Jan 16, 2018

নিউইয়র্ক : বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপনে নিউইয়র্কে আনন্দ-র‌্যালি। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : হিমেল হাওয়ার মধ্যে অঝোর ধারার বৃষ্ট্রি দমাতে পারলো না বাঙালির আনন্দ-উদ্দীপনা। ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে বৃষ্টিমুখর পরিবেশেই একাত্তরের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় সেই ভাষণের আমেজ রচনা করলেন প্রবাসীরা। শিশু-কিশোর-নারী-পুরুষের এই আনন্দ-শোভাযাত্রা ভিনদেশীদের কৌতুহল বাড়িয়ে দেয়। বাঙালিদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ৭ মার্চের ঐ ভাষণের ঐতিহাসিক অবদানের ব্যাপারটি এখন সারাবিশ্বের অধিকার আন্দোলনের উদ্দীপক-প্রতিকে পরিণত হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষণ ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ ডিসেম্বর শনিবার এই আনন্দ-শোভাযাত্রার আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট। এটি অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ার এথেন্স পার্কে। গ্রীক সভ্যতার স্মৃতিবাহি এবং গ্রীসের রাজধানীর নামানুসারে এই পার্কের নামকরণ করা হয় ‘এথেন্স স্কোয়ার’। অর্থাৎ মানবতা আর সভ্যতার প্রতিক এই পার্কে বাঙালিদের এ আনন্দ-শোভাযাত্রা ভিন্ন এক আমেজ বইয়ে দেয়।
মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরের পাশাপাশি বাংলাদেশ মিশন ও কনস্যুলেট এর কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নেন।
শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক এর কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, এনডিসি।
জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণকে পটভূমিতে রেখে তার উপর লাল-সবুজের উড্ডীন জাতীয় পতাকা অঙ্কিত ব্যানার, জাতীয় পতাকা, ফেস্টুন, বেলুন শোভা পায় এ কর্মসূচিতে। শোভাযাত্রার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া পথচারি ও যানবাহনের যাত্রীগণ, নিরাপত্তাকর্মী অনেকেই থমকে দাঁড়ায়। তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং কনসাল জেনারেল শামীম আহসানসহ উপস্থিত কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এ উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীর বিভিন্ন অংশ পালাক্রমে পড়ে শোনান। রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন, “জাতির পিতার ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল। যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ইউনেস্কো থেকে নেওয়া হয়েছে, তা এ রকম আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি”।
প্রতিক’ল আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত মোমেন।
কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, “জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণের এই স্বীকৃতি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই ভাষণ আর বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সারা পৃথিবীর মানুষের অনুপ্রেরণা দানকারী একটি দলিলে পরিণত হয়েছে যা মানুষকে জাগ্রত রাখবে তাদের দাবী আদায়ের ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে”।
এ সময় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক শ্লোগানে মুখরিত হয় এথেন্স পার্ক। ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ এর দিনগুলোতে মুক্তিকামী মানুষদের কতটা প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল তা উপস্থিত প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দের মধ্যে ফুটে ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে। ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক র‌্যালি হয়েছে।

 

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন