Jan 17, 2018


গত ২৫ ডিসেম্বর এস্টোরিয়ার জনতা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইন্ক এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মাসুদুল হক ছানু। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান রুহুল। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা আজিজুর রহমান সাবু, আব্দুল আহাদ ফারুক, ছমির উদ্দিন ও গৌছ উদ্দিন খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক উপদেষ্টা মকবুল রহিম চুনই, অডিট কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল জলিল ও আবুল হোসেন। সভার প্রারম্ভে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কোষাধ্যক্ষ হেলিম উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক তার লিখিত সম্পাদিকীয় রিপোর্টে ইংরেজি নর্ববষের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক কার্যক্রম, বনভোজনসহ বিগত দিনের কার্যক্রমের বিবরণী পেশ করেন। তিনি বলেন সমিতির ভবনের রেন্টাল ইনকাম ছয় হাজার পঞ্চাশ ডলার থেকে আমরা আট হাজার ৮৫ ডলারে উন্নতি হয়েছে। গত ৩০শে জুলাই ভোটার হওয়ার শেষ দিন ৪৬১ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে সমিতির আজীবন সদস্য ৭৯৪ জন। সব মিলিয়ে এবারের সদস্য ১২৫৫ জন। সম্পাদকীয় রিপোর্টে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রান সহায়তা দিয়ে ফেরার মতে বিয়ানীবাজারের যে ৬ জন মারা যাওয়ায় তাদের রুহের মাগফেরাতের জন্য ওজন পার্কে আল আমান মসজিদে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বিয়ানীবাজার সমিতির ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল পার্কে ১০৭টি কবর আমাদের আছে। সমিতির নামে নিউজার্সির মালবোরো মুসলিম মেমোরিয়াল সেমিট্রিতে ১১৩টি নতুন কবর ক্রয় করা হয়। কবরের মূল্য ৫৬ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে ২৫শ ডলার ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। ৫৪ হাজার ডলারের মধ্যে ১১ হাজার ডলার ব্যক্তিগত অনুদান আমরা পেয়েছি। বাকী ৪৩ হাজার ডলার সমিতির তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়।
কোষাধ্যক্ষ তার রিপোর্টে গত ছয় মাসের পরিবর্তে ৫ মাসের হিসাব উপস্থাপন করার ব্যাখ্যায় বলেন ডিসেম্বর মাসের চেক ক্লিয়ারেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সমিতির আসন্ন নির্বাচনী ব্যয় আমাদের হাতে আসার পর জানুয়ারীতে অডিট করে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে সমিতির ব্যাংক একাউন্টে নভেম্বর মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী ৫০ হাজার ১২০ ডলার ৫৩ সেন্ট জমা আছে। সম্পাদকীয় রিপোর্ট ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট এর পর আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক উপদেষ্টা মকবুল রহিম চুনই, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল, সমিতির সাবেক সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম দুখু, সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, আতিকুল আহমদ বেলাল প্রমুখ।
সভাপতি মাসুদুল হক সানু সাধারণ সম্পাদক রিপোর্ট ও কোষাধ্যক্ষ রিপোর্ট এর উপর প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তর প্রদান করেন। তিনি বলেন গত ৩০ শে জুলাই সদস্য সংগ্রহের দিন সদস্য সংগ্রহ বাবদ টাকা জমা দেওয়ার পর কতিপয় ব্যক্তি ওনাদের টাকা ফেরত চান। সভাপতি বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক সমিতির তহবিলে টাকা জমা হওয়ার পর কোন টাকা ফেরতযোগ্য নহে। তিনি বলেন, সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ও উপস্থিত মুরব্বীদের অনুরোধে আমি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়।
গত ২৫ শে আগষ্ট ২০১৭ সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের সদস্য আব্দুল মান্নান ও সদস্য আবুল হোসেন বাদী হয়ে কুইন্সের সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন বিয়ানীবাজার সমিতির উপর। অভিযোগ ছিল টাকা সংগ্রহ করে বাদীদের সমিতিতে ভোটার অন্তভূক্তি করা হয়নি। ফলে মহামান্য মহামান্য আদালত সমিতির নির্বাচনী কার্যবিধির উপর স্থগিত আদেশ জারি করেন। এর বিরুদ্ধে সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আপিল করেন। বাদীপক্ষের আনিত অভিযোগ পর্যালোচনা শেষে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মহামান্য আদালত গত ৬ই ডিসেম্বর মামলাটি খারিছ করে দেন। ফলে বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোন বাধ্য রইল না।
সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, গত ৩০ জুলাই ২০১৭ সদস্য সংগ্রহের সময় আমার জীবনের প্রতি হুমকি, অপমান, দুর্ব্যবহার এবং ফেইস বুকে ভিডিও প্রচার করার কেউ বিচার করেন নাই। আমি আজ এই সাধারণ সভায় সবার কাছে এর বিচার প্রার্থী। সভাপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ সভায় ঐ দিন যারা সভাপতির প্রতি অনৈতিক আচরণে জড়িত ছিল তাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। সভাপতি সবাইকে সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বিগত ২ বৎসরের কার্যকালীন সময়ে অজানা অবস্থায় ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান এবং সবাইকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অডিট রিপোর্টঃ সাধারণ সভা চলাকালীন সময়ে সমিতির অডিট কমিটির সদস্যদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বিগত ১ বৎসর ১১ মাসের অডিট রিপোর্ট তুলে ধরেন। সাধারণ সভায় তার রিপোর্টে কমিটি কর্তৃক হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতার কথা স্বীকার করে বলেন তাদের কাছে কোন ত্রুটি ধরা পড়ে নাই, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কাগজপত্র সব কিছু আমরা কুটিনাটি পরীক্ষা করে দেখেছি।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন