Feb 24, 2018

ডেপুটি কন্সাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গৃহকর্মী নির্যাতন এবং ঠকানোর মামলা থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি পেলেন। কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট জজ ব্যারি ক্রন (Queens Supreme Court Justice Barry Kron) ২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর ডেপুটি কম্যুনিকেশন্স ডাইরেক্টর ইলকিমুলসিয়া লিভিংস্টন জানান, গৃহকর্মী মো. আমিনকে মামলার বিবাদি মো. শাহেদুল ইসলাম ন্যূনতম মজুরি প্রদান করতে ব্যর্থতার দোষ স্বীকার করেছেন এবং আজই তিনি মাননীয় জজ ব্যারি ক্রনের সামনে ১০ হাজার ডলার প্রদান করেন। এরপরই তাকে শর্তসাপেক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
গত বছরের ১২ জুন বাংলাদেশের এই কূটনীতিককে প্রচলিত সকল রীতি উপেক্ষা করে ক্ইুন্সের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে পারিশ্রমিক না দেয়াসহ ৩৩ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন কুইন্স কাউন্টি গ্র্যান্ড জুরিরা। কিন্তু মাননীয় আদালত ন্যায্য পারিশ্রমিক ছাড়া অন্য কোনটিরই সত্যতা খুঁজে না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। শাহেদুলের (৪৫) আইনজীবী ডেনিয়েল আর্শেকের উদ্ধৃতি দিয়ে এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে এ তথ্য জানান কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান।
মাননীয় জজ ব্যারি ক্রন শাহেদুল ইসলামকে বেকসুর খালাস প্রদানের সময় তার আটককৃত পাসপোর্টও অবিলম্বে ফেরৎ প্রদানের নির্দেশ দেন। আর এর মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ৭ মাসের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটলো। কারণ, এই গ্রেফতারের সংবাদটি সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস-সহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সকল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়।
গ্রীণকার্ডপ্রাপ্তির প্লট তৈরীর অভিপ্রায়ে ক্লিন ইমেজের এই কূটনীতিককে ফাঁসানোর প্রক্রিয়া অবলম্বন করার হয়েছে উল্লেখ করে শাহেদুল গ্রেফতারের পরই বেশ কটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশী গণমাধ্যমগুলো। শাহেদুল তার গৃহকর্মী মো. রুহুল আমিনকে বেতন-ভাতা দিয়েছেন বলে তথ্য-প্রমাণ এবং সেই অর্থে বাংলাদেশে সহায়-সম্পদের ধারাবিবরণীও নিউইয়র্ক হতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানায় ছাপা হয়। একইসাথে শাহেদুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যে সত্য নয়, সে বক্তব্য নিয়ে প্রবাসীরাও কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সামনে মানববন্ধন করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় সে সব তথ্য ও প্রবাসীদের অভিমতই সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হলো।
মামলা থেকে খালাসের পর মৃদুভাষি ক’টনীতিক মো. শাহেদুল ইসলাম প্রবাসীদের অকুন্ঠ সমর্থনের জন্যে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আমার সেই চরম দু:সময়ে মিডিয়ার অনেকেই নির্ভিক চিত্তে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে আমি সাহস পেয়েছি। সেই সাহসের পথ বেয়েই আজকের এ রায় পেলাম।’ উল্লেখ্য, শাহেদুলকে টেকনিক্যাল কারণে কিছু দিন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে বদলি করা হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্রহে পুনরায় তাকে একই পদে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। আরো উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জাতিসংঘের অপর কূটনীতিক হামিদুর রশীদকেও এর আগে ফেডারেল কোর্ট বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।

1 Comment

একজন বাংগালী মুক্তিযোদ্ধা January 29, 2018 at 2:48 pm

কূটনীতিকদের কি সত্যিই প্রয়োজন দেশ থেকে গৃহকর্মী আনা? তাদের ঘরে গৃহকর্মী থাকে এ কথা শুনে ভিন দেশীরা সব সময়ই হাসে এবং এইবার এই কেলেংকারী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর আরও বেশী ব্যংগ করছে আমাদের কূটনীতিকদেরকে তথা আমাদের জাতীকে। দয়া করে এই ধরনের কেলেংকারী বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন।

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন