Jan 17, 2018


সালাহউদ্দিন আহমেদ॥ বিদায় ইংরেজী ২০১৭, স্বাগতম ২০১৮। ৩১ ডিসেম্বরের সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের আবর্তে হারিয়ে গেলো আরো একটি বছর। নানা কারণেই বিদায়ী ২০১৭ আলোচিত বছর। উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের নানা ঘটনায় মানুষের মনে থাকবে ২০১৭ সাল। নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি যেমন বাড়ছে, তেমনী নানা সংগঠনের পাশাপাশি বাড়ছে কমিউনিটির নানা ঘটনা। বিদায়ী বছরের ভালো-মন্দ আর আশা-নিরাশার নানা আলোচিত ঘটনা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন।

জানুয়ারী:
নিউইয়র্ক টাইমস’র পূর্ণ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশী মুনিরা: বছরের শুরুতেই বিশ্বখ্যাত দ্যা নিউয়র্ক টাইমস-এর ভিতরের পূর্ণ পৃষ্ঠায় ছবি প্রকাশের ফলে আলোচিত হয়ে উঠেন বাংলাদেশী মুনিরা আহমেদ। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলা ‘উইমেন লং মার্চ’- নামের বহুল আলোচিত নারী আন্দোলনের প্রেরণাদানকারী বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণী মুনিরা আহমেদ। ইতোমধ্যেই তিনি ওই আন্দোলনের ‘মুখপাত্র ও প্রতীক’ হয়ে উঠেছেন। হিজাব পরিহিত তার আলোচিত ছবি স্থান পেয়েছে বিশ্বখ্যাত দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর পাতায়। ‘WE THE PEOPLE’ & ARE GREATER THEAN FEAR’ শিরোনামে মুনিরা আহমেদের ছবিটি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস-এ পূর্ণ পৃষ্ঠা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে উই দ্য পিপল আর ডট অর্গ নামক একটি মানবাধিকার সংগঠন। গত ২০ জানুয়ারী শুক্রবার পত্রিকাটির মূল অংশের এ পার্টের ১৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: WE THE PEOPLE ARE INDIVISIBLE. WE ARE RESILIENT. WE PROTECT EACH OTHER. WE DEFEND DIGNITY. WE ARE GREATER THEN FEAR’.
ছবিটিতে মুনিরা আহমেদকে দেখা যায় একটি হিজাব মাথায় দেওয়া অবস্থায়। হিজাবটি মূলত আমেরিকান পতাকার নকশায় তৈরি। আর ছবিটি এডিট করেছেন শেফার্ড ফেইরি। ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার ‘হোপ’ থিমে তৈরি একটি ছবি নিয়ে কাজ করে পরিচিতি পান ফেইরি। উল্লেখ্য, এমপি¬ফায়ার ফাউন্ডেশনের অধীনে ‘উই দ্য পিপল’ নামক একটি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ছবিটি তৈরি করেন শেফার্ড ফেইরি। ফেইরি এখানেও ওবামার ছবির মত ‘ব্লক স্টাইল’ ব্যবহার করেছেন।
মুনিরা আহমেদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শহরেরই (নিউইয়র্ক) কুইন্স বরোর জ্যামাইকায় বড় হয়েছে ছোট বেলা থেকে। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ থেকে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে। তার বাবা মোস্তাক আহমেদ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। মা নার্গিস আহমেদ বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সভাপতি এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট। সাম্প্রতিককালে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পবিরোধী ওই র‌্যালীতেও অনেক আন্দোলনকারীর হাতেই ছিল মুনিরা আহমেদের ছবি। এছাড়াও নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদকারীদের হাতেও শোভা পাচ্ছে ছবিটি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুনিরার ওই ছবিটি প্রায় এক দশক আগের। ছবিটি কুইন্সের একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার রিদওয়ান আধামির তোলা। আর তা ফেইরির ছোঁয়া লাগার পর প্রথম অনলাইনে ভাইরাল হয়ে ওঠে মুসলিম একটি ব্লগে পোস্ট করার পর।
ছবিটি সম্পর্কে মুনিরা আহমেদ বলেন, এটি শুধু বলতে চাওয়া, ‘আমিও তোমাদের মতই আমেরিকান’। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের পর নিউইয়র্কে এসে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আমেরিকান এবং আমি মুসলিম। আর এ দুটি পরিচয়েই আমি গর্বিত। ছবিটির বিষয়ে মুনিরা আরো বলেন, এই ছবিটি যেই বার্তা দিচ্ছে, তার জন্য আমি গর্বিত। এটা শুধু কারো বিরোধিতা করার জন্য নয়। মূলত কিছু ধারণ করছে এটি। ছবিটি বলতে চাচ্ছে, আমিও তোমার মতই আমেরিকান।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মুনিরা বলেন, অধিকাংশের ভোট না পেয়েও সে নির্বাচিত হয়েছে। আর থেকেও দুঃখের বিষয়, অনেক আমেরিকান মনে করছে এই দেশ থেকে ভিন্ন ধর্ম-গোত্রের মানুষদের বের করে দেওয়া উচিত। আমি জানি এটা আমেরিকার অধিকাংশ মানুষের নৈতিক অবস্থান নয়।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পবিরোধী মার্চে যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেসের একজন নারী মুনিরাকে এই ছবিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। মুনিরা জানায়, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সে আমাকে চিনতে পারছে। কারণ ছবির মেয়েটি হিজাব পড়ে আছে। আর আমি সেখানে হিজাব ছাড়া গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, মেয়েদের একটি দল জানতে চেয়েছিল, আমি কবে থেকে হিজাব পড়া বন্ধ করেছি। উত্তরে আমি বলেছি, কখনই আমি হিজাব পড়িনি।
মুনিরা বলেন, এই ছবিটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় জীবন রয়েছে। তিনি বলেন, একটি মুসলিম ব্লগে কেউ ছবিটি দেওয়ার পর বেশ দ্রুত তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এটা ছিল অনলাইন যে কোন কিছু ভাইরাল হওয়ার আগের কথা। আর তারপর বর্তমানে ছবিটি আবারও ভাইরাল হয়ে উঠছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে- যা পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় বড় একটি প্লাটফর্মে ভাইরাল হচ্ছে।
বাংলাদেশী-আমেরিকান মুনিরা আহমেদ-কে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে মা নার্গিস আহমেদ ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে বলেন- মুনিরার মা হিসেবে আমি গর্বিত। একজন ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আমি আমেরিকার সকল ইমিগ্র্যান্টদের পক্ষে, চলমান আন্দোলন আমি মনে-প্রাণে সমর্থন করছি। মুনিরার ছবি ইমিগ্র্যান্টদের পক্ষে আজ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশী কমিউনিটি এই আন্দোলনের সাথী হয়ে ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার আদায়ে শামিল হচ্ছেন। বাংলাদেশী-আমেরিকান আজ মূলধারায় অবস্থান করছে। এটাও গর্বের বিষয়।

ফেব্রুয়ারী:
জাকির খান হত্যা: ফেব্রুয়ারী মাসে কমিউনিটির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিলো মিসরীয় বাড়ীর মালিকের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশী ভাড়াটিয়া জাকির খানের অকাল মৃত্যু তথা হত্যাকান্ড। নিউইয়র্কে বাড়ীর মালিক আর ভাড়াটিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নিহত হন কমিউনটির পরিচিত মুখ ও বাংলাদেশী-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান। তার মরদেহ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে তার গ্রামে সমাহিত করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ব্রঙ্কসে বাংলাদেশী অধ্যুষিত থ্রগসনেক এলাকার ভাড়া বাসার সামনে বাড়ীর মালিক মিসরীয় বংশোদ্ভূত তাহার মাহরান (৫১)-এর উপর্যুপরি ছুরিকাতে জাকির খান (৪৪) গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে স্থানীয় জ্যাকোবী হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার অকাল মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি মর্মান্তিক এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। নয় মাস বাসা ভাড়া না দেয়ায় ক্ষুব্ধ বাড়িওয়ালা মাহরান এই হত্যাকান্ড ঘটায় বলে জানা গেছে। পুলিশ মাহরানকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বাদ জুমা দুপুর দু’টায় ব্রঙ্কসের ভার্জিনিয়া এভিনিউর পার্কচেস্টার জামে মসজিদে প্রথম জাকির খানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রঙ্কস তথা নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে স্মরণকালের বৃহৎ এ জানাজায় শতসহস্র লোক অংশ নেন। জানাজা শেষে বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার রাত ১১ টায় এ্যামিরাটসের একটি ফ্লাইটে জাকির খানের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঠানটিলা গ্রামে বাংলাদেশ সময় ২৬ ফেব্রুয়ারী রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার অনুষ্ঠিত জানাজায় ঢল নামে প্রবাসী বাংলাদেশীদের। ২৬ ফেব্রুয়ারী রোববার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে মরহুম জাকিরের মা-বাবার কবরের পাশেই তার মরদেহ দাফন করা হয়।
যেভাবে নিহত হন জাকির: জাকির খানের পারিবারিক সূত্র জানায়, জাকির খান অন্যান্য দিনের মত কাজ শেষে ব্রঙ্কসের লোগান এবং বারকলি এভিনিউর ভাড়া বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই সময় বাড়ির মালিক জাকির খানকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাড়ীর মালিক নিজেই চিৎকার করে পুলিশে খবর দিতে বলেন। পুলিশ এবং এম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত জাকির খানকে উদ্ধার করে নিকটস্থ জ্যাকবি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসাবস্থায় জাকির খানের মৃত্যু হয়। জাকির খানের বাড়ির মালিক মিসরীয় বংশোদ্ভূত তাহার মাহরানকে পুলিশ ২২ ফেব্রুয়ারী বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বাড়িওয়ালার তাহার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, বাড়ী ভাড়া নিয়ে বছর খানেক ধরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে জাকির খানের বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি পুলিশ এবং আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
কে এই জাকির খান: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের সন্তান জাকির খান ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসেন। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাস শুরু করেন। জাকির খান নিউইয়র্কে এসে পড়াশুনা শেষ করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ব্রঙ্কসে শীর্ষ স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে কমিউনিটিতে পরিচিত লাভ করেন। নিউইয়র্কের ডেইলী নিউজ পত্রিকায় তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি তাকে ‘কিং অব রিয়েল এস্টেট অব ব্রঙ্কস’ নামে অভিহিত করে। জাকির খান মূলধারার পাশাপাশি কমিউনিটির নানা সামাজিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে’ পালনের অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। জাকির খানের স্ত্রী ন্যান্সী খান একজন সঙ্গীত শিল্পী। জাকির খানের ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং দশ ও সাত বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে। তারা স্কুলে যাচ্ছে। জাকির খানের পিতা মরহুম এজামত খান। তার মাও বেঁচে নেই।
মার্চ:
প্রথম আলো’র উত্তর আমেরিকার সংস্করণ প্রকাশ: স্বাধীনতার মাসে কমিউনিটির আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে আলোচিত ঘটনা ছিলো ঢাকার শীর্ষস্থানীয় প্রথম আলো পত্রিকা’র উত্তর আমেরিকার সাপ্তাহিক প্রকাশনার যাত্রা। ২৬ ডিসেম্বর রোববার জ্যামাইকার ইয়র্ক কলেজ মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথম আলো’র উত্তর আমেরিকা সংস্করণ-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা ফ্রি সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে এর প্রতি সংখ্যার মূল্য রাখা হয় এক ডলার। প্রকাশনার কয়েক সপ্তাহ পর এটি ফ্রি করা হয়। বর্তমানে প্রথম আলো’র প্রথম পৃষ্ঠায় নিউইয়র্কে এক ডলার বাইরে ২ ডলার মূল্য লেখা থাকলেও এটি প্রি পাওয়া যাচ্ছে।

এপ্রিল:
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে যুক্তরাষ্ট্র আ. লীগের সমাবেশে দু দফায় চরম হট্টগোল-হাতাহাতি-মারামারি: এপ্রিল মাসের আলোচিত ঘটনার মধ্যৈ ছিলো যুক্তরাণষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি-মারামারি। খবরে বলা হয়, দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দল আর বিভক্তির জের হিসেবে ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস’ পালন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশে দু’দফা চরম হট্টগোল আর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রথম দফায় দলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ একদল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতিবাদ এবং দলে দুই এমপি’র উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের বাদ-প্রতিবাদের ঘটনায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশী হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে এবং প্রথম দফায় মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা বাতিল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত ১৭ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৮টা দিকে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ নিউ মেজবান পার্টি হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় আলোচনা পর্বের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার। এসময় দলবল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বছর দুয়েক আগে সাসপেন্ড হওয়া সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। নূরুজ্জামান সরদারের বক্তব্যের পর সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ দর্শক সাড়ি থেকে দাঁড়িয়ে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবী করে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চান, কেন তাকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, ‘আমি এখানে থাকতেও কেন আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেয়া হচ্ছে’, ইত্যাদি। এসময় মাইক নিয়ে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আমাকে সাসপেনশনের নির্দেশ জারি করতে বলেছেন এবং সেই টেক্সট আপনি (সাজ্জাদ)ও পেয়েছেন। ড. সিদ্দিক পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত সেম্পেটম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সময় তার (প্রধানমন্ত্রী) সম্বর্ধনা সভায় আপনি ছিলেন না, কোন প্রশ্নও করেননি। দলের স্বার্থে কয়েক মাস আগে আপাকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তখন আপনি তা মেনে নিয়েছেন, কোন প্রশ্ন করেননি। আজ হঠাৎ কী হলো যে, আপনি শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ অমান্য করছেন।
এরপর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ছিলাম না। ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি জেনেছি এবং প্রথমে নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে চাইলে বাধাগ্রস্ত হয়েছি এবং পরে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেলে নেত্রী দলের জন্য কাজ করতে বলেছেন। এই পর্যায়ে ড. সিদ্দিক ও সাজ্জাদের মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকে।
এক পর্যায়ে ড. সিদ্দিকের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সাজ্জাদুর রহমান ঐ সাসপেনশনের টেক্সট মেসেজ দেখানোর দাবী করেন। এসময় ড. সিদ্দিক-সামাদ সমর্থক এক কর্মী দলীয় এক কর্মী সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদর মুখোমুখি হয়ে তাকে (সাজ্জাদ) সভায় কেন এসেছেন বলে ‘জিজ্ঞাসা’ (চার্জ) করতে থাকলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ড. সিদ্দিক ও সাজ্জাদ সমর্থকরা বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হন। এই পরিস্থিতিতে সাজ্জাদ সমর্থকদের সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে ঠেলে অনুষ্ঠান মঞ্চ দখলের চেষ্টা করতে দেখা যায় এবং মঞ্চের কাছে নিয়ে মাইক কেড়ে নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্যে চাপ দিতে থাকেন। এসময় মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, শাহ বখতিয়ার ও কাজী কয়েস সহ হোসেন রানা, ওয়ালী হোসেন, সাইকুল ইসলাম প্রমুখকে সাজ্জাদের পক্ষে দুঢ় অবস্থান নিতে দেখা যায়। অপরদিকে ফারুক আহমদ, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, তৈয়বুর রহমান টনি প্রমুখকে ড. সিদ্দিকের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে দেয়া যায়। এমতাবস্থায় ড. সিদ্দিকের সাথে মঞ্চে বসা দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা চরম ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে বিবদমান দুই গ্রুপের কর্মীরা তুমুল ধাক্কা-ধাক্কিতে লিপ্ত হন। এসময় চেয়ার ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটে। মুহূর্তে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এই অবস্থায় সভাপতি ড. সিদ্দিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামাদ আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প পথে সভাস্থল ত্যাগ করলে সাজ্জাদ সমর্থকরা অনুষ্ঠানস্থল দখল নেয় এবং তারা সভার ব্যানারও খুলে ফেলে।
এরপর সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ মাইক হাতে নিয়ে প্রথম সভা করার ঘোষণা দিলেও পরক্ষনেই সভা শেষ বলে ঘোষণা দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে রেষ্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ পুলিশ কল করেন। সাথে সাথে ডজনখানেক পুলিশ (সাদা পোষাকধারীসহ) অনুষ্ঠানস্থলে এসে সবাইকে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিলে উপস্থিত সবাই সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপরই সমাবেশে যোগ দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি। তার আসন গ্রহণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সভাস্থলে আসেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির এমপি।

মে:
সড়ক দূর্ঘটনায় লং আইল্যান্ডে তিন বাংলাদেশীর মর্মান্তিক মৃত্যু: মে মাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিলো সড়ক দূর্ঘটনায় লং আইল্যান্ডে তিন বাংলাদেশীর মর্মান্তিক মৃত্যু। খবরে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটির অদূরে লং আইল্যান্ড এলাকার নর্দার্ন ষ্টেট পার্কওয়েতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশী নিহত এবং আরো এক বাংলাদেশী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সময় ১৩ মে শনিবার ভোর ৫টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন ঢাকার মাতোয়াইলের শামসুল আলম (৬১), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আতাউর রহমান দুলাল (৩৫) এবং ময়মনসিংহের নৌহল এলাকার রায়হান ইসলাম (২৮)। অপরদিকে আহত আল আমীনের দেশের বাড়ী কিশোরগঞ্জের ভৈরব। তারা সবাই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় বসবাস এবং একই কোম্পানীতে কাজ করতেন। এই হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৫ মে সোমবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে জানাজা শেষে ঐদিন রাতেই আমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইডে তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়। মরদেহের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে যান।
যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশী খালেক গ্রেফতার: মে মাসে আরো একটি খবর কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। খবরটি ছিলো যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশী খালেক গ্রেফতার। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি নিপা মোনালিসা নামের এক বাংলাদেশী নারীকে বাসায় পৌছে দেয়ার নামে পাশ্ববর্থী কানেকটিকাট ষ্টেটে নিয়ে গিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশী নিপা মোনালিসাকে (২৭) যৌন হয়রানি এবং অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে প্রবাসে বাংলাদেশী কম্যুনিটির সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের তথাকথিত নেতা ৪৭ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ খালেককে পুলিশ গ্রেফতার করে। কম্যুনিটিতে সে ইঞ্জিনিয়ার খালেক নামেই পরিচিত। নিউইয়র্কের মূলধারার বিভিন্ন টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়াকে নিপা মোনালিসা বলেন, আমি গত ৭ এপ্রিল ব্রঙ্কসে একটি দোকানে কাজ করছিলাম। আগে থেকেই মোহাম্মদ খালেক আমার পরিচিত। কারণ সে আমাদের বাসার উপরের তলায় থাকে। আমার কাজ শেষে ব্রঙ্কসের বাসায় যাওয়ার জন্য স্টোর বের হতেই মোহাম্মদ খালেক আমাকে বলেন, আমার ট্যাক্সিতে আসুন আমি আপনাকে আপনার বাসায় পৌঁছে দেব। পরিচিত জেনেই আমি তার ট্যাক্সিতে উঠি। ট্যাক্সিতে উঠার পরই সে আমাকে বাসায় না নিয়ে ব্রঙ্কস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কানেকটিকাটের নরওয়াকে নিয়ে যায় এবং গাড়ি থামিয়ে বলে, এই ১ হাজার ডলার তোমার, যদি তুমি আমার সাথে সেক্স কর। আর যদি সেক্স করতে না দাও তাহলে তোমাকে যেতে দেব না। এক পর্যায়ে সে আমাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। আমি ৯১১ কল করি কিন্তু পুলিশকে বলতে পারছিলাম না আমি কোথায়। কারণ আমি স্থানটি চিনি না, আমি ইমিগ্র্যান্ট হয়ে মাত্র কিছু দিন আগে আমেরিকায় আসি। নিপা বলেন, আমি বার বার ট্যাক্সি থেকে বের হবার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সে আমাকে গাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছিলো না। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে আমি গাড়ি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাই এবং আবারো পুলিশ কল করি। এদিকে নিপা মোনালিসার অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ মোহাম্মদ খালেককে গত ১১ মে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে। ১২ মে মোহাম্মদ খালেককে কোর্টে তোলা হলে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ খালেক এর আগেও ৫ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন। গত সামারেও সে একজন মহিলাকে তার ট্যাক্সি তুলে তাকে পর্ণগ্রাফি দেখাচ্ছিলো এবং সেক্সের প্রস্তাব দেয়। সেই অভিযোগে কোর্ট মোহাম্মদ খালেকের ১ হাজার ডলার জরিমানা করে।

জুন:
‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস’র বিরুদ্ধে প্রতারণা অভিযোগ: বিদায়ী বছরের জুন মাসের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিলো সনামধন্য বাংলাদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস’র বিরুদ্ধে প্রতারণা অভিযোগ। খবরে বলা হয়, অগ্রিম টিকিট কেটেও ঈদের আগে দেশে যেতে পারছেন না অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী। এমিরাটস এয়ারলাইন্সের টিকিটের অর্থ নির্ধারিত এজেন্সীকে পরিষদ করেও বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে, নিউইয়র্কের সবেচে পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহি ট্রাভেল এজেন্সী ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস’র বিরুদ্ধে প্রতারণা অভিযোগ আনেন বাংলাদেশী যাত্রীরা। যাদের অনেকেই ঈদ পূর্ব কেনাকাটা শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ান দিয়ে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসেন। জানান, ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস’র জ্যাকসন হাইটস জ্যামাইকা’সহ পাঁচটি শাখায় যোগাযোগ করেও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাজমুল হুদা’সহ কারো দেখা পাচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে অন্যান্য টিকিট এজেন্সীতে ছুটে যান ভুক্তভোগী বাংলাদেশী যাত্রীরা। যাদের অনেকেই ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস’র মাধ্যমে এমিরাটস এয়ার লাইন্স’সহ বিমান বিমান পরিসেবার টিকিট বুকিং’সহ পুরো যাত্রায়াতের পুরো টাকা পরিশোধ করেন। এদিকে, বাংলাদেশী অসংখ্য যাত্রীদের টিকিট বাতিল’সহ ঈদের আগে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের ফেরত আসার বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলসের সাথে। কিন্তু তাদের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তবে, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হুদা টাইম টেলিভিশন এবং বাংলা পত্রিকাকে মুঠোফোনে একটি বার্তা পাঠান। যেখানে লিখেন, গেল দু’দিন ধরে মাইল্ড অ্যাটাকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। নাজমুল হুদা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ট্রাভেলস ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি নর্থ আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়শেন অব বাংলাদেশ’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে টিকিট কিনে প্রতারণা শিকার হবেন বিষয়টি ভাবতে পারেনি বাংলাদেশীরা। নাজমুল হুদা তার বার্তায় আরো দাবি করেন, তিনি অসুস্থ থাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। তার প্রতিষ্ঠানের জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার সুমনে নীরবতাকেও দায়ী করেন তিনি। জানান, দায়িত্বরত কর্মকর্তার নির্লিপ্ততার ফলে অন্যান্য কর্মচারীরাও ভয়ে অফিস ত্যাগ করে চলে যান। তবে, তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করেছেন, সুস্থ হয়ে ফিরে সবার টাকা ফেরত দেবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস। অবশেষে নাজমুল হুদা তার কথা রাখেন এবং সংশ্লিস্টদের অর্থ ফেরৎ দিয়ে পুনরায় ব্যবসায় ফিরে আসেন।
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটর ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম আটক এবং জামিনে মুক্ত: জুন মাসের অন্যতম অলোচিত ঘটনা ছিলো নিউইয়র্ক কনস্যুলেটর ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম আটক এবং জামিনে মুক্তিলাভের খবর। খবরে বলা হয়, গৃহকর্মী নির্যাতনের কথিত অভিযোগ সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম গ্রেফতার ও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর উদ্ভুত ঘটনায় কনস্যুলেটের কর্মকান্ড নিয়ে কমিউনিটিতে নানা প্রশ্ন উঠে। ১২ জুন সোমবার শাহেদুল ইসলাম কুইন্সে তার বাসা থেকে গ্রেফতার এবং পরদিন ১৩ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যা আটটা ২০ মিনিটে সিটির ব্রঙ্কস বরোস্থ ভারমন সি কারেকশন সেন্টার থেকে মুক্ত হন। অভিযুক্ত ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে ২৮ জুন আবারো আদালতে হাজির হতে বলা হয়। এদিকে ১৪ জুন বুধবার থেকে শাহেদুল ইসলাম কনস্যুলেটে অফিস শুরু করেন। অপরদিকে তার গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বিব্রতবোধ করছে বলে কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। যার ফলে ঢাকায় পরাষ্ট্রমন্ত্রালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাসের কর্মকর্তাকে ডেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠে এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আগেই মনিরুল ইসলাম তরিঘড়ি করে স্বস্ত্রীক নিউইয়র্ক ত্যাগ করে তার নতুন কর্মস্থলে (অন্য দেশ) চলে যান।
জাহিদ এফ সর্দার গ্রেফতার: জুন মাসের আরো একটি আলোচিত ঘটনার মধ্যে ছিলো বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার গ্রেওফতার। খবরে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী জাহিদ এফ সর্দার সাদীকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। ক্রেডিট কার্ড মেশিনে ব্যাংকের সাথে অর্থ প্রতারনা ও চেক চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহিদ এফ সর্দার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ফেরারী হিসেবে ওয়ান্টেড ছিলেন। গত ১৭ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার হন তিনি। পলাতক আসামী হিসেবে এফবিআই তাকে দীর্ঘদিন থেকে ওয়ান্টেড হিসেবে খুঁজছিল। ১৭ মে ক্যাপিটাল হিলে তিনি কি করছিলেন সেটা জানা যায়নি। তবে গ্রেফতারের পর পরই তাকে ফ্লোরিডার ওরলান্ডোতে অবস্থিত হাই সিকিউরিটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাহিদ এফ সর্দার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টও জন্দ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতা জাহিদ এফ সর্দারের অবস্থান জানানোর পর পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। জানা যায়, জাহিদ এফ সর্দার ফ্লোরিডার ওলান্ডোতে অবস্থানকালীন সময়ে সেখানে গ্যাস স্টেশনের ব্যবসা করতেন। এ সময় ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড চেক মেশিনের সুবিধা নেন তিনি। ব্যাবসার নামে তিনি ৫৪টি প্রতারনামূলক লেনদেন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই সুবিধায় তিনি ৫৪টি লেনদেন করেছেন যার সবগুলোই ছিল প্রতারণামুলক। চেক জমা দিয়ে এর বিপরীতে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ অর্থ উত্তোলন করলেও এসব একাউন্টে কোন অর্থ ছিল না। যে সব চেক জমা দেয়া হতো তার সবগুলো বাউন্স হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের এমন কর্মকান্ডে ৩৫ ডলার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার ডলারের প্রতারনামূলক লেনদেন হওয়ার তথ্য প্রমাণ এফবিআইয়ের হাতে রয়েছে। প্রতারনামূলক অর্থের পরিমান বিশাল না হলেও এর অপব্যবহারের আধিক্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক করে। যার প্রেক্ষিতে এফবিআই বিষয়টি তদন্তে শুরু করে তাকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। এ সময় ষ্টেটের বাইরে যেতে অনুমতি ছিলো তার। পরবর্তীতে এটাকে হালকা করে প্রতি তিনমাস অন্তর প্যারোল অফিসারের সাথে সাক্ষাত করার নির্দেশ দেয়া হয়। জানা গেছে, এর পরই তিনি প্যারোল অফিসারের সাথে সাক্ষাতের বিধান মেনে চলতে ব্যর্থ হন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। এর প্রেক্ষিতেই তাকে খুজছিল এফবিআই। গ্রেফতারের পর পরই জাহিদ এফ সর্দার সাদিকে ওরলান্ডোতে হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে মুক্তি পান।
মক্কায় বাবাকে ফেলে পালিয়ে গ্রেফতার পারভেজ: জুন মাসের আরেকটি আলোচিত খবরের মধ্যে ছিলো আন্তর্জাতিক টেরোরিজমের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশী তরুণ পারভেজকে মক্কায় গ্রেফতার। খবরে বলা হয়, গত ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির ওজপার্কের বাসিন্দা এই তরুণের বাসায় ব্যাপক তল্লাসী চালিয়েছে এন্ট্রি টেরোরিজম টাস্কফোর্স ও এফবিআই। এর আগে রোজা মাসে বাবার সাথে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে যায় এই তরুণ। তারপর সৌদি আরব থেকেই সন্ত্রাসী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বাংলাদেশী-আমেরিকান এই তরুণের বয়স ২১-২২ বছর হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তার ডাক নাম পারভেজ । রোজা মাসে পারভেজের বাবা তাকে সঠিক পথে আনার কৌশল হিসেবে পবিত্র মক্কা শরীফে ওমরাহ করতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর পরই সে বাবার কাছ থেকে হারিয়ে যায়। পারভেজের উপর আগ থেকেই গোয়েন্দা নজর থাকায় সৌদি আরবেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার বাবা এখনো তার অবস্থান জানেন না। এর পর পরই ঈদের মাত্র দুদিন আগে ওজনপার্কে অবস্থিত ১০১ এভিন্যুতে অবস্থিত বাড়ীটি ঘেরাও করে এফবিআই এজেন্টরা। এতে পুরো এলাকাতে ছড়িয়ে পড়ে আতংক। আসরের নামাজের পর এই অপারেশন চলাকালে পারভেজের ঘরে অবস্থানরত অন্য আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আসা এফবিআইয়ের গাড়ীতে। সেখানে তাদের বসিয়ে রেখে শুরু হয় তল্লাসী। কয়েক ঘন্টার তল্লাসীর পর বাড়ী থেকে কম্পিউটার সহ পারভেজের ব্যবহৃত সব কাগজপত্র নিয়ে যায় এফবিআই। এরই জের ধরে পারভেজের আরো কয়েকজন আত্মীয়ের বাড়ীতেও তল্লাসী চালিয়েছে এফবিআই। গত ২৯ জুন বৃহস্পতিবার পারভেজের বাবা হজ্ব থেকে ফিরে আছেন। পরবর্তীতে পারভেজ নিউইয়র্ক ফিরে আসলে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জুলাই:
যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের রুদ্ধদার বৈঠকে ঐক্য: বিদায়ী জুলাই মাস জুড়েই কমিউনিটিতে আলোচিত ছিলো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, কাউন্সিল দাবী সহ বিভিন্ন ঘটনায় মূলত: বছর জুড়েই আলোচনায় ছিলো আওয়ামী লীগ। দলীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতার সাথে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের রুদ্ধদার বৈঠকও হয়। খবরে বলা হয়: অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় এক নেতার উপস্থিতে দ্বিধা-বিভক্ত নেতৃবৃন্দের মধ্যকার রুদ্ধদার বৈঠকে (৫ জুলাই বুধবার) এই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ‘রুদ্ধদার বৈঠক’ সম্পর্কে দলের কোন নেতাই মুখ খুলেননি। সভা সূত্রে জানা যায়, ‘রুদ্ধদার বৈঠক’ আর বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মিডিয়াকে কোন কিছু না জানানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তারা বলেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাদিক নেতা এই প্রতিনিধিকে বলেন, সবায় কেন্দ্রীয় নেতা ড. গোলাপের উপস্থিতিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দলের বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করেছেন এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী নির্বাচনের আগে সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যকার ঐক্য ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচরে দলের জন্য কাজ করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র মতে, সভায় পাল্টাল্টি কথা ও বক্তব্য আসলেও ঐক্যর স্বার্থে অতীতের সকল ভুল বুঝাবুঝি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ-এর বিষয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে বলে সূত্র জানায়। সূত্র মতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির জন্য কাউন্সিল দাবীদার নেতা-কর্মীরা ড. গোলাপের সাতে এক বৈঠকে মিলিত হন। জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে এই সভা হয় বলে সূত্র জানায়। সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া (হাজী এনাম), জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস আহমেদ, কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদীর বাপ্পা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ দলের সর্বশেষ পরিস্থিতি ড. গোলাপকে অবহিত করলে তিনি দলের মধ্যকার বহিস্কার-আবিষ্কারসহ অনেক বিষয়েই কেন্দ্র অবহিত নয় বলে জানান। ড. গোলাপ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং এই গঠনতন্ত্র মোতাবেকই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দল পরিচালিত হচ্ছে। তাই গঠনতন্ত্রের আলোকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করতে হবে। তিনি যেকোন মূল্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।

আগষ্ট:
সুমির আতœহত্যা: আগষ্ট মাসে কমিউনিটির আলোচিত ঘটনা ছিলো নিউইয়র্কে সবার পরিচিত মুখ, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা অসুস্থ মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী নাদিয়া আফরোজ সুমি (৩২)-এর আত্মহত্যা। সুমি ৪ আগস্ট শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাসায় (৭৩-১১, ৩১ এভিনিউ ইস্ট এলমহার্স্ট) আতœহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার আগে একমাত্র পুত্র শামীম রহমানকে বলেছিলেন ৯১১ কল করে পুলিশকে ডাকতে। মায়ের কথা অনুযায়ী শামীম রহমান পুলিশকে কল দিলে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ৭ আগষ্ট সোমবার সুমির জানাজা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্টিত এবং ৮ আগস্ট মঙ্গরবার তার মরদেহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিযার কবর স্থানে দাফন করা হয়। এদিকে নাদিয়া আফরোজ সুমি’র আতœহত্যার ঘটনায় কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে উঠছে নানা অভিযোগ। সুমির আত্মহত্রার পর ‘মাহফুজ-সুমি’র ৫ বছরের একমাত্র পুত্র ইবনে শামীম রহমান তার চাচার তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়।

বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার হেমায়েতের আতœহত্যা:
এই মাসের আলোচিত আরো একটি ঘটনার মধ্যে ছিলো বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার হেমায়েতের আতœহত্যা। খবরে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)’র সম্ভবনায় তরুণ অফিসার মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকার (৩২) পারিবারিক কলহ-অশান্তির জের হিসেবে তিনি ১৩ আগষ্ট রোববার দুপুরে নিজ ঘরে নিজের উপর গুলি চালিয়ে আতœহত্যা করেন। এতে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এনওয়াইপিডি-তে কর্মরত ৮ শতাধিক বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসারের মধ্যে এটিই প্রথম আতœহত্যার ঘটনা। মৃত্যুকালে হেমায়েত উদ্দীন সরকার স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র শিশু সন্তান সহ মা-বাবা, এক ভাই, দুই বোন সহ অনেক আতœীয়-স্বজন রেখে যান। তিনি নিউইয়র্কের জ্যামাইকার আলবেন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ। হেমায়েত উদ্দীন সরকার এন.ওয়াই.পি.ডি’র ট্রাফিক বিভাগের সদস্য হিসেবে প্রথমে ৫ বছর কাজ করেছেন। পরে অফিসার হিসেবে এনওয়াইপিডি-তে যোগদান করেন এবং ৫ বছর ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলছিলেন। হেমায়েত হোসেন সরকার এন.ওয়াই.পি.ডি’র ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে পাঁচ বছর আগে অফিসার হিসেবে পুলিশে যোগদেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এন.ওয়াই.পি.ডি’র অফিসার হিসেবে ব্রুকলীনের হাউজিং-২ শাখায় তিনি কাজ করতেন। হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা ১৪ আগষ্ট সোমবার বাদ মাগরিব জেএমসি-তে অনুষ্ঠিত হয়। তার নামাজে জানাজা উপলক্ষ্যে সিটির পুলিশ বিভাগ জেএমসি এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া সহ অফিসিয়ালি গার্ড অব অনার্ড প্রদান করে। মরহুমের পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। কবরটি বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ক্রয়কৃত এবং কবরটি বিনামূল্যে দান করা হয়।

সেপ্টেম্বর:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘে যোগদান কেন্দ্র করে বিএনপি-আ.লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী: প্রতিবছরের মতো ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক আগমনের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার বেলা ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালের পার্কিং লটে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী এবং মুখোমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার দিন ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। এদিন বিএনপি-আওয়ামী লেিগর নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি শ্লোগানের পাশাপাশি পানির বোতল আর জুতো ঢিলাঢেলী করেন।

অক্টোবর:
নিউইয়র্ক টাইমস’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশী তাহসীন: এই মাসে বিশ্বখ্যাত দ্যা নিউয়র্ক টাইস-এ বাংলাদেশী তাহসীন চৌধুরীকে নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ‘টু ইয়াং ট্র ভোট/ বাট আসকিং ফর ইওরস’ শিরোনামে তাকে নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট করে। নিউইয়র্ক টাইস-এর খবরে বলা হয়: নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত তাহসীন চৌধুরী এখন যুক্তরাষ্ট্রের মুখ ধারার রাজনীতির কিশোর তারকা হিসেবে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তাহসীন চৌধুরী ইস্ট এলহার্স্টর বাসিন্দা এবং নিউইয়র্ক সিটির অভিজাত পাবলিক স্কুল স্টাইভেসেন্ট স্কুলের ছাত্র। এর বাইরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমুলক কর্মকান্ডে ব্যাপৃত রেখেছেন নিজেকে। তার বয়স ১৭ বছর। তাহসীন চৌধুরী স্টাইভেসেন্ট স্কুলের স্টুডেন্ট গভর্নর এবং ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট স্টুডেন্ট এডভাইজারী কমিটির উপদেষ্টা। পড়ালেখার বাইরে সে ইতোমধ্যেই দুটি কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে ইভেন্ট ফটোগ্রাফী এবং কম্পিউটার প্রোগামিং ও ইঞ্জিনিয়ারি। তাহসীন চৌধুরী কলেজে আবেদনের সময় অন্য জায়গায় সুবিধা থাকার পরও তিনি তার বসতি ইস্ট এলমাস্ট এলাকা ছাড়তে চাননা। তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে চ্যালেঞ্জ ছুৃড়তে চান অত্র এলাকার বর্তমান সিনেটর হোজে প্যারেলটাকে। হোজে প্যারেলটা দীর্ঘদিন থেকে স্টেট সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রিপোর্টে বলা হয়: আগামী বছরের শরতেই স্টেট সিনেটর হোজে প্যারেলটাকে চ্যালেঞ্জ করতে চান তাহসীন। নিউইয়র্ক স্টেটে নির্বাচনের জন্য ১৮ বছর বয়স হতে হয়। এই হিসেবে আগামী প্রাইমারীর আগেই তাহসীন ১৮ বছর বয়সে উত্তীর্ণ হবেন।
তাহসীনের বাবা-মা’র জীবন হচ্ছে একটি ইমিগ্র্যান্ট পরিবারের বেঁচে থাকার সত্যিকার উদাহরণ। বাবা আফসার চৌধুরী কাজ করেন একটি ডেলীতে আর মা সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সার্কুলেশন বিভাগে কাজ করছেন। তাহসীন বলেন, মি. হোজে প্যারেলটা একজন স্বতন্ত্র ডেমোক্রেট হিসেবে তাদের কনফারেন্সে যোগদান করে ডোমোক্রটিক চরিত্রকে প্রশ্ববিদ্ধ করেছেন। এটা ডেমোক্রেটদের মধ্যে ভাঙ্গনের সূচনা করেছে। যাতে লাভবান হচ্ছে রিপালিকানরা। এজন্য নতুনদের নেতৃত্বে ডেমোক্রটিক পার্টিকে সংগঠিত করতে হবে।

নভেম্বর:
রিয়াজ তালুকদারের ডিপোর্টেশন স্থগিতাদেশ: নভেম্বর মাসে কমিউনিটির অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিলো বাংলাদেশী রিয়াজ তালুকদারের ডিপোর্টেশন স্থগিতাদেশ। খবরে বলা হয়: স্ত্রী-পুত্রকে যুক্তরাষ্ট্র রেখে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানের টিকট হাতে ফেডারেল প্লাজা থেকে ফিরে এলেন বহুল আলোচিত বাংলাদেশী রিয়াজ তালুকদার। ইমিগ্রেশন জজ-এর আদেশে তিনি নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় পেলেন। ফলে স্বস্তির পাশাপাশি আনন্দের বন্যা নেমে আসে রিয়াজ পরিবারে। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর স্ত্রী-পুত্রকে ফেলে রেখে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছিল বাংলাদেশী রিয়াজ তালুকদারকে। আদালতের নির্দেশে আরো ৬ মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন রিয়াজ তালুকদার। নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকার সাতফিন এলাকায় রিয়াজ তালুকদার দুই সন্তান আর ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে ৩৭ বছর ধরে বসবাস করছিলেন।
২০ নভেম্বর সোমবার সকালে ম্যানহাটানস্থ ফেডালে প্লাজায় কান্নায় ভেঙে পড়েন রিয়াজ তালুকদার, তার স্ত্রী আর দুই সন্তান। এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক আর আইনজীবীরা পরিবারটিকে বিচ্ছিন্ন না করার আকুল আবেদন তুলে ধরেন।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে এই দেশে আসেন তরুণ রিয়াজ তালুকদার। ১৯৯০ সালে দেরিতে আবেদনকারীদের জন্য গ্রীনকার্ড আবেদনের নিয়ম চালু হলে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের রীতি মেনে সেটাতে আবেদন করেন রিয়াজ। তবে, আইনজীবীর দেওয়া কাগজপত্রের গোঁজামিলে সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। ২০১০ সালে একবার ইমিগ্রেশন পুলিশ যখন তার বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে তখন তিনি প্রথমবার জানতে পারেন, যে তার দেশে ফেরত যেতে হবে। তবে, প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলের নিয়মানুযায়ী সন্তানদের লেখা পড়া ও দেশে আইন ভাঙার রেকর্ড না থাকা পরিবারগুলো আইনের মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়ার বিধান করেন, সেটার মাধ্যমে এত দিন ইমিগ্রেশন দপ্তরে হাজিরা দিয়েই কেটেছে। রিয়াজ তালুকাদরের বড় সন্তান রাফির বয়স এখন ১৭। যখন বয়স ২১ বছর হবে, তখন রাফি বাবার জন্য সহজেই গ্রীণ কার্ডের আবেদন করতে পারত। সেই ভরসায় ছিলেন রিয়াজ। সর্বশেষ ২০ নভেম্বর সোমবার ম্যানহাটানের ফেডারেল প্লাজায় গিয়ে রিয়াজ তালুকদার এ দেশে থাকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান। এর আগে ২০ নভেম্বর তাঁকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডাকা হয় ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস পুলিশ-আইস দপ্তর কার্যালয়ে। এখান থেকে তাকে দেশে ফেরার চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করে নোটিশ দেয়া হবে-এমনটাই ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হল, তাকে সময় দিয়েছে ইমিগ্রেশন আদালত। ৬ মাসের মধ্যে মোশন (আদালতে আরজি দাখিল) করতে পারবেন তিনি। তার আবেদন গ্রহণযোগ্য হলে ডিপের্টশনের খড়গ থেকে রেহাই পেতে পারেন। রিয়াজ তালুকদার বর্তমানে আইনী লড়াই চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশী বাঁধন হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস রাজ্যের উচিটা শহরে ২৫ নভেম্বর শনিবার রাতে বাংলাদেশী তরুণ মেধাবী ছাত্র এম হাসান রহমান বাঁধনকে কেবা বা কারা গুলি করে হত্যা করে। উচিটা পুলিশ ২৭ নভেম্বর সোমবার সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ খবর নিশ্চিত করে। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, উচিটা শহরের সেন্ট্রাল রক রোডের পাশে ৭৮০০ পেজন্ট লাইভ ওক স্ট্রিট অ্যাপার্টমেন্টের সামনে একটি গাড়িতে ২৬ বছরের এক যুবকের লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, সে পিৎজা হাট ডেলিভারির কাজ করতেন। এদিন রাতে পিৎজা ডেলিভারি দিয়ে সঠিক সময়ে পিৎজা সেন্টারে না পৌঁছাতে পিৎজা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করেন। ২৬ নভেম্বর রোববার বেলা এগারোটায় পুলিশ লাশ ৭৮০০ পেজন্ট লাইভ ওক স্ট্রিট অ্যাপার্টমেন্টের সামনে তার গাড়ির ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করার পর গাড়ির ট্যাংকে ঢুকিয়ে নিয়ে এ এলাকায় ফেলে আসে। পুলিশ নিশ্চিত করে গাড়িটি তাঁর (বাঁধন)। ময়নাতদন্ত শেষে বাঁধনের লাশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর চৌরাস্তা টেরি পাড়ায়। বাঁধন পরিবারের একমাত্র ছেলে। উচ্চশিক্ষার আশায় দীর্ঘ সাত বছর আগে তিনি (বাঁধন) বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বাটলার কমিউনিটি কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অ্যাসোসিয়েট শেষ করে আগামী সেশনে ক্যানসাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ করেছিলেন। ডিসেম্বরে তাঁর কেইউতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।

ডিসেম্বর:
বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহ আটক: বছরের অন্যতম শেষ অলোচিত ঘটনা ছিলো নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহ (২৭) আটক। গত ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে আরো তিনজন পথচারী সামান্য আহত হন। ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণের চেষ্টা’র অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। আকায়েদ উল্লাহ সিটির ব্রুকলীনের ফ্ল্যাটল্যান্ডস এলাকায় বসবাস থাকতো। তার দেশের বাড়ী চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ। আকায়েদ উল্লাহ নিউইয়র্কে একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে কাজ করতো এবং সেখানেই বোমাটি তৈরি করা হয় বলে জানা যায়।

ব্ল্যাকমেইল করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে বাংলাদেশী গ্রেফতার:
এছাড়াও বছরের শেষ মাসে আলোচিত ঘটনা ছিলো ‘ব্ল্যাকমেইল করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে বাংলাদেশী গ্রেফতার’ হওয়ার ঘটনা। খবরটি কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশী কমিউনিটির এক শ্রেনীর ‘সামাজিক দূর্বৃত্ত’ চারিদিকে নতুন নতুন ফাঁদ ফেলে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে নারীদেরকে নানা কৌশলে বা ফাঁদে ফেলে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলো তাদের জীবনে ঝড় তুলছে। ফলে ভাঙছে সংসার, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি। এদিকে ব্ল্যাকমেইল করে অসংখ্য নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এক বাংলাদেশী। নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের বাসিন্দা বাংলাদেশী লুকন মিয়া নামের এ ব্যক্তি কমিউনিটিতে বিভিন্ন নামে পরিচিত। বর্তমানে তাকে আলী মিয়া নামেও চিনে থাকেন অনেকে।
জানা গেছে, লুকন মিয়া ওরফে আলী মিয়া ব্রুকলীনের নস্টার্ন এলাকায় বসবাস করছে। তার বাড়ি বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসংখ্য নারীকে ফুসলিয়ে ফাঁদে ফেলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সর্বশান্ত করেছে। পরিচিত কিংবা অপরিচিত বাংলাদেশী অভিবাসী নারীদের ‘আপা সম্বোধন’ করার পর নিজের ফ্ল্যাট কিংবা হোটেলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর ব্লাকমেইলের মাধ্যমে মোবাইলে ভিডিও ধারণের পর যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয় ভুক্তভোগী অসংখ্য নারীদের। স্বামী-সংসার ও সমাজের কাছে হেয়-প্রতিপন্নের ভয়ে কথিত ‘আলী ওরপে লুকন মিয়ার’ জালে আটকে যাওয়া দু’জন নারী এবার প্রকাশ্য মুখ খুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেস্টুরেন্টে ডেলিভারীম্যান হিসেবে কাজ করা ‘নারী লোভী’ এমন ব্যক্তির খপ্পরে পড়েছেন যারা, তাদের বেশীরভাগই নিরীহ। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) ব্রুকলীনের একটি বাসা থেকে লুকন মিয়াকে আটক করা হয়। ঘটনার দিন বাংলাদেশী আরেক নারী কৌশলেই আলী মিয়াকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। এসময়ে হাজির করা হয় দীর্ঘদিন ধরে তার হাতে লালসার শিকার আরো দু’জন নারীকে। সবার উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের পর ‘আলী ওরফে লুকন মিয়’কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন