোটাবিশ্বকে মানবতা সমুন্নত রাখতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’
গোলাম মেরাজ বলেন,’ ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আন্তর্জাতিক মহলের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন দরকার। তাই নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যানকে কনভিন্স করতে প্রত্যেক প্রবাসীর ভ’মিকা অপরিহার্য।’
সেমিনার শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন’কে
সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও সমাজকর্মে অবদান রাখার জন্য এটর্নি মেরি এস পনিস, রানো নেওয়াজ, মনি হোম কেয়ার, আসিফ বারি টুটুল, সৈয়দ খাজা উমাইর হাসান ও সৈয়দা উম্মে ফাতেমাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, এই সংস্থার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ন্উিইয়র্ক সিটিতে আরো দুটি র‌্যালি হয়েছে মিয়ানমারের বর্বরতার প্রতিবাদে।

 

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন