Jan 17, 2018

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মাইনুদ্দিন মাহির উপর হামলার সংবাদে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে আটলান্টিকের এপাড় নিউইয়র্কে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে। ক্ষুব্ধ সন্দ্বীপবাসী এহেন হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেছেন। ‘দলীয় আধিপত্য বিস্তারের মতলবে গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের ৬ কর্মী খুন হওয়ার পরও সন্দ্বীপের পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিরবতা পালন করছে’-এমন অভিযোগও করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রবাসীরা। সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন এবং সন্দ্বীপ সোসাইটির সর্বস্তরের সদস্যরা কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে এহেন সন্ত্রাসে লিপ্তদের দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে।
জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সময় বিকেল ৫টায় সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডস্থ’ বেড়ীরপাড় এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবাসীরা আরো জানান, ‘ওইসময় কমিশনার মাইনুদ্দিন মাহি একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ কাজের তদারকি করছিলেন। এসময় শাহাদাত নামক এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাইনুদ্দিনের সাথে থাকা মঞ্জয়কে হঠাৎ গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। ভীত-সন্ত্রস্ত মঞ্জয় দৌড়ে পালিয়ে গেলে তারা মাইনুদ্দিনের উপর চড়াও হয়। ধ্বস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ে মাইনুদ্দিন বেড়ীবাঁধের খাদে পড়ে গিয়ে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও তাকে ধাওয়া করে ৭/৮ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে সুমন নামক অপর ব্যক্তির নেতৃত্বে সশস্ত্র কিছু যুবক তার বাড়ির সামনে গিয়ে গুলি ছুঁড়েন বলে অভিযোগ করেন মাইনুদ্দিন। গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় স্থনীয় রিক্সাচালক মনির প্রকাশ মনি’র স্ত্রীও আহত হন বলে জানা যায়। মাইনুদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশী সহায়তা চাইলে পুলিশ এসে উল্টো গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় মাইনুদ্দিনকেই দোষারোপ করতে থাকে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর প্রবাসের নেতাদের জানান, ‘হামলার ঘটনা সত্য তবে কে বা কারা গুলি ছুঁড়েছে তা তদন্তের আগে বলা যাবেনা।’
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ২ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মহসিন ও ১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার আলাউদ্দিনের উপরও এরূপ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা সন্দ্বীপের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার অনুগত বলে অভিযোগ করেন প্রবাসীরা। উল্লেখ্য, সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই এমপির বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের বৃহত্তর অংশ বর্তমানে কোনঠাসা। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী বর্তমানে সন্দ্বীপ ছাড়া হয়ে মানতের জীবন যাপন করছেন। কমিশনার মাইনুদ্দিনের উপর হামলার বিষয়ে মেয়র জাফর উল্যা টিটুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সন্দ্বীপের সামাজিক অবস্থার যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এ ঘটনায় তাকে আরও শোচনীয় করেছে।’ তিনি বলেন, এমপি মিতার অনুগত বাহিনীর দৌরাত্মে কমিশনারেরা বিচার-আচার পর্যন্ত করতে পারছেন না। এমনকি কোন সামাজিক প্রোগ্রামে পর্যন্ত তারা অংশ নিচ্ছেন না। এমতাবস্থায় বাড়ির সামনে এসে হামলার বিষয়টি নিন্দনীয়।’
নিউইয়র্ক থেকে ফোনে চেষ্টা করা হয় সংসদ সদস্য মিতার বক্তব্য জানার জন্যে। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি।

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন