Feb 24, 2018

তিনি শরিতপুর-১ আসনের একজন সম্মানিত মেম্বার অব পার্লামেন্ট- তিনি জনগণের প্রতিনিধি- অথচ তার চেয়েও হাজার গুণের সম্মানের অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধারা- অথচ জনগণের প্রতিনিধি হয়ে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর সন্তানদের যে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কটাক্ষ করেছেন- সে ভাষাটা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়- এমন অরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করেছেন কোনো মিডিয়াও পারছেনা তার এই ভাষাটি উল্লেখ করতে- সবাই বিব্রতবোধ করছেন।

আজ যদি এই দুঃখিনী বাংলা স্বাধীন না হতো তিনি কি সম্মানিত এমপি হতে পারতেন? “যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে/ লক্ষ মুক্তি সেনা/দে না তোরা দে না/সে মাটি আমার/অঙ্গে মাখিয়ে দে না।।”-অথচ এই শহীদের রক্তমাখা বাংলার পবিত্র মাটির উপর দিয়ে তিনি শুল্কমুক্তি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন- অথচ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গাড়ি কিনতে হলে শুল্ক দিতে হয়- যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের গাড়ির একটি চাকা কেনারও ক্ষমতা নাই। আমাদরে কাছে যুদ্ধে পরাজিত ও আত্মসমর্পণ করা রাষ্ট্র পাকিস্তানের একজন এমপিও শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন না।

‘বঙ্গবন্ধু দি গ্রেট’-এর কন্যা মুক্তিযোদ্ধাদের একমাত্র অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন- “মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবেনা”- অথচ এই এমপি বঙ্গবন্ধুর কন্যার ঘোষাণাকে তোয়াক্কা করলেন না- তবে তার দুঃসাহসের প্রশংসা করতে হয় এবং সাথে সাথে আক্ষেপও করতে বলতে হয়-“রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি!”

এই ৪৬ বছরে দেশ আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে- আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ আপামর বাঙালিকে চিরঋণী করে রেখেছে- এখন আমাদের এই ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। দেশ এবং মুক্তিযোদ্ধারাতো আপনাদের কাছে কিছুই চায় না- চায় শুধু একটু ভালোবাসা এবং এখন মুক্তিযোদ্ধাদের একটাই চিন্তা- “ও মা, অনেক তোমার খেয়েছি গো, অনেক নিয়েছি মা-/ তবু জানি নে যে কী বা তোমায় দিয়েছি মা”

শরিতপুর-১ আসনের সম্মানিত মেম্বার অব পার্লামেন্ট-এর জেনে রাখা উচিত-

“দেশের জন্যে যুদ্ধ করার সেই অবিশ্বাস্য গৌরব সবার জন্যে নয়, সৃষ্টিকর্তা অনেক য্ত্ন করে সৌভাগ্যবান কিছু মানুষকে তার জন্যে বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী কিংবা সাহিত্যিক হবে, ফিল্ড মেডেল বিজয়ী গণিতবিদ হবে, অস্কার বিজয়ী চিত্রপরিচালক হবে, অলিম্পিকে স্বর্ণবিজয়ী দৌড়বিদ হবে, ওয়ার্ল্ডকাপ বিজয়ী ক্রিকেট টিম হবে, এমনকি মহাকাশ বিজয়ী মহাকাশচারী হবে কিন্তু আর কখনওই মুক্তিযোদ্ধা হবে না! এই সম্মানটুকু সৃষ্টিকর্তা যাঁদের জন্যে আলাদা করে রেখেছেন শুধু তাঁরাই তার প্রাপ্য, অন্যেরা নয়।”(-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।)

সবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলবো- “সইবো না মোরা, সইবো না আর/জীবনের অপমান।।/জীবন জয়ের গৌরবে,/নতুন দিনের সৌরভে/মুক্ত স্বাধীন জীবন গড়া/মোদের মনস্কাম।।”

 


লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা; ২ নং সেক্টর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন