Jan 17, 2018

নিউইয়র্ক : গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেন শেখ হাসিনা। ছবি-ফাইল ফটো।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : প্রবাসে রাজনীতি করার সুফল আওয়ামী পরিবারের লোকজন পেলেও বিএনপির ক্ষেত্রে তার উল্টো। এ কারণে মার্কিন মুল্লুকে বিএনপির নেতা-কর্মীর অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে উল্লাস আর আগ্রহ বেড়েছে আওয়ামী পরিবারে। বিশেষ করে গত দুই দশকের গতি-প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকার আগ্রহ আওয়ামী পরিবারের সর্বস্তরেই দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক কারণে শেখ হাসিনা বেশ ক’জন প্রবাসীকে ব্যাংক, বীমা, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ব্যবসা, ইত্যাদি সুযোগ করে দিয়েছেন দলীয় কর্মীদের। প্রশাসনেও ঠাঁই পেয়েছেন অনেকেই। ঢাকায় অবস্থানকালে প্রবাসের প্রায় প্রত্যেকেই গণভবনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন। এলাকায় অবস্থানকালেও সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অতিথির আসন লাভে সক্ষম হচ্ছেন আওয়ামী পরিবারের প্রবাসী নেতারা। প্রবাসের কর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এই গভীর মমত্ববোধের বিস্তৃতি ঘটেছে ১/১১ পরবর্তী সময়ে নেতা-কর্মীদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসার পরিপ্রেক্ষিতে। সেই চরম সংকটে প্রবাসীরাই তাঁকে আগলে রেখেছিলেন, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লন্ডন হয়ে ঢাকায় ফেরার সময় শতাধিক নেতা তাঁর সাথী হয়েছিলেন, তাঁকে বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পাবার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক জনমত তৈরীতে প্রবাসীদের অবিস্মরণীয় ভ’মিকার কথা সুযোগ পেলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবৃত করেন। সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশনেও প্রবাসী নেতাদের বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন শেখ হাসিনা। পদ্মাসেতু প্রকল্পের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে শতশত প্রবাসী নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ঐ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, জামাত-শিবিরের নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাংগঠনিক প্রতিরোধ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত জোরদারে ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের যথাযথ ভ’মিকার কথাও স্বীকৃত হচ্ছে হাই কমান্ডে। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সফর শেষে ভার্জিনিয়ায় পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারের সাথে কটা দিন কাটানোর সময়েও শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের সাথে একান্তে নানা ইস্যুতে মতবিনিময় করেন ।
মার্কিন মুল্লুকে দলীয় কর্মকান্ড চাঙ্গা রাখতে অর্থ-মেধা এবং সময় প্রদানে সবচেয়ে বেশী তৎপর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, অন্যতম সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরনবী কমান্ডার (সম্প্রতি তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে গেছেন), ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সেক্রেটারি আশরাফুজ্জামান, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত আওয়ামী লীগ নেতা ড. মনসুর খন্দকার এবং মাহমুদুন্নবী বাকি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নূরল আমিন বাবু, বস্টনের যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী এবং ইকবাল ইউসুফ অন্যতম।
ফখরুদ্দিন-মঈনের আমলে বেগম খালেদা জিয়ার সংকটেও মার্কিন প্রবাসীরা সোচ্চার ছিলেন। বিশ্বব্যাপী জাগরণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তদানিন্তন সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ স¤্রাট এবং অন্যতম সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদের নেতৃত্বে টেলি-কনফারেন্স, জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের সার্বিক সমন্বয়ে তদানিন্তন যুগ্ম সম্পাদক কাজী আজমের নেতৃত্বে ২০০৭ সালের মে মাসে হিলারি ক্লিন্টনসহ ১৫ ইউএস সিনেটর চিঠি দেন ঐ তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানকে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্যে এবং সিনেটরদের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা করা হয়, তদানিন্তন যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল কর্তৃক ‘তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ’ গঠন করে মার্কিন কংগ্রেসসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায় দেন-দরবার ইত্যাদি কর্মকান্ডের প্রশংসাসূচক কোন স্বীকৃতি আজ অবধি বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমানের কাছে থেকে প্রকাশ্যে আসেনি। জাসাস নেতা গোলাম ফারুক শাহীন, স্টেট বিএনপি নেতা মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, পারভেজ সাজ্জাদ, ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত বিএনপির সহ-সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান ও মোস্তফা কামাল পাশা বাবুলও ছিলেন রাজপথে। কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক সফরকালেও বেগম জিয়া উপরোক্ত নেতাদের কাছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির ডজনখানেক নেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা সফর করেছেন। তারা নানাভাবে চেষ্টা করেন বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাতের। গত ঈদে লন্ডনে গিয়েও সাক্ষাৎ পাননি বেগম জিয়া অথবা তারেক রহমানের।
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের নেতা এম এ বাতিন, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, ছাত্রদলের নেতা মাজহারুল ইসলাম জনি, বিএনপির গিয়াস আহমেদ, অধ্যাপক দেলোয়ার, জিল্লুর রহমান, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, আকতার হোসেন বাদল, জসীম ভ’ইয়া, গোলাম ফারুক শাহীন, রাফেল তালুকদার, বাবরউদ্দিন, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দিরা এখনও মাঠে রয়েছেন পুরোদমে। ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড হতাশায় ভোগলেও সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় হননি তারা।
প্রবাসে বিএনপি পরিবারের অভিযোগ, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল ক্ষমতা গ্রহনের পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি পরিবারের একজনও কোন সুযোগ পাননি। আর এসব অভিযোগ, অভিমান এখন জোরদারভাবে উচ্চারিত হচ্ছে আওয়ামী পরিবারের ত্যাগী ও পরীক্ষিত লোকজন নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায়। এজন্যে বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীর অনেকেই শেখ হাসিনার প্রশংসা করতেও কসুর করেন না। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, বিএনপির চলমান দুর্দিনেও ঐ নেতা-কর্মীরা মাঝে-মধ্যেই মান-অভিমান ভুলে নানা কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। যদিও প্রায় ৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর এখন পর্যন্ত কোন কমিটি হয়নি। অনেকে লন্ডনে গিয়ে তদ্বির করেন। কমিটি আসেনি। সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং এক পর্যায়ে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন। সে আশ্বাসেরও বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত ঘটেনি।
এদিকে, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনার দুর্বলতার সুযোগের অপব্যবহার করছেন অনেকে-এমন অভিযোগ এখন গোটা আওয়ামী পরিবারেই। বিশেষ করে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অব্যবস্থাপনা ও অর্থ তছরুপের অভিপায়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের অনেকে হতাশ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের অনিয়মে লিপ্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে অন্যদের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ার আশংকা ব্যক্ত করাও হচ্ছে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী এবং যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী কয়েক বছর ধরেই ( সেপ্টেম্বরে তারা নিউইয়র্কে আসেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গির মধ্যে দুয়েকজনকে বিশেষ আতিথেয়তা প্রদানের জন্যে এবং অক্টোবরের শুরুতেই ফিরে যান) ঢাকায় অবস্থান করছেন। গণভবনের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা তদ্বির বাণিজ্যের সিঁড়ি বেয়ে এখন পাওয়ার প্ল্যান্টের দেন-দরবারে নেমেছেন বলে প্রবাসের নেতা-কর্মীরা বলাবলি করছেন। এক্ষেত্রেও গণভবনের কোন কোন কর্তাব্যক্তির নাম ভাঙানো হচ্ছে। অর্থাৎ সভাপতি শেখ হাসিনার দুর্বলতাকে পুঁজি করে মাঝেমধ্যে গণভবনে গিয়ে ফটো সেশনের পর সহজ-সরল লোকজনকে ঠকানোর পথে নেমেছে কেউ কেউ। যদিও এদের অপকর্মের দায় বর্তাবে সভাপতি শেখ হাসিনা অথবা প্রধানমন্ত্রীর নিকটজনেও ওপরেই।

 

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন