Jan 17, 2018


দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রায় দুইযুগের নির্বিচার শোষন-নিপিড়ন, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন এটি। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ।কানাডার সাসকাটুনে ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন অব সাসকাচুয়ানের (বিকাস) উদ্যোগে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়।
সাসকাটুনে লরিয়ের ড্রাইভের কসমো সিভিক সেন্টারে কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা হয়। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেনের পরিচালনায় বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক পদচারনা নিয়ে প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয় । এরপর বাংলা হ্যারিটেজ স্কুলের ঋতি, ঐশী , পূর্ণতা, শ্রিদুলা, মধুরিমা, রিভি, রায়েসা, দেবি, দিপা আর পারিজাত পরিবেশন করে ‘ সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তে তুমি’ , ‘ও আমার বাংলা মাগো ‘ সংগীত আর ‘ মাগো ধন্য হলো’ গানের সাথে নৃত্য । নির্ঝর, আলাভি, অর্থি, পরমিতা, প্রমি, অর্পা, টুম্পা, প্রকৃতি, প্রার্থনা, মাশরাফি,আসিফ, লাসির, অরিন্দমসহ আরো অনেক স্থানীয় শিল্পী সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। প্রিতমের নির্দেশনায় ইউনিভার্সিটি অফ সাসকাচুয়ান এর আন্ডারগ্রেজুয়েট ষ্টুডেন্ট ফেডারেশন এর মাশরাফী, লাসির, অরিন্দম, আসিফ আর পুজা নাটক পরিবেশন করে।
বিকাস-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কামনাশীষ দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাসকাটুন মেউয়াসিন এর এমএলএ রাইয়ান মেইলি।এই অনুষ্ঠানেই অভিষেক হয় বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন অব সাসকাচুয়ান (বিকাস) এর নবনির্বাচিত পরিষদের ।
অনুষ্ঠানের মূল আর্কষন মন্ট্রিয়াল থেকে আগত আমন্ত্রিত সঙ্গীত শিল্পী চুমকি আর পাভেল মঞ্চে আসেন দর্শকদের বিপুল করতালির মাধ্যমে। একে একে তারা পরিবেশন করেন ,’ খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘নান্টূ ঘটকের কথা শুইনা’, ‘ এক নজর ‘, ‘ সব আকাশের তারা তুই ‘,’ আজম খানের বাংলাদেশ’,’ চুমকি চলেছে একা পথে;সহ বেশকিছু জনপ্রিয় গান। তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে মাইনাস ৩৮ থাকলেও অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এসে দর্শকদের নাচানাচি দেখে তা মোটেও মনে হয়নি।
বিশেষ অতিথির ভাষণে রাইয়ান মেইলি বলেন, ‘ বাঙ্গালী জাতির যুদ্ধ করার মানসিকতা আমাকে অনেক সময় উৎসাহিত করেছে সামনে চলার ক্ষেত্রে। বিজয় দিবসে সবাইকে আমার অভিনন্দন আর নব্বর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা।’ সভাপতির কামনাশীষ দেব বলেন, ‘ বিজয়ের এই ৪৬ বছরে অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করেছে এই বাঙালি জাতি। কখনো এগিয়েছে সামনে , আবার কখনো পিছিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কখনো হতাশ হয়ে থেমে যায়নি।জাতির এই লড়াকু শক্তিই আমাদের প্রবাস জীবনের মূল শক্তি। আর এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা ।আর নতুন কমিটির প্রথম অনুষ্ঠান হিসাবে যদি ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে তার সকল দায়ভার আমি নিয়ে কথা দিচ্ছি সামনের অনুষ্ঠানগুলো সফল ভাবে পালন করতে সচেষ্ট হব।’

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন