Jan 17, 2018

নিউইয়র্ক : বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির সাথে সাক্রামেন্টোর প্রবাসীরা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টোর প্রবাসীরা ভিন্ন এক আমেজে ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপন করলেন। এ উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর লাল-সবুজে আচ্ছাদিত ‘স্বাধীনতা-আমার স্বাধীনতা’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সকল বয়েসী বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিতদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানে নাচ আর গানের সাথে ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া নাটিকা। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পরতে ঝলসে উঠে বাঙালির অবিস্মরণীয় এ বিজয়ের কথা। একাত্তরের টানা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তথ্য প্রবাস প্রজন্মকে অবহিত করতে এ আয়োজনের বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন একাত্তরের কাদেরিয়া বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ গেরিলা ড. নূরন্নবী এবং তার স্ত্রী আরেক গেরিলা ড. জিনাত নবী। ভারতে না গিয়ে টাঙ্গাইলকে নিজেদের কব্জায় রেখে পাক হায়েনাদের অস্ত্র লুট করে সেই অস্ত্রে প্রতিরক্ষা বুহ্য রচনাকারী কাদের সিদ্দিকীর পাশে থাকা ড. নূরন্নবী বিবৃত করেন সে সব স্মৃতি। বিশেষ করে রাজাকার-আল বদরের সহায়তায় পাক বাহিনীর বর্বরতা, গণহত্যা এবং সর্বশেষ বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার লোমহর্ষক ঘটনাবলী উপস্থিত সকলকে ভাসিয়ে নেয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা দু:সহ স্মৃতির সাগরে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহনের পর জাপানের কিউসো ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে ডক্টরেট (Ph.D. in Biochemistry from Kyushu University in Japan) এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারে পোস্ট ডক্টরাল (Postdoctoral research at New York University Medical Center) শেষে দীর্ঘ ২২ বছর কৃতিত্বের সাথে চাকরির পর ২০০৬ সালে সহযোগী পরিচালক হিসেবে নিউজার্সিতে অবস্থিত কলগেট-পালমলিভ (Colgate-Palmolive) থেকে অবসর নিয়েছেন ড. নবী। ‘কলগেট-টোটাল’ নামক টুথপেস্টের উদ্ভাবক ড. নবী অবসর নেয়ার পরই নিউজার্সির প্লেইন্সবরো টাউনশিপের কমিটি মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ২০০৭ সালে। এরপর থেকেই এ দায়িত্বের পাশাপাশি প্রবাসী-বাংলাদেশীদের সাথেও বাঙালি সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছেন। তার সহধর্মীনি ড. জিনাত নবীও একই কোম্পানীতে এখনও চাকরিতে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মুুক্তিযুদ্ধের সময়ের কিছু চিত্র এবং একটি ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এ উপলক্ষে প্রবাস প্রজন্মের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের পর শিশু-কিশোরেরা আনন্দধ্বনি দেয়। অনুষ্ঠান থেকে বিজয় দিবসের চেতনা জীবনের সর্বাঙ্গে লালন ও পালনের সংকল্প ব্যক্ত করা হয়। একইসাথে ধিক্কার আর ঘৃণা প্রদর্শন করা হয় রাজাকার-আল বদর-আল শামস এবং শান্তি কমিটির লোকজনের। চলমান বিচারের মধ্য দিয়ে একাত্তরের সকল ঘাতকের ফাঁসি প্রদানের আকুতিও উচ্চারিত হয়।

 

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন